স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৫০) চূড়ান্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার তাড়াহুড়া করছে বলে অভিযোগ করেছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে কার স্বার্থে ও কেন এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার তোড়জোড়, সে প্রশ্নও তুলেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করা হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জ্বালানি রূপান্তরকে সামনে রেখে ওই মহাপরিকল্পনার খসড়া ৭ জানুয়ারি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়।
খসড়ার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ওইদিন জানিয়েছিল, ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই খাতে আগামী ২৫ বছরে ১৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে।
এ খসড়া মহাপরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতেই মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সিপিডি। এসময় সিপিডির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে গবেষণা ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় এ মহাপরিকল্পনার আলোচনা হওয়ার কথা। তবে সেটি আমরা এক্ষেত্রে দেখিনি।’
তিনি বলেন, চলমান সংকট সমাধানের বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় নেওয়ার কথা, কিন্তু এ খসড়া প্রণয়নে তার খুবই মৃয়মান উপস্থিতি বা বলতে গেলে সেগুলো আসলে এক অর্থে অনুপস্থিত। প্রশ্ন হলো অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র এক মাস সময়কালের আগে যখন তারা নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, কেন তাড়াহুড়া করে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ, কেন এই তোড়জোড়? এটা কি কাউকে তুষ্ট করার জন্য? কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বশর্তের অংশ হিসেবে কি এ রকম কিছু করা হচ্ছে?’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ধরনের একটা কাজ গোপনে শেষ করা আগের সরকারের আচরণের মতোই।’
পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি টিমের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে এত দীর্ঘমেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের নীতিনির্ধারণে তা সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
আরও বলা হয়, জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা কতটা জোরালো হবে, সে বিষয়ে খসড়া পরিকল্পনা স্পষ্ট ধারণা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে কমানোর বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই, যা বাংলাদেশের জলবায়ু দায়বদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি নির্ভরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং আর্থিক ঝুঁকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা কেবল উৎপাদন ও সরবরাহের হিসাব নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জলবায়ু অভিযোজন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এই পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
সরকার প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে সিপিডি।

প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৫০) চূড়ান্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার তাড়াহুড়া করছে বলে অভিযোগ করেছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে কার স্বার্থে ও কেন এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার তোড়জোড়, সে প্রশ্নও তুলেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করা হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জ্বালানি রূপান্তরকে সামনে রেখে ওই মহাপরিকল্পনার খসড়া ৭ জানুয়ারি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়।
খসড়ার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ওইদিন জানিয়েছিল, ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই খাতে আগামী ২৫ বছরে ১৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে।
এ খসড়া মহাপরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতেই মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সিপিডি। এসময় সিপিডির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে গবেষণা ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় এ মহাপরিকল্পনার আলোচনা হওয়ার কথা। তবে সেটি আমরা এক্ষেত্রে দেখিনি।’
তিনি বলেন, চলমান সংকট সমাধানের বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় নেওয়ার কথা, কিন্তু এ খসড়া প্রণয়নে তার খুবই মৃয়মান উপস্থিতি বা বলতে গেলে সেগুলো আসলে এক অর্থে অনুপস্থিত। প্রশ্ন হলো অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র এক মাস সময়কালের আগে যখন তারা নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন, কেন তাড়াহুড়া করে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ, কেন এই তোড়জোড়? এটা কি কাউকে তুষ্ট করার জন্য? কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বশর্তের অংশ হিসেবে কি এ রকম কিছু করা হচ্ছে?’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ধরনের একটা কাজ গোপনে শেষ করা আগের সরকারের আচরণের মতোই।’
পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি টিমের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে এত দীর্ঘমেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের নীতিনির্ধারণে তা সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
আরও বলা হয়, জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা কতটা জোরালো হবে, সে বিষয়ে খসড়া পরিকল্পনা স্পষ্ট ধারণা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে কমানোর বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই, যা বাংলাদেশের জলবায়ু দায়বদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি নির্ভরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং আর্থিক ঝুঁকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা কেবল উৎপাদন ও সরবরাহের হিসাব নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জলবায়ু অভিযোজন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এই পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বচ্ছতা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
সরকার প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে সিপিডি।
.png)

ফরিদপুরের খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। কিন্তু এই মরিচই ২৪০-২৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন চাষি। সেই হিসাবে শুধু আড়তদার ও মধ্যসত্ত্বভোগীর দুই হাত ঘুরতেই কেজিতে বাড়ছে অন্তত ৫৫ টাকা, মণে দুই-আড়াই হাজার টাকার বেশি।
৪ মিনিট আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনার সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। এ সময় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
৯ মিনিট আগে
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় ঘটনায় এনসিপি, স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিএম সরফরাজের সই করা আদেশে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
২১ মিনিট আগে
হবিগঞ্জ শহরে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে একই স্থানে আজ বুধবার বিকেল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি।
৩৬ মিনিট আগে