স্ট্রিম ডেস্ক

তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরেন। ফেরার মাত্র ৭ সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
জানুয়ারির শুরুতে টাইম ম্যাগাজিন তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নেয়। সেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং সমাজের বিভাজন দূর করার পরিকল্পনার কথা বলেন।
তার প্রথম অগ্রাধিকার কী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আইনের শাসন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা। আমরা যে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নীতি নিই না কেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’
বাংলাদেশের নতুন নেতার সঙ্গে টাইমের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো—
২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের সময় প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হন। এছাড়া গত ১৫ বছরে তাঁর দমনমূলক শাসনে প্রায় ৩৫০০ মানুষ বিচারবহির্ভূতভাবে গুম হন। এসব ক্ষত এখনো তাজা। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনী, আদালত, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা ফেরানো তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা হয়েছিল। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে ফিরে এসে তারেক রহমান ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন এবং প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করার কথা বলেছেন। শান্তি বজায় রাখতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনব না বরং আমরা যদি এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সবাইকে একসঙ্গে রাখতে পারি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তাহলে ভালো কিছু পাওয়া যেতে পারে।’
শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিগুলোর একটি ছিল। ২০০৬ সালে যেখানে জিডিপি ছিল ৭১ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈষম্য ও তরুণদের বেকারত্বের কারণে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। দলটিকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হাসিনার পতনের পরও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল টাকার কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে, অথচ যুব বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
৪ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যে বসবাস করছে। বিএনপির একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে নারী ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়া। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তারেক রহমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সুযোগ বাড়াতে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে চান। ব্যাংকিং খাত উন্মুক্ত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করার কথাও বলেন। এছাড়া বিদেশে কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দিয়ে ভালো বেতনের কাজের সুযোগ তৈরি করতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা তাদের ভাষা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারি।’
রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে ভারতের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে। শেখ হাসিনার পতনের পর নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে, কারণ তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
সম্পর্ক কতটা তলানিতে ঠেকেছে, তার একটি উদাহরণ—জানুয়ারিতে বাংলাদেশি তারকা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল চুক্তি হঠাৎ বাতিল করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে ভারত বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে তারেক রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ বেশ কিছু ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিএনপি ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে সই করে ন্যায্য হিস্যা দাবি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া অনেক চুক্তিতে “অসমতা” রয়েছে, যা সংশোধন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা প্রতিবেশী। তবে সবার আগে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, তারপর সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছে। সেই সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শুরুতে ট্রাম্প বাংলাদেশে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে এবং চলতি সপ্তাহে আবার কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হয়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের আরও পণ্যের জন্য বাজার খুলে দেয়। কিছু পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধাও পেয়েছে।
এটি অগ্রগতি হলেও, তারেক রহমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আরও শুল্ক ছাড় আদায়ের পরিকল্পনা করছেন।
বিএনপির বাইরে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে দেশের প্রধান ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ থাকা দলটি এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকলেও তারা এবারে ভাষা কিছুটা নরম করেছে এবং নিজেদের ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের কিছু নারীবিদ্বেষী মন্তব্য—যেমন বৈবাহিক ধর্ষণের অস্তিত্ব অস্বীকার—মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বিগ্ন করেছে।
বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ইসলামপন্থিদের প্রভাব সীমিত থাকবে। তবে তারা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকবে। তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু বিএনপির দায়িত্ব নয়, দেশের সব গণতান্ত্রিক দলের দায়িত্ব। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে না যাই।’
শেখ হাসিনার পতনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল ছাত্রদের আন্দোলন থেকে। চাকরিতে কোটা ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরুদ্ধে তাঁরা রাস্তায় নামে। অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্রদের বড় ভূমিকা ছিল। তবে ছাত্রনেতাদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় অনেক নারী ও সংখ্যালঘু সমর্থক দূরে সরে যায়।
গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের ঐক্যে ফাঁটল ধরে। ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর নির্বাচনী আধিপত্যে অনেক তরুণ হতাশ। বিশেষ করে, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা অগ্রভাগে থাকলেও সংস্কার প্রক্রিয়ায় তারা উপেক্ষিত হয়েছেন।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়া তাসনিম জারা বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের আশা আছে। তবে তা একদিনে আসবে না। পেশাদার সততা নিয়ে নাগরিকদের রাজনীতিতে আসতে হবে, চাপের মুখেও নীতিতে অটল থাকতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের খুব বড় দায়িত্ব রয়েছে।’

তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরেন। ফেরার মাত্র ৭ সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
জানুয়ারির শুরুতে টাইম ম্যাগাজিন তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার নেয়। সেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং সমাজের বিভাজন দূর করার পরিকল্পনার কথা বলেন।
তার প্রথম অগ্রাধিকার কী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আইনের শাসন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা। আমরা যে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নীতি নিই না কেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’
বাংলাদেশের নতুন নেতার সঙ্গে টাইমের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো—
২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের সময় প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হন। এছাড়া গত ১৫ বছরে তাঁর দমনমূলক শাসনে প্রায় ৩৫০০ মানুষ বিচারবহির্ভূতভাবে গুম হন। এসব ক্ষত এখনো তাজা। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনী, আদালত, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা ফেরানো তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা হয়েছিল। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে ফিরে এসে তারেক রহমান ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন এবং প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করার কথা বলেছেন। শান্তি বজায় রাখতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনব না বরং আমরা যদি এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সবাইকে একসঙ্গে রাখতে পারি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তাহলে ভালো কিছু পাওয়া যেতে পারে।’
শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিগুলোর একটি ছিল। ২০০৬ সালে যেখানে জিডিপি ছিল ৭১ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈষম্য ও তরুণদের বেকারত্বের কারণে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। দলটিকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হাসিনার পতনের পরও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল টাকার কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে, অথচ যুব বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
৪ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যে বসবাস করছে। বিএনপির একটি প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে নারী ও বেকারদের মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়া। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তারেক রহমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সুযোগ বাড়াতে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে চান। ব্যাংকিং খাত উন্মুক্ত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করার কথাও বলেন। এছাড়া বিদেশে কর্মরত প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দিয়ে ভালো বেতনের কাজের সুযোগ তৈরি করতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা তাদের ভাষা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারি।’
রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে ভারতের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে। শেখ হাসিনার পতনের পর নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে, কারণ তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
সম্পর্ক কতটা তলানিতে ঠেকেছে, তার একটি উদাহরণ—জানুয়ারিতে বাংলাদেশি তারকা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল চুক্তি হঠাৎ বাতিল করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে ভারত বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে তারেক রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ বেশ কিছু ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিএনপি ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে সই করে ন্যায্য হিস্যা দাবি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া অনেক চুক্তিতে “অসমতা” রয়েছে, যা সংশোধন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা প্রতিবেশী। তবে সবার আগে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, তারপর সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেছে। সেই সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শুরুতে ট্রাম্প বাংলাদেশে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে এবং চলতি সপ্তাহে আবার কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হয়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের আরও পণ্যের জন্য বাজার খুলে দেয়। কিছু পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধাও পেয়েছে।
এটি অগ্রগতি হলেও, তারেক রহমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আরও শুল্ক ছাড় আদায়ের পরিকল্পনা করছেন।
বিএনপির বাইরে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে দেশের প্রধান ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ থাকা দলটি এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকলেও তারা এবারে ভাষা কিছুটা নরম করেছে এবং নিজেদের ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের কিছু নারীবিদ্বেষী মন্তব্য—যেমন বৈবাহিক ধর্ষণের অস্তিত্ব অস্বীকার—মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বিগ্ন করেছে।
বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ইসলামপন্থিদের প্রভাব সীমিত থাকবে। তবে তারা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকবে। তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু বিএনপির দায়িত্ব নয়, দেশের সব গণতান্ত্রিক দলের দায়িত্ব। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে না যাই।’
শেখ হাসিনার পতনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল ছাত্রদের আন্দোলন থেকে। চাকরিতে কোটা ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরুদ্ধে তাঁরা রাস্তায় নামে। অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্রদের বড় ভূমিকা ছিল। তবে ছাত্রনেতাদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় অনেক নারী ও সংখ্যালঘু সমর্থক দূরে সরে যায়।
গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের ঐক্যে ফাঁটল ধরে। ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর নির্বাচনী আধিপত্যে অনেক তরুণ হতাশ। বিশেষ করে, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা অগ্রভাগে থাকলেও সংস্কার প্রক্রিয়ায় তারা উপেক্ষিত হয়েছেন।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়া তাসনিম জারা বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের আশা আছে। তবে তা একদিনে আসবে না। পেশাদার সততা নিয়ে নাগরিকদের রাজনীতিতে আসতে হবে, চাপের মুখেও নীতিতে অটল থাকতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের খুব বড় দায়িত্ব রয়েছে।’

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১০ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
১০ ঘণ্টা আগে