


নদীনির্ভর বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো ফারাক্কা বাঁধ। এই বাঁধের বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।


‘ক্লাইমেট জাস্টিস’, ‘এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস’ বা ‘ওয়াটার পলিটিক্স’ শব্দগুলো ইদানীং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খুব আলোচিত শব্দ হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ প্রায় পাঁচ দশক আগেই এই ‘পরিবেশ রাজনীতি’ নিয়ে আন্দোলন করেছে।


১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল ফারাক্কা বাঁধের কমিশনিং অনুষ্ঠানে পূর্বনির্ধারিত প্রতিনিধি হয়েও তৎকালীন বাকশাল সরকারের পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেই অনুষ্ঠানে শেষতক যাননি। কারণ তৎকালীন সরকার ১৮ এপ্রিলে দেওয়া একটি সাময়িক অনুমোদনের ভিত্তিতে ২১ এপ্রিলেই ভারতের ফারাক্কা বাঁধ কমিশনিংয়ের সিদ্ধান্তে হতাশ


ঠিক এ কারণেই গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা ও নয়াদিল্লি যদি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প রূপরেখা করতে না পারে, তবে বিপদ বাড়বে। ঢাকা ও দিল্লি নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পদ্মা ব্যারাজ সফলতার বদলে উদ্বেগের প্রতীকে পরিণত হবে।


বিকেলের রোদ তখনও পুরোপুরি নরম হয়নি। আগারগাঁওয়ে অসংখ্য মানুষের লম্বা লাইনের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন এক বৃদ্ধ। মাথায় সাদা টুপি, গায়ে ধূসর পাঞ্জাবি। চোখেমুখে যেন গত শতকের ক্লান্তি। তিনি বারবার রাস্তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। ট্রাক আসবে। টিসিবির পণ্য মিলবে।

বাংলাদেশ মূলত একটি বদ্বীপ, যার ধমনী ও উপশিরাজুড়ে রয়েছে শত শত জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নদী। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে এ দেশের ভূখণ্ডটি উজান থেকে আসা পানির প্রবাহের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত মোট ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর মধ্যে ৫৪টিই এসেছে ভারতের ওপর দিয়ে।

