স্ট্রিম ডেস্ক


সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মরদেহ কবরে নামানোর পর ধর্মীয় রীতি মেনে প্রথমে তারেক রহমান মাটি দেন।
তারেক রহমানের পর পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্যান্যরা কবরে মাটি দেন। এরপর একে একে অন্যান্য আত্মীয় স্বজন ও নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার কবরে মাটি দেওয়া হয়।
এসময় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এসময় তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, ছোটভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী শামিলা রহমান, তাঁর ছোট মেয়ে জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দাঁড়িয়ে শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল মালেক। জানাজার সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আহমাদুল্লাহ এবং খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
এ ছাড়া সামনের দিকে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি সাদিক কায়েম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকবার্তা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সাথে দেখা করে তিনি এ বার্তা পৌঁছে দেন।
বিএনপি মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামাজ জানাজার আগে তাঁর জীবনী পাঠ করা হয়েছে। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিএনপি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় সদ্য প্রয়াত মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আমি আজ এখানে উপস্থিত ভাই এবং বোনেরা যারা উপস্থিত আছেন... মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় উনার কোনো ব্যবহারে, উনার কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। দোয়া করবেন আল্লাহ তায়ালা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন। আসসালামু আলাইকুম।’
এরপরেই খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল মালেক।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জানাজায় অংশ নিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার বড়ো ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথি, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের ইমামতিত্বে বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন তিনি।
এসময় তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এস জয়শঙ্কর ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বাশার ঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ দুপুর ১টায় তিনি সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। জানাজায় অংশ নিতে আসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, বুধবার জানাজার সময় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার বদলে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং মানিক মিয়া এভিনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জায়গা না পেয়ে আশপাশের ভবন, গলি, রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষ। যে যেখানে জায়গা পারছেন, সেখানেই তৈরি করছেন কাতার। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ইন্দিরা রোড এলাকায় এই দৃশ্য দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ লোকে লোকারণ্য। জানাজার কাতারে জায়গা না পেয়ে পেছনের দিকে ফিরতে থাকে মানুষ। এ সময় বিভিন্ন ভবনের গ্যারেজ, গলি, ছোট বড় ফাঁকা জায়গাগুলোতে অবস্থান নিতে থাকেন তাঁরা, দাঁড়িয়ে যান কাতার সোজা করে।
রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা মোহাম্মদ রফিক স্ট্রিমকে বলেন, ‘এত মানুষ। কোনোভাবেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢুকতে পারলাম না। বরং যারা মানিক মিয়ায় ছিলেন, তাঁরা উলটো দিকে ফিরছেন। হাজার হাজার মানুষের চাপে আমিও উলটা পথে এসে এখানে অবস্থান নিয়েছি।’

মতিঝিল থেকে আসা মোহাম্মদ উজ্জ্বল বলেন, ‘আগে কারো জানাজায় এত মানুষ দেখিনি। আমি খামারবাড়ি মোড়ে ছিলাম। হঠাৎ প্রচুর ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গেলাম। দেখলাম, মানিক মিয়া থকে লোকজন এদিকে ফিরছে, সামনে আর জায়গা নাই।'
উজ্জ্বল আরো বলেন, ‘মানুষের চাপে আমার দুজন সঙ্গী পড়ে গিয়েছিলেন। চিৎকার করার পর লোকজনের গতি একটু কমলে তাঁরা উঠে দাড়ান। নইলে তাঁরা আজ আহত হতে পারতো।’
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতেরা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) কূটনৈতিক সূত্রগুলো এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মিশনের ৩২ কূটনীতিক সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় এসেছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। এ সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন ড. এস জয়শঙ্কর।
‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত।
জানাজায় অংশ নেওয়া ও শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা হলেন— নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ফ্রান্সিসকাস জেরার্ডাস ভ্যান বোমেল, লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুল মোত্তালিব এস. এম. সোলাইমান, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত একাতেরিনা সেমেনোভা, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাদিলা কাইঙ্গল, সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি, ফিলিস্তিনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জিয়াদ এম. হামাদ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জিনহি ব্যাক।

এছাড়াও উপস্থিত হয়েছেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা ক্যাথরিন কুক, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ অং কিয়াও মো, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো সিগফ্রিড রেংগলি, ইতালির রাষ্ট্রদূত আলেসান্দ্রো আন্তোনিও, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনচি, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস, স্পেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত লারা দে লা পেনা ফার্নান্দেজ, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস, মরক্কোর রাষ্ট্রদূত মাজিদ হালিম, ইরানের রাষ্ট্রদূত মনসুর চাভোশি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি, ব্রুনাইয়ের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন ওসমান, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদিউপ, কাতারের রাষ্ট্রদূত সেরায়া আলি এম. এস. আল-কাহতানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে, মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আমির ফারিদ আবু হাসান, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি প্রতিনিধি সিমোন লসন পার্চমেন্ট এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর রফিকুল ইসলাম।

ভারাক্রান্ত হৃদয় আর অশ্রুসজল চোখে প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানাতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জড়ো হয়েছেন সারা দেশ থেকে আসা কয়েক লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। শোকাতুর জনতার শব্দভান্ডারে যেন আজ নেই শোক জানানোর ভাষা। জাতীয় ঐক্যের প্রতীক খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তৈরি শূন্যতা অপূরণীয় বলে মনে করছেন উপস্থিত জনতা।
ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৬টায় অশ্রুসিক্ত নয়ন ও ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন খোন্দকার মাহবুবা। ঢাকায় এসে তিনি জিয়াউর রহমানের মাজারে যান এবং খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তুত কবরটি এক পলক দেখে আসেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ময়মনসিংহে মহিলা দল করি, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছি। ম্যাডামের মৃত্যুতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। শোক জানানোর ভাষা নেই।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১১টার দিকেই পুরো জানাজাস্থল লোকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। রাজধানীর কাওরান বাজার থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে জানাজাস্থলের পথে রওনা হন।
জানাজায় অংশ নিতে কাওরান বাজার থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন প্রায় সত্তর বছরের বৃদ্ধ আজিজ মণ্ডল। তিনি স্ট্রিমকে জানান, ‘জিয়ার জানাজায় আমি সেখানে ছিলাম। আজকে খালেদা জিয়ার জানাজায় যাচ্ছি। আল্লাহ উনাকে অত্যন্ত সম্মানজনক মৃত্যু দিয়েছেন। আজকে মানুষ বুঝে গিয়েছে খালেদা জিয়া কত ভালো লোক ছিলেন।’
পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে বসানো হয়েছে অসংখ্য এলইডি স্ক্রিন। সেখানে দেখানো হচ্ছে খালেদা জিয়ার নানা সময়ে দেওয়া ভাষণ ও তাঁর জীবনের ওপর তৈরি করা ডকুমেন্টারি। এসব স্ক্রিনের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন উপস্থিত জনতা।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা কিংবা দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান তাঁর বাবা–মায়ের পথেই থাকবেন বলে বিশ্বাস মহিলা দলের এই নারী নেত্রীর। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে তারেক রহমানের বিকল্প নাই।’
সৌদি প্রবাসী মমিনুল হক জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার রাতে ফেনী থেকে ঢাকায় আসেন। জানাজাস্থলে আলাপকালে তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতই ভালো মানুষ ছিলেন যে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর একবারও হাসিনাকে গালি দেন নাই। তাই আজকে দেখেন লক্ষ-কোটি মানুষ তাঁর জানাজায় এসেছে। শুনছি জিয়ার জানাজায় মানুষ যেখানে ছিল, সেখানেই কেঁদেছে, দোয়া করেছে। আজকে আমার মনে হয় তার চেয়েও বেশি মানুষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে শোক জানানোর কথা জানা নাই। তাঁর মতো কেউ হতে পারবে না। এমন নেত্রী একবারই আসে!’
তবে এই শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করবেন এবং দেশকে অশুভ ও আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করবেন তারেক রহমান—এমন আশা প্রকাশ করেন ঢাকার শাহীনবাগ থেকে আসা সরকারি চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘তারেক এটা পারবে। তাঁর মধ্যে জিয়াউর রহমানের আদর্শ কিছুটা হলেও আছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা দুপুরে ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে দুপুর ১২টা থেকেই কাতারবদ্ধ হয়ে আছেন জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষ। আজ দুপুরে ১২টার পর থেকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই সারা দেশ থেকে আসতে শুরু করেছেন মানুষ। দুপুরের দিকে আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, খামারবাড়ী, ফার্মগেট, বিজয়সরণি ও কারওয়ান বাজার এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে জানাজা পড়তে আসা মানুষের ঢল। নামাজের সময় যাতে করে জায়গা নিয়ে সমস্যা তৈরি না হয়, তাই বারবার মাইকে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে বলা হচ্ছে।
গতরাতে কুমিল্লা থেকে ঢাকা এসেছেন কামরুজ্জামান হীরা। তিনিও কাতারবদ্ধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘জানাজা পড়ার জন্যেই কুমিল্লা থেকে এসেছি। আমার মতো লাখো মানুষ এখানে আছেন। সবাই যেন সুষ্ঠুভাবে নামাজটা পড়তে পারেন, তাই আগে থেকে কাতারবদ্ধ হয়ে আছি।’
ইসহাক খান নামে একজন এসেছেন রাজধানীর মিরপুর থেকে। তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টায় জানাজা হবে, কিন্তু আমরা এখনই কাতার সোজা করে দাঁড়িয়ে আছি। পরিবেশটা যেন ঠিক থাকে। কেউ যেন নামাজ না পড়ে ফিরে না যায়। তাই মাইকের ঘোষণা আমরা ফলো করছি।’

পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় বোতলজাত পানিল কিনে অজু করে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণত মানুষ। অনেকে আবার অজু করেই জানাজাস্থলে এসেছেন। বুধবার দুপুর ১টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুপুর নাগাদ রাজধানীর আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭, খামারবাড়ী, ফার্মগেট, বিজয়স্মরণী, মিরপুর রোড, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও কারওয়ান বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে জানাজা পড়তে আসা মানুষের ঢল। বিশাল সংখ্যার এই মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তাই যে যেভাবে পারছেন, অজু করে পবিত্র হচ্ছেন। অনেকেই বোতলজাত পানি কিনে অজু করছেন।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা আরেফিন খান স্ট্রিমকে বলেন, ‘খুব ভোরে ঢাকা এসেছি। হালকা নাশতা করে এখানে চলে এসেছি। সকালে হোটেল থেকে অজু করে বের হলেও আবার অজু করতে হচ্ছে। নামাজ পড়বো যেহেতু, নিজেকে পবিত্র রাখা জরুরি।’
খামারবাড়ি মোড়ে বোতলের পানি ঢেলে অজু করছিলেন সুজন নামে একজন। তিনি বলেন, ‘নামাজের প্রথম শর্ত পবিত্র থাকা। এখানে যে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, তার তুলনায় মানুষ অনেক বেশি হয়েছে। পানির ট্যাংকি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবো না মনে হচ্ছে। তাই পানি কিনতে হলো।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও অতিথিরা। এরইমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, ভূটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়েন পো ডিএন ও পাকিস্তানের সরদার আইয়াজ সাদিক জানাজাস্থলে এসে পৌঁছেছেন।
Sardar Ayaz Sadiq, Honorable Speaker National Assembly of Pakistan reached Dhaka to attend funeral prayer of H.E. Begum Khaleda Zia, former Prime Minister and Chairperson BNP. pic.twitter.com/quEa2uyPLC
— Pakistan High Commission Bangladesh (@PakinBangladesh) December 31, 2025

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় পৌঁছেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন জয়শঙ্কর।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে আসছেন মানুষ। সাধারণ যানবাহন, পায়ে হেঁটে আসার পাশাপাশি মেট্রোরেলে করেও আসছেন অনেকে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিনের তুলনায় মেট্রোরেলের সচিবালয়, শাহবাগ, ফার্মগেট ও বিজয় সরণীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্টেশনে প্রবেশের সময় যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জানাজায় অংশ নিতে আসা যাত্রীরা সুশৃঙ্খলভাবে টিকিট কেটে মেট্রোরেলে উঠছেন। তবে, টিকিট কাউন্টার ও পাঞ্চিং গেটগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে কিছু স্থানে বেশ ভিড় দেখা গেছে।
এমআরটি পুলিশের ডিআইজি সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রী সমাগম বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত অতিরিক্ত এমআরটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে বিজয় সরণীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে সিনিয়র অফিসারদের নেতৃত্বে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট কাটা ও পাঞ্চিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগায় সাময়িক ভিড় সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষ জড়ো হয়েছেন রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার পর জিয়া উদ্যান সংলগ্ন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশ পথ খুলে দেওয়া হয়। গেট খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো জনতা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় প্রবেশ করেন। দক্ষিণ প্লাজা এলাকার দুটি বড় মাঠ জানাজার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজাস্থল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলসহ সারা দেশ থেকে দলে দলে আসতে শুরু করেছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।
আজ বাদ জোহর দুপুর ২টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে। ইতোমধ্যে এখানে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর কাওরান বাজার-ফার্মগেট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পায়ে হেঁটে হাজারো মানুষকে দলে দলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে যাচ্ছেন।

যাত্রাবাড়ি থেকে এসেছেন আজিজুল নামে একজন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর জানাজা, তাতে অংশ নিতেই আমরা দলবেঁধে এসেছি। বাসে করে হাতিরঝিল পর্যন্ত এসেছি। পরে সবাই হেঁটেই রওনা দিলাম।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনা হচ্ছে। সকাল ১১টার দিকে গুলশানে তারেক রহমানের বাসভবন থেকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো প্রিজার্ভ ভ্যানে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে রওনা দেয় গাড়িবহর।
এসময় গাড়িবহরের দুপাশে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ), সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসংখ্য সদস্যকে পায়ে হেঁটে মার্চ করতে দেখা গেছে।
মরদেহবাহী গাড়ির ঠিক পেছনেই বিএনপির দলীয় পতাকার রঙে মোড়ানো দুটি বাসও রয়েছে। বুলেট প্রুফ এই বাসের একটিতে চড়ে তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও স্বজনরা।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমানের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে তাঁকে মায়ের কফিনের পাশে বসে কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা গেছে।

খালেদা জিয়ার মরদেহ তাঁর দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। মরদেহ বহনকরা গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনেরা তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীতে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে তাঁর বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেওয়া হচ্ছে। আজ বুধবার সকাল ৯টার একটু আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে হাসপাতাল থেকে মরদেহ বের করে আনা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এসময় খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়িটির দুপাশে তাঁর নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যদের দেখা গেছে। আর পুলিশ, বিজি ও র্যাব সদস্যরা পুরো গাড়িবহরকে নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তার প্রদান করেন।
এদিকে গুলশান এলাকাতেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তারেক রহমানের বাসায় আশপাশে বিপুল সংখ্যক বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ফিরোজায় খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন স্বজন ও দলীয় নেতা কর্মীরা। পরে তাঁকে জানাজার জন্য নেওয়া হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
সরকারি উদ্যোগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা হবে বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। জানাজার নামাজ পড়াবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের চারপাশের সড়কগুলোতেও যেন জনসাধারণ অবস্থান করতে পারেন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জানাজার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমহিত করা হবে। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত রাজনীতিবিদরা উপস্থিত থাকবেন। দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্নের জন্য সেখানে নির্ধারিত ব্যক্তিরা ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাফনকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হবে।
সারাদেশ থেকে জানাজায় অংশ নিতে নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ ঢাকায় আসছেন। সবাইকে সৃশৃঙ্খলভাবে জানাজায় অংশ নিতে বিএনপির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। জানাজায় অংশ নিতে আসাদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করতে বলেছে সরকার। বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার থেকে নামাজে জানাজা সরাসরি সম্প্রচার করবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁর জানাজায় অংশ নিতে বেশ কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশেষ দূত ও প্রতিনিধি আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আসছেন।
বুধবার বেলা ২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা হবে। এরপর তাঁকে সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও দেশটির উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদের ঢাকায় আসার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ও জানাজায় অংশ নিতে আসার কথা রয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানানোর জন্য চেয়ারপারসন অফিস শোক বই খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয়েছে শোক বইয়ে সই; চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। আগামীকাল (৩১ ডিসেম্বর) বুধবার বেলা ৪টা থেকে রাত ৯ এবং পরদিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত শোক জানানো ও বইয়ে সই করা যাবে। শোক বইয়ে প্রথম চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সই করেন বলেও জানান শায়রুল কবির।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ ও ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের পথচলায় বেগম জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত।
রাহুল গান্ধী তাঁর বার্তায় আরও বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিও তাঁর আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
Saddened by the passing of former Prime Minister of Bangladesh, Begum Khaleda Zia. Over her long career in public life, she played a significant role in Bangladesh’s political journey.
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) December 30, 2025
My heartfelt condolences to her family, supporters, and the people of Bangladesh.

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র’ অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, জাতি এক অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।
মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এই মন্তব্য করেন।
শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্র গঠনে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, বেগম জিয়ার দেশপ্রেম ও দলমতের বিভাজন ভুলে জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর একনিষ্ঠ অঙ্গীকার আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, নেতাকর্মী ও তাঁর অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আগামীকাল বুধবার বেলা ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি শ্রদ্ধা জানাতে আসার কথা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গুলশান কার্যালয়ে শোক বই খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা থেকে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা শোক জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে সশরীরে এসে শোক বইয়ে সই করছেন তারা। কূটনীতিক ছাড়াও গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির শরিক দলের নেতারাও এসে শোক জানাচ্ছেন।
শোক বইয়ে চীন, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ইরান, জাপান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিস্তিনসহ ১৬টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা সই করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।
শোক বইয়ে সই করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দলিব রহমান পার্থসহ অনেকে।
বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানানোর জন্য চেয়ারপারসন অফিস শোক বই খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয়েছে শোক বইয়ে সই; চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। আগামীকাল (৩১ ডিসেম্বর) বুধবার বেলা ৪টা থেকে রাত ৯ এবং পরদিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত শোক জানানো ও বইয়ে সই করা যাবে।
শায়রুল কবির বলেন, শোক বইয়ে প্রথমে সই করেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রেস কাউন্সেলর ফাসিহউল্লহ স্ট্রিমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রেস কাউন্সেলর ফাসিহউল্লহ বলেছেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ইসহাক দারের আগামীকাল বুধবার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আগামীকাল বুধবার দুপুর ২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব নামাজে জানাজা পড়াবেন এবং এরপর খালেদা জিয়াকে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে তাঁরই পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় গুলশানস্থ চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের সর্বচ্চো নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মির্জা ফখরুল।
এসময় তিনি শৃঙ্খলা মেনে জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সব স্তরের মানুষের কাছে অনুরোধ জানাবো, আপনারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জানাজা পড়বেন এবং তারপর তাকে দাফনের দায়িত্ব যাদের তারাই অংশগ্রহণ করবেন। আপনারা কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করে শুধু ছবি তোলার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন না এবং ব্যহত করবেন না। দেশনেত্রীর প্রতি আপনাদের যে সম্মান যে শ্রদ্ধা সেটাকে অটুট রাখার জন্য আপনারা সেই শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন এবং সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবেন’।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আজকে নেত্রীর ইন্তেকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হল। এই ক্ষতির পূরণ সহজে সম্ভব নয়। আজকে এমন একটা সময়ে তিনি চলে গেলেন যখন তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। যখন গণতন্ত্র উত্তরণের জন্যে আমরা একটা নির্বাচনের দিকে জাতি যাচ্ছে। যখন সমস্ত জাতি তৈরি হয়েছে নির্বাচন করে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করবে সেই সময় তিনি আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা এই শোক, এই বেদনা আমাদের পক্ষে ধারণ করা খুব কঠিন। তারপরেও আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে চাই। আমরা দেশনেত্রীর নির্দেশিত যে পথ সেই পথকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আমরা একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। সেই পথকে লক্ষ্য করে আমরা আগামী নির্বাচনে অত্যন্ত সুষ্ঠ-অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই’।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যেন আল্লাহ দায়িত্ব পালন করার শক্তি যেন তাঁকে দেন এবং তাঁর পরিবারকে সেই শক্তি দেন। এই শোক সহ্য করবার জন্য আসুন আমরা আজকে সবাই এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে একটা অপ্রতিরোদ্ধ দল হিসেবে গড়ে তুলি’।
তিনি আরও বলেন, যে সাত দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে, এই সাতদিন আমাদের পতাকা উত্তোলন করবো, কালো ব্যাচ ধারণ করব, প্রত্যেক কার্যালয়ে
দোয়া পড়া হবে, কোরআন তেলাওয়াত হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘রাজনীতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি।’ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ারে হাসপাতালের প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশে যখনই গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও নিখাদভাবে মানুষের জন্য কাজ করার প্রশ্ন আসবে; তখনই খালেদা জিয়াকে মানুষ স্মরণ করতে হবে। তিনি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। কৃষক, শ্রমিক ও মেহেনতি মানুষের পাশে তিনিই সবচেয়ে বেশি থেকেছেন। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজপথে লড়াই করেছেন।’
দুদু বলেন, ‘দেশের যেকোনও সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন খালেদা জিয়া। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। রাজপথে নেমেছেন। তিনি কখন আপসের রাজনীতি করেননি, আপসের চোরাবালিতে যাননি।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীরভাবে শোকাহত। সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, তাঁর মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আগামীকাল (৩১ ডিসেম্বর) বুধবার বেলা ২টা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজার পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দাফন করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা হয়। সেখানে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে তিনি খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্যের সঙ্গে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক দাফন হবে। সেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। জানাজায় অংশ নিতে আসাদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করতে বলা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার আগামী ৩১ ডিসেম্বর বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠেয় অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কর্তৃপক্ষ আজ মঙ্গলবার সব প্রশাসনিক ও বিভাগীয় সভা স্থগিত করেছে। জাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা আজকের জন্য স্থগিত থাকবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক শোকবার্তায় তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সেইসঙ্গে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এ মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
উপদেষ্টা আরো বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব দেশ ও জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং একজন সাহসী, প্রজ্ঞাবান ও আপসহীন রাজনৈতিক নেতা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন দৃঢ় নেতৃত্ব ও প্রতিবাদের এক উজ্জ্বল প্রতীক। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বহুদলীয় রাজনীতি বিকাশে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অবিস্মরণীয় কর্ম আমাদের সর্বদা অনুপ্রাণিত করবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতৃত্ব। গণতন্ত্র ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই শোক ও সমবেদনা জানান।
তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত।’ তিনি মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক দীর্ঘকালীন ও প্রভাবশালী নেতৃত্বের প্রতীক। রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তাঁর নেতৃত্ব ও অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া সততা, দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত ও অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহ আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী এবং একজন সৎ ও আদর্শ রাজনীতিবিদ। দেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপসহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।’

জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে উপস্থিত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিমর্ষ ও মাতৃশোকে ভারাক্রান্ত তারেক রহমান সেখানে পৌঁছান।
এরআগে আজ সকালেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকের কথা জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমাদের সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করে আমরা আপনাদেরকে আবারো জানাবো'।
ধারণা করা হচ্ছে এই বৈঠক শেষে খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সংক্রান্ত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালেই তাঁর মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে নিয়ে আসা হবে। এ সময় পুরো রাস্তার দুই পাশে একটি স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট নিশ্চিত করা হবে।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি জরুরি বৈঠক হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শফিকুল আলম এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘কখন মরদেহবাহী গাড়ি রওনা দেবে তা আমরা জানিয়ে দেব। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে আসা হবে। সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় চিফ অ্যাডভাইজার (প্রধান উপদেষ্টা) থাকবেন, বিএনপির নেতারা থাকবেন, সব অ্যাডভাইজার থাকবেন এবং আমরা আশা করছি অনেক কূটনীতিকও উপস্থিত থাকবেন।
‘কালকে জানাজাকে সামনে রেখেই একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন দিনের শোক পালন করা হচ্ছে,’ যোগ করেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, পুলিশের ও সিকিউরিটি এজেন্সির তরফ থেকে প্রত্যেকটি বিষয় রিভিউ করা হয়। কিছুদিন আগে একটি বড় জানাজা হয়েছে, ফলে পুলিশের এবং সিকিউরিটি এজেন্সিগুলোর নিজেদের মধ্যেই কিছু প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই ছিল। কিন্তু এখন আরও বড় আকারে কিভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সেই বিষয়ে খুব নিবিড়ভাবে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। সরকার তাকে যে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তার জানাজার জন্য সরকার সব ধরনের আয়োজন করছে। আমরা আমাদের দলীয় অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সরকারকে সহায়তা করব।
‘যেভাবে সরকার পরিকল্পনা করেছে, আমার মনে হয় আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমরা তার শেষ বিদায়—তিনি সত্যিকার অর্থে যে প্রাপ্য, সেটা দিতে পারব। এটার জন্য দেশবাসী এবং আপনাদের সহযোগিতা আমাদের কাছে অত্যন্ত কাম্য,’ যোগ করেন শামসুল ইসলাম।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর জানিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক; এমন একজন আলোকবর্তিকা যাঁর অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা যুগিয়েছে।’
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান লেখেন, ‘আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীরভাবে শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন।’
খালেদা জিয়া আজীবন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন; স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘আমার কাছে খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য।’
বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সর্বোচ্চ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে অদম্য সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
দেশের জন্য তিনি স্বামী-সন্তান হারিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশ, এই দেশের মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। তিনি রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আপনারা সবাই আমার মা’র জন্য দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দলটির মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে এক যৌথ শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর ইন্তেকালে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করছি এবং জাতির ইতিহাসে এক মহীরুহ নেত্রীর সকল অবদান গভীরভাবে স্মরণ করছি।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রামের এক মহাকাব্য। তিনি গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মঞ্চে এসে বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের নাম হয়ে ওঠেন। তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি কখনোই নিজের জীবনের স্বার্থকে দেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি; বরং ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোক বার্তায় চরমোনাই পীর বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক চর্চায় ও ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একজন উজ্জল ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন।’
পীর সাহেব চরমোনাই তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ও আপসহীন ভূমিকা জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি অবৈতনিক নারীশিক্ষার ব্যবস্থাকরণ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিস্তার এবং জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নসহ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলা একাডেমির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিচারণ করে মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ২৬ এপ্রিল বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী লোকউৎসব ও বইয়ের আড়ং উদ্বোধন করেছিলেন। এছাড়া ১৯৯২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৯ বার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন। বই এবং বইমেলা ঘিরে তাঁর উৎসাহ ও প্রণোদনা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আজম।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা জাতিসংঘের কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা এক শোক বার্তায় জানানো হয়, এই শোকাবহ সময়ে জাতিসংঘ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি তাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন-কাফন সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এই বৈঠক শুরু হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থান অক্ষয় অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এই শোকে একত্রিত হয়েছি। একত্রে আমরা আগামীকাল শোক দিবস পালন করব।’
‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিনদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের যে দূতাবাসগুলো রয়েছে, সেগুলোতে শোকবই খোলা হবে,’ বলেন আইন উপদেষ্টা।
বৈঠকে দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং উপদেষ্টারা একত্রিত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এ সভায় উপস্থিত আছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ।
এদিকে এ সভায় আরও উপস্থিত হয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, প্রেস সচিব শফিকুল আলম, গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জে. এস এম কামরুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (এসবি) মো. গোলাম রসূল, এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, এনএসআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ, ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ওসমান সরওয়ার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, এনএসআইয়ের পরিচালক (ঢাকা উইং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল জলিল, ডিজিএফআই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুনায়েদ, সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর শামস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং সাবেক বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বিএনপির খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় এফবিসিসিআই জানায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও দীর্ঘ সংগ্রাম জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারাল।
শোকবার্তায় ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন উল্লেখ করে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি জাতিকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বিভিন্ন সংকটময় সময়ে ব্যবসায়ী সমাজ তাঁর সহযোগিতা ও পাশে থাকার ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। এফবিসিসিআই মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। দেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেগম খালেদা জিয়া পরিবেশ, অবকাঠামো, নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়নে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে যে ভূমিকা রেখেছেন জাতি তা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
পদেষ্টা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ বিপিএলের খেলা বাতিল করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, দেশের শোকাবহ পরিস্থিতি ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের দুটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। ম্যাচ দুটির নতুন তারিখ পরে জানাবে বিসিবি।
এছাড়া আজ ফেডারেশন কাপের দুই ম্যাচ স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আজ নোয়াখালীতে অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালের সূচি ছিল। সেই ফাইনালও আজ হবে না। বাফুফে পরবর্তীতে এই খেলাগুলোতে সূচি প্রকাশ করবে।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিসিবি, বাফুফে, বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশন, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন, বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন ও বাংলাদেশ চুকবল অ্যাসোসিয়েশন পৃথকভাবে শোক জানিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর আগে শেষ সময়টুকুতে পাশে ছিলেন তাঁর ছেলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অবস্থান করার পর গুলশানের বাসভবনে ফিরে গেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তার গাড়ি বাসার উদ্দেশে রওনা হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, গতরাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেষ সময়ে তিনি তার মায়ের পাশেই ছিলেন। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্লিনিক্যাল ডেড ঘোষণা করে মেডিক্যাল বোর্ড।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার সারা দেশে গণভোট নিয়ে সরকারের প্রচারমূলক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণমাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে প্রচারমূলক কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে প্রচারমূলক ‘ভোটের গাড়ি’ যাত্রা শুরু করেছে। একাধিক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে এসব প্রচারমূলক কাজ আজ ও আগামীকাল স্থগিত থাকবে। এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা বুধবার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পেছনে ‘ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী’ শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের অবশ্যই দায় রয়েছে বলে মনে করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘একটা প্রহসনমূলক রায়ে উনাকে জেলখানায় পাঠিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে যে মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, এটা যে প্রহসনের একটা রায় ছিল। এটা একটা সম্পূর্ণ সাজানো রায় ছিল। এটা আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল এবং রিভিউ এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিলের ডিভিশনের রায়ের মধ্যে বারবার বলা হয়েছে যে বেগম জিয়াকে যেই মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ রংলি (ভুলভাবে), উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, জিঘাংসাপ্রসূতভাবে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছিল।
‘খালেদা জিয়াকে জেলখানায় বিভিন্ন সময় যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল, না হলে হয়তো এত তাড়াতাড়ি তাঁকে আমরা হারাতাম না’, বলেও মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আসিফ নজরুল জানান, আজ যে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও তাঁর দলের পক্ষে উপদেষ্টা পরিষদকে জানিয়েছেন, তাঁকে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজের পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে।
আইন উপদেষ্টা জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে সবসময় খোঁজখবর রেখেছেন, যা দরকার ছিল। তাঁকে যদি আবার বিদেশে পাঠানোর মত অবস্থা থাকতো, অবশ্যই আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হতো। প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে এই জিনিসগুলা খোঁজখবর নিয়েছেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, বেগম খালেদা জিয়াকে বছরখানেক বা বছর দুয়েক আগে যদি আমরা পেতাম, হয়তো আমাদের পক্ষে কিছু একটা করা সম্ভব ছিল। আল্লাহর ইচ্ছা, উনি চলে গেছেন। তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে উনিও সারা দেশের মানুষের সম্মান, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সাড়ে ১২টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা জানান। একইসঙ্গে জানাজার দিনে সাধারণ ছুটি এবং আগামী তিনদিন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি বিনীত আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আগামী তিন দিন রাষ্ট্রীয় শোকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় ডাকসু বলেছে, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের এক অন্ধকার সময়ে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। স্বৈরাচারের দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে মোকাবেলা করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রধান মুখ, জনপ্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু।’
ডাকসু মনে করে, ‘বাংলাদেশের আলেম-ওলামাসহ আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তির প্রতি যখন অপবাদ, ষড়যন্ত্র ও বিভাজনকে হাতিয়ার করে দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোকে ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়েছিল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ, তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সত্য, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবিচল। তিনি কখনো বিদেশি তোষামোদ বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি; বাংলাদেশকে নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। স্বৈরতন্ত্র, ভিনদেশি আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে হওয়া গণআন্দোলন এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির নেতারা তাকে ‘গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
এক যৌথ শোকবার্তায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রাম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ইতিহাসে তিনি এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।’
তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা স্মরণ করে এই দুই নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ ও মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চির সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বিস্তারিত জানাবেন এবং প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ঘোষণা দেবেন।
এসময় তিনি জানান, খালেদা জিয়ার জানাজা ও তাঁর দাফন সংক্রান্ত কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বয় করার জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আজকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ক্যাবিনেট থেকে সেটা আলোচনা হয়েছে। একটু পরেই আপনারা সেগুলো জানতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি আপনাদের জানাবেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বোধহয় জাতির উদ্দেশে একটা ঘোষণা দেবেন। যেহেতু তাদের মিটিং, তারাই জানাবেন এবং সেটাই ভালো হবে। আমাদের বিষয়গুলো আমরা আপনাদের সকালে জানিয়েছি। আর আমাদের দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমাদের সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করে আমরা আপনাদের আবারো জানাবো।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে এদেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা।’
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং চড়াই-উৎরাই পার করেছেন, কিন্তু নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল। দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন।’
বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং সংগ্রামের স্মৃতি নিশ্চয়ই সংরক্ষিত থাকবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে থাকবে অনুপ্রেরণা হয়ে। আজ তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।‘
এদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি)। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এই শোক বার্তা জানানো হয়। সকালে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে শোক ও সমবেদনা জানান।
এনসিপির অফিসিয়াল পেইজ দেওয়া ওই পোস্টে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানায়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আরো দুই দফা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন উল্লেখ করে কমিশন বলছে, তিনি দীর্ঘদিন বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেন। নির্বাচনি প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নির্বাচন কমিশন মরহুমার বিদেহ আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যসহ সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান শোক জানিয়ে বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় রেখে গেছেন। আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তাঁর ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
চিঠিতে চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চীনা সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার ও বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে ফ্রান্স।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকাস্থ ফরাসি দূতাবাস এক বার্তায় বলেছে, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর অবদান ও উত্তরাধিকার স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে জার্মানি।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস এক শোক বার্তায় বলেছে, বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে তাঁর অবদানকে সম্মান জানায় এবং তাঁর পরিবার, তাঁর দল এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক বার্তায় বলা হয়, খালেদা জিয়া তাঁর দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালের মূল ফটক ও আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল ও মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক বিএনপি নেতাকর্মী হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশ কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। এতে হাসপাতালের সামনে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেককে সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে তাঁর দল। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি হবে বলে জানান দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানান, জরুরিভাবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকটি হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভা শেষে এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো রেজাউল করিম।
আজ সকাল সাড়ে ৮টায় জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। পরে নির্বাচন স্থগিতের কথা জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৮ অক্টোবর জকসু নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। গত ৫ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ভোটগ্রহণের জন্য ২২ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে ভূমিকম্পে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ৮ দিন পিছিয়ে তা ৩০ ডিসেম্বর করা হয়।
মঙ্গলবার ভোট শুরুর আগে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য। কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ক্ষোভ জানিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, তিনি খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদে গভীরভাবে শোকাহত।
নরেন্দ্র মোদি শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই শোকজনক ক্ষতি সহ্য করার জন্য মহান আল্লাহ যেন তাঁর পরিবারকে শক্তি দেন।
Deeply saddened to learn about the passing away of former Prime Minister and BNP Chairperson Begum Khaleda Zia in Dhaka.
— Narendra Modi (@narendramodi) December 30, 2025
Our sincerest condolences to her family and all the people of Bangladesh. May the Almighty grant her family the fortitude to bear this tragic loss.
As the… pic.twitter.com/BLg6K52vak
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, যা সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শোকবার্তায় নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর ভাবনা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে।
শেষে নরেন্দ্র মোদি মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
শোকবার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জন্য আজীবন যে সেবা দিয়ে গেছেন, তা দেশটির ইতিহাসে একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের একজন প্রতিশ্রুতিশীল বন্ধু ছিলেন।
Deeply saddened by the passing of Begum Khaleda Zia, Chairperson of the BNP and former Prime Minister of Bangladesh. Her lifelong service to Bangladesh and its growth and development leaves a lasting legacy.
— Shehbaz Sharif (@CMShehbaz) December 30, 2025
Begum Zia was a committed friend of Pakistan. My Government and the…
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই শোকের মুহূর্তে পাকিস্তান সরকার ও সে দেশের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার, স্বজন এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বার্তার শেষাংশে শাহবাজ শরিফ খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন।
President Asif Ali Zardari is deeply grieved by the passing of Begum Khaleda Zia, former Prime Minister of Bangladesh. He extends heartfelt condolences to her family & the people of Bangladesh. Her leadership & services will be remembered with respect. May her soul rest in peace.
— The President of Pakistan (@PresOfPakistan) December 30, 2025
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি এক্সে শোকবার্তায় লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর আত্মা শান্তি পাক।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আজ আনুমানিক দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচার করা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।’
প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল’, উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তাঁর আপসহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামী সাত দিনব্যাপী শোক পালন করবে তাঁর দল। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আগামী সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি জানান, আগামী সাতদিন শোক পালনকালে দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা টানানো থাকবে। বিএনপির সব নেতা-কর্মী কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। সব দলীয় কার্যালয়ে সাত দিনব্যাপী কোরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া চেয়ারপারসনের কার্যালয়, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও জেলা কার্যালয়ে শোক বহি খুলে সংশ্লিষ্ট এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মন্তব্য ও সই সংগ্রহ করবে বিএনপি।
খালেদা জিয়ার নামাজের জানাজার সময় ও স্থান পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেএড এম জাহিদ হাসান, নজরুল ইসলাম খানসহ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার প্রধান ড. ইউনূস আমাদের ফোন করেছিলেন। ইতিমধ্যেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সকাল ১০টায় বিশেষ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক বসবে। বৈঠকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা, তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া; এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।’ সরকারের সিদ্ধান্তের পর পুরো কর্মসূচি সমন্বয় করে জাতিকে জানানো হবে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এরপর কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সংবাদটি নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে হবে, তা কিন্তু আমরা কখনো ভাবিনি। আমরা এবারও আশা করছিলাম ঠিক আগের মতই আবারও তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। আমরা ভারাক্রান্ত। ইতিমধ্যে আপনারা শুনেছেন, আজ ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক আমাদের জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়ালিল্লাহি রাজিউন।’
তিনি বলেন, ‘এই শোক, এই ক্ষতি অপূরণীয়। এই জাতি কোনোদিন এটা পূরণ করতে পারবে না। যে নেত্রী তার সারাজীবন জনগণের অধিকারের জন্য কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। সেই নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই। এটা আমরা তাঁর সহকর্মী এবং রাজনৈতিক কর্মীরা ভাবতে পারি না। বাংলাদেশের রাজনীতি একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হল। তাই নয়, গণতান্ত্রিক পৃথিবীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটা বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হল।
তিনি বলেন, ‘আমরা দলের পক্ষ থেকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে দলের কিছু কর্মসূচি নিয়েছি। সেই কর্মসূচিগুলো আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আপনাদের সামনে তুলে ধরবেন।’
পরে দলের সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামী সাত দিনব্যাপী শোক পালন করবে বিএনপি। এই সাতদিন দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা টানানো থাকবে। বিএনপির সব নেতা-কর্মী কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া সব দলীয় কার্যালয়ে কোরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মৃত্যুসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে খালেদা জিয়ার পাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শার্মিলা রহমান, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ আত্মীয়স্বজনরা। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়ার জানাজার সময়সূচি পরে জানানো হবে।
এর আগে গতকাল দিবাগত রাত ২টার পরে এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া সবচেয়ে সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত পরশুদিন বলেছিলাম, উনি উনার সবচেয়ে সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন এবং সময় বলে দেবেন তিনি কতটুকু সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’
গতকাল রাতেই খালেদা জিয়াকে দেখতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ভাইসহ সব আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে যান।
সরকার খালেদা জিয়াকে ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা করার পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় এসএসএফ ও পিজিআর। এভারকেয়ার হাসপাতালের চতুর্থ তলার একটি কেবিনে রয়েছেন খালেদা জিয়া। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই তলার বাকি কেবিন খালি করে দেওয়া হয়েছে।
এরমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনকে যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা উপযোগী না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে জীবনাবসান হলো।