
সাংবাদিক ও লেখক

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা তথা উচ্চকক্ষ গঠন আদৌ প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তবে এটাও ঠিক যে সংসদকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা তথা আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের লাগাম টানার উপায় কী—তা নিয়েও আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

বাংলাদেশের কত শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক সচেতনা থেকে ভোট দেন—সেটি গবেষণার বিষয়। গবেষণায়ও সঠিক চিত্র উঠে আসবে কি না সন্দেহ আছে। এই বিষয়ে জরিপ চালালে সবাই ঠিক উত্তর নাও দিতে পারেন। বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি বিবেচনা কাজ করে। সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা অনেক সময়ই গৌন হয়ে যায়।

ইতিহাসের সেরা নির্বাচন করার একটা প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি প্রধান উপদেষ্টার তরফে জানানো হয়েছিল একাধিকবার। নির্বাচন কমিশনেরও প্রত্যাশা এটি। কিন্তু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে ‘ইতিহাসের সেরা’ নির্বাচন হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকার আবাসিক ভবনগুলোয় মন্ত্রীরা বসবাস করেন। বর্তমানে সেখানে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বাড়িগুলো বনেদি। বিশাল জায়গাজুড়ে। খোলামেলা। কিন্তু তারপরও ভবিষ্যৎ সরকারের মন্ত

যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হবেন, তারা প্রথম ৬ মাস অর্থাৎ ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এই সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, সনদের কোন কোন বিধানের কতটুকু তারা রাখবেন বা রাখবেন না।

প্রশ্ন হলো, পঁচিশ বছর আগের হিসাব দিয়ে এ বছরের নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কোনো ধারণা করা বা কোনো উপসংহারে পৌঁছানো যৌক্তিক কি না। উপরন্তু আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়া যে বিএনপির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে এবং দেশের জোটের রাজনীতিতে একটা নতুন মেরুকরণ ও সমীকরণ তৈ

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাসনিম জারা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আইনি মারপ্যাঁচ তথা এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তার নির্বাচনি লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা এক ঝাঁক তরুণের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্বিদলীয় তথা পরিবারতান্ত্রিকতা ছিল প্রবল। এর বাইরে গিয়ে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা আর্বিভূত হবে—যাদের আদর্শ হবে কট্টর ডান ও বামের মাঝামাঝি এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ ত