স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ইরানের আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়াল। ইরান সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল নিয়েছে। দেশটি বিক্ষোভ ঠেকাতে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করেছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের আলোচনার কথা বলছে এবং কিছু ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সতকর্তাও জারি করেছে।
ব্যবসায়ীরা শুরু করা এই আন্দোলনে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। তারা সরকার বিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন। ২০২২ সালের পর এই বিক্ষোভকে সবচেয়ে বড় বলা হচ্ছে। আগের বিক্ষোভগুলো চাপ প্রয়োগ, দমন-পীড়নসহ নানান উপায়ে দমন করেছিল। কিন্তু এবারের বিক্ষোভ কি দমাতে পারবে ইরান সরকার। নাকি শেষ পর্যন্ত এই বিক্ষোভের জেরেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটবে?
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক খবরে বলা হয়েছে, এবার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বারের চেয়ে বেশ সতর্ক দেশটির কর্তৃপক্ষ। এবার এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকারি কর্তৃপক্ষ। এমনকি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো দমন-পীড়নও চালাচ্ছে না। উদ্দেশ্য একটাই পরিস্থিতি যেন আরও ঘোলাটে না হয়। উল্টো ‘জ্বালানি সঞ্চয় ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার’ কথা বলে সরকারি অফিস বন্ধ রাখছে। এই যেমন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশের ৩১ প্রদেশের মধ্যে ২৬টির সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়। একই কারণ দেখিয়ে তেহরানের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনলাইনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের তৃতীয় দিন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার সরকার জনগণের আন্দোলনের অধিকারের স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বলা হয়েছে।

সরকারের তথ্য অফিসের প্রধান আলি আহমাদনিয়াও বুধবার বলেছেন, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভকে মেনে নিয়েছে এবং সমালোচনা শুনবে। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে সব ধরনের সমালোচনার কথা শুনবে এবং কোনো ধরনের সহিংস আচরণের দিকে যাবে না। শুধু তাই নয়, সরকার এই ধরনের আচরণের ঘোরতর বিরোধী।
যদিও তার এই বক্তব্যকেও সামাজিকমাধ্যমজুড়ে সংশয়ের চোখে দেখা হচ্ছে। এক্সের (সাবেক টুইটার) এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, যদি সরকার মানুষকে সম্মানই করে এবং তাদের কথা শুনতোই তবে প্রথম দিনেই পদত্যাগ করে জনগণের কাতারে এসে দাঁড়াত। উল্টো সব ধরনের ঘাটতির মধ্যেই সরকার শূন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—এর মানে হলো তারা এখনো বুঝতেছে না কি ঘটছে।
সরকার সমঝোতার বার্তার পাশাপাশি কঠোর সতর্কতার কথাও উল্লেখ করছে। সরকারের এক পক্ষ নরমে সুরে কথা বলছে, আবার অন্য পক্ষ সুর চড়া করছে। ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মাদ মোভাহেদি-আজাদ ‘শান্তিপূর্ণ জীবিকা নির্বাহের প্রতিবাদ’কে সামাজিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সতর্ক করে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক বিক্ষোভকে নিরাপত্তাহীনতা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, অথবা বাহ্যিকভাবে পরিকল্পিত পরিস্থিতি বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করার যেকোনো প্রচেষ্টা’ সরকার দমন করবে।
এছাড়া সোমবার ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনের বার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির অভিজাত রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে আইআরজিসি বলেছে, এটি ‘যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহ, অস্থিরতা, অযৌক্তিক সংঘাত, বা নিরাপত্তা হুমকির’ মোকাবিলা করবে। ইসলামী বিপ্লবের শত্রুরা ‘বাছাই করা তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করে’ অস্থিরতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে।
কট্টরপন্থী কায়হান পত্রিকার সম্পাদক হোসেইন শরিয়তমাদারি দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা সংখ্যায় কম ছিলেন। আর তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ এনেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দোকানদাররা বিক্ষোভকারীদের থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন কারণ বিক্ষোভকারীরা যেসব স্লোগান দিচ্ছেন তাকে তিনি ‘ইহুদিবাদী শাসনের নির্দেশিত’ স্লোগান বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রেড গিল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার এবং সংসদ এক বছরের জন্য জরিমানাসহ কিছু কর সংক্রান্ত শর্তাবলী স্থগিতে সম্মত হয়েছে।
এই পদক্ষেপ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা প্রশমিত করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। ব্যবসায়ীদের বেঁচে থাকা কর ছাড়ের ওপরের চেয়ে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের দ্রুত সঙ্কুচিত ক্রয় ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। একইসঙ্গে এই ধরনের ছাড় বেতনভোগী কর্মীদের ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকিও তৈরি করে। কারণ তাঁরা কর দেওয়া এড়াতে পারেন না।
এছাড়া সরকার জনপ্রতি ৭০ হাজার কোটি ইরানিয়ান রিয়াল (প্রায় ৫ দশমিক ১৭ ডলার) মাসিক নগদ ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জনসাধারণের চাপ কমানোর চেষ্টা করেছে।
কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে ক্রমবর্ধমান বাজার মূল্যের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারা পরিবারগুলির জন্য সহায়তা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয় ক্ষমতার এতো কমেছে যে তাতে ক্রমবর্ধমান জনরোষকে শান্ত করতে খুব একটা কাজে লাগবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অনির্দিষ্ট সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে আগের বছরের আন্দোলনে আটকের তুলনায় তা কম বলে মনে হচ্ছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার তেহরানে খুব দ্রুত মার্কেট, সড়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগের বিক্ষোভগুলোতে যেমন হয়েছে, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করেছেন বলে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বুধবার দেশটির দক্ষিণ ফার্স প্রদেশের ফাসা এবং লোরেস্তান প্রদেশের কৌহদাশত শহরে বিক্ষোভকারীরা গভর্নরেট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

অনলাইন প্রতিবেদনে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, ফাসায় ১৮ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। পরে অবশ্য একটি ভিডিওতে দেখা যায় ওই যুবক এখনো জীবিত এবং তিনি অক্ষত আছেন বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিক্ষোভ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়েছে। সেসব বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সরকারি বিরোধী স্লোগান দিয়েছেন।
সংঘর্ষের পর আলজাহরা, শরীফ এবং ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নিরাপত্তা প্রধানদের ‘অসদাচরণ এবং সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থতার’ কথা বলে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া তেহরানে আটক সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংস্কারবাদী লোকজন এই নজিরবিহীন বরখাস্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইরানের সংস্কারবাদী ফ্রন্টের প্রধান আজার মানসুরি এই পদক্ষেপকে ‘যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ উপেক্ষা করে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা অর্জন করা যাবে না যে তা স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইরানের বিক্ষোভ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা বলছেন, বিক্ষোভে দুর্বল হয়ে পড়া ইরান সরকার হয়তো শেষ ধাপে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামালা চালানোর চেষ্টা করতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তেহরান এখন কোনো যুদ্ধ চায় না এবং তাদের সক্ষমতাও খুব সীমিত। তবে হঠাৎ আক্রমণের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে এবং হঠাৎ আক্রমণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

সংবাদমাধ্যমটির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ সালের পর এ বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এখনকার এই বিক্ষোভ সহিংস দমন এবং পরবর্তী তীব্রতায় হয়তো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের পতন ঘটাতে পারে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ১৯৯৯-২০০০ সালে ছাত্র বিক্ষোভের সময়। তারপর ২০০৯-২০১০ সালে গ্রিন মুভমেন্ট এবং ২০১৭-২০১৮ সালে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময়, ২০১৯ সালে হঠাৎ তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর, ২০২১ সালে পানি ও রুটির ঘাটতির পর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যুর পর ২০২২-২০২৩ সালে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ শীর্ষক বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল।
‘ইরানের বিক্ষোভকারীরা হাততালির চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন, তাদের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থন প্রয়োজন’ শিরোনামের ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, শনিবার থেকে হাজার হাজার সাহসী ইরানি রাস্তায় নেমে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে ইরানি মুদ্রার পতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা দ্রুত এমন স্লোগান দিচ্ছেন যা তাঁদের গভীরতর ক্ষোভ যে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন।
এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যশ দ্য গার্ডিয়ানে “‘আমরা চাই মোল্লারা চলে যাক”: অর্থনৈতিক সংকটে ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ শুরু’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসপাহান শহরের আলবোর্জ নামে এক টেক্সটাইল ব্যবসায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আর পাশে বসে থাকবেন না। দোকান বন্ধ করে তিনিও রাস্তায় নেমে পড়েন। দোকান বন্ধ করে নামা অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিনি যোগ দেন। তাদের সঙ্গে ছাত্ররাও ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নেমে আসে। তাঁরা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনে নামেন।
হঠাৎ ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় আলবোর্জ এবং আরও কয়েক হাজার ইরানি রাস্তায় নেমে আসেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অচল করে দিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নিষেধ অমান্য করে রাস্তায় অবরোধ করেছেন। রাজধানী তেহরান থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জেলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, চার সন্তানের বাবা এই ব্যক্তির আর কোনো বিকল্প ছিল না। গত রোববার জাতীয় মুদ্রার মান ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। যা আলবোর্জের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যেই তিনি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য খাবি খাচ্ছিলেন।

আলবোর্জ বলেন, গতকাল আমরা রাস্তা অবরোধ করেছিলাম এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ঠেকিয়ে দিয়েছিলাম। লোকজন রাস্তায় বসে স্লোগান দিচ্ছিল যে নিরাপত্তা রক্ষীরা আমাদের হত্যা করতে পারে, কিন্তু আমরা তাদের সামনে আগাতে দেব না। যতক্ষণ না সরকার আরও দুর্বল হয়, আমরা দোকান খুলব না।
উল্লেখ্য, রোববার বিক্ষোভের সূচনা হয়। ওই দিন খোলা বাজারে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দাম প্রায় ১৪ লাখ ২০ হাজারে নেমে আসে। এটিই ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন হার। ক্ষুব্ধ দোকানিরা দোকান বন্ধ করে রাস্তায় নামেন। তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। বিভিন্ন সড়কে পথচারীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ ও ধর্মঘট চলছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে গত তিন বছরে ইরান সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছে।
প্রথমে এই বিক্ষোভ সীমিত ছিল তেহরানের ব্যবসায়ী ও দোকানিদের মধ্যে। এখন এটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষোভের প্রকাশে রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও এটি সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে।
এই আন্দোলন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের গভীরতা তুলে ধরছে।

ইরানে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ইরানের আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়াল। ইরান সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল নিয়েছে। দেশটি বিক্ষোভ ঠেকাতে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করেছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের আলোচনার কথা বলছে এবং কিছু ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সতকর্তাও জারি করেছে।
ব্যবসায়ীরা শুরু করা এই আন্দোলনে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। তারা সরকার বিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন। ২০২২ সালের পর এই বিক্ষোভকে সবচেয়ে বড় বলা হচ্ছে। আগের বিক্ষোভগুলো চাপ প্রয়োগ, দমন-পীড়নসহ নানান উপায়ে দমন করেছিল। কিন্তু এবারের বিক্ষোভ কি দমাতে পারবে ইরান সরকার। নাকি শেষ পর্যন্ত এই বিক্ষোভের জেরেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটবে?
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক খবরে বলা হয়েছে, এবার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বারের চেয়ে বেশ সতর্ক দেশটির কর্তৃপক্ষ। এবার এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকারি কর্তৃপক্ষ। এমনকি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো দমন-পীড়নও চালাচ্ছে না। উদ্দেশ্য একটাই পরিস্থিতি যেন আরও ঘোলাটে না হয়। উল্টো ‘জ্বালানি সঞ্চয় ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার’ কথা বলে সরকারি অফিস বন্ধ রাখছে। এই যেমন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশের ৩১ প্রদেশের মধ্যে ২৬টির সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়। একই কারণ দেখিয়ে তেহরানের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনলাইনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের তৃতীয় দিন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার সরকার জনগণের আন্দোলনের অধিকারের স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বলা হয়েছে।

সরকারের তথ্য অফিসের প্রধান আলি আহমাদনিয়াও বুধবার বলেছেন, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভকে মেনে নিয়েছে এবং সমালোচনা শুনবে। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে সব ধরনের সমালোচনার কথা শুনবে এবং কোনো ধরনের সহিংস আচরণের দিকে যাবে না। শুধু তাই নয়, সরকার এই ধরনের আচরণের ঘোরতর বিরোধী।
যদিও তার এই বক্তব্যকেও সামাজিকমাধ্যমজুড়ে সংশয়ের চোখে দেখা হচ্ছে। এক্সের (সাবেক টুইটার) এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, যদি সরকার মানুষকে সম্মানই করে এবং তাদের কথা শুনতোই তবে প্রথম দিনেই পদত্যাগ করে জনগণের কাতারে এসে দাঁড়াত। উল্টো সব ধরনের ঘাটতির মধ্যেই সরকার শূন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—এর মানে হলো তারা এখনো বুঝতেছে না কি ঘটছে।
সরকার সমঝোতার বার্তার পাশাপাশি কঠোর সতর্কতার কথাও উল্লেখ করছে। সরকারের এক পক্ষ নরমে সুরে কথা বলছে, আবার অন্য পক্ষ সুর চড়া করছে। ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মাদ মোভাহেদি-আজাদ ‘শান্তিপূর্ণ জীবিকা নির্বাহের প্রতিবাদ’কে সামাজিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সতর্ক করে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক বিক্ষোভকে নিরাপত্তাহীনতা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, অথবা বাহ্যিকভাবে পরিকল্পিত পরিস্থিতি বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করার যেকোনো প্রচেষ্টা’ সরকার দমন করবে।
এছাড়া সোমবার ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনের বার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির অভিজাত রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে আইআরজিসি বলেছে, এটি ‘যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহ, অস্থিরতা, অযৌক্তিক সংঘাত, বা নিরাপত্তা হুমকির’ মোকাবিলা করবে। ইসলামী বিপ্লবের শত্রুরা ‘বাছাই করা তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করে’ অস্থিরতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে।
কট্টরপন্থী কায়হান পত্রিকার সম্পাদক হোসেইন শরিয়তমাদারি দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা সংখ্যায় কম ছিলেন। আর তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ এনেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দোকানদাররা বিক্ষোভকারীদের থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন কারণ বিক্ষোভকারীরা যেসব স্লোগান দিচ্ছেন তাকে তিনি ‘ইহুদিবাদী শাসনের নির্দেশিত’ স্লোগান বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রেড গিল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার এবং সংসদ এক বছরের জন্য জরিমানাসহ কিছু কর সংক্রান্ত শর্তাবলী স্থগিতে সম্মত হয়েছে।
এই পদক্ষেপ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা প্রশমিত করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। ব্যবসায়ীদের বেঁচে থাকা কর ছাড়ের ওপরের চেয়ে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের দ্রুত সঙ্কুচিত ক্রয় ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। একইসঙ্গে এই ধরনের ছাড় বেতনভোগী কর্মীদের ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকিও তৈরি করে। কারণ তাঁরা কর দেওয়া এড়াতে পারেন না।
এছাড়া সরকার জনপ্রতি ৭০ হাজার কোটি ইরানিয়ান রিয়াল (প্রায় ৫ দশমিক ১৭ ডলার) মাসিক নগদ ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জনসাধারণের চাপ কমানোর চেষ্টা করেছে।
কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে ক্রমবর্ধমান বাজার মূল্যের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারা পরিবারগুলির জন্য সহায়তা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয় ক্ষমতার এতো কমেছে যে তাতে ক্রমবর্ধমান জনরোষকে শান্ত করতে খুব একটা কাজে লাগবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অনির্দিষ্ট সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে আগের বছরের আন্দোলনে আটকের তুলনায় তা কম বলে মনে হচ্ছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার তেহরানে খুব দ্রুত মার্কেট, সড়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগের বিক্ষোভগুলোতে যেমন হয়েছে, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করেছেন বলে কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বুধবার দেশটির দক্ষিণ ফার্স প্রদেশের ফাসা এবং লোরেস্তান প্রদেশের কৌহদাশত শহরে বিক্ষোভকারীরা গভর্নরেট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

অনলাইন প্রতিবেদনে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, ফাসায় ১৮ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। পরে অবশ্য একটি ভিডিওতে দেখা যায় ওই যুবক এখনো জীবিত এবং তিনি অক্ষত আছেন বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিক্ষোভ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়েছে। সেসব বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সরকারি বিরোধী স্লোগান দিয়েছেন।
সংঘর্ষের পর আলজাহরা, শরীফ এবং ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নিরাপত্তা প্রধানদের ‘অসদাচরণ এবং সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থতার’ কথা বলে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া তেহরানে আটক সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংস্কারবাদী লোকজন এই নজিরবিহীন বরখাস্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইরানের সংস্কারবাদী ফ্রন্টের প্রধান আজার মানসুরি এই পদক্ষেপকে ‘যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ উপেক্ষা করে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা অর্জন করা যাবে না যে তা স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইরানের বিক্ষোভ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা বলছেন, বিক্ষোভে দুর্বল হয়ে পড়া ইরান সরকার হয়তো শেষ ধাপে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামালা চালানোর চেষ্টা করতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তেহরান এখন কোনো যুদ্ধ চায় না এবং তাদের সক্ষমতাও খুব সীমিত। তবে হঠাৎ আক্রমণের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে এবং হঠাৎ আক্রমণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

সংবাদমাধ্যমটির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ সালের পর এ বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এখনকার এই বিক্ষোভ সহিংস দমন এবং পরবর্তী তীব্রতায় হয়তো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের পতন ঘটাতে পারে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ১৯৯৯-২০০০ সালে ছাত্র বিক্ষোভের সময়। তারপর ২০০৯-২০১০ সালে গ্রিন মুভমেন্ট এবং ২০১৭-২০১৮ সালে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময়, ২০১৯ সালে হঠাৎ তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর, ২০২১ সালে পানি ও রুটির ঘাটতির পর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যুর পর ২০২২-২০২৩ সালে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ শীর্ষক বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল।
‘ইরানের বিক্ষোভকারীরা হাততালির চেয়েও বেশি কিছুর প্রয়োজন, তাদের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থন প্রয়োজন’ শিরোনামের ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, শনিবার থেকে হাজার হাজার সাহসী ইরানি রাস্তায় নেমে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে ইরানি মুদ্রার পতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা দ্রুত এমন স্লোগান দিচ্ছেন যা তাঁদের গভীরতর ক্ষোভ যে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন।
এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যশ দ্য গার্ডিয়ানে “‘আমরা চাই মোল্লারা চলে যাক”: অর্থনৈতিক সংকটে ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ শুরু’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসপাহান শহরের আলবোর্জ নামে এক টেক্সটাইল ব্যবসায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আর পাশে বসে থাকবেন না। দোকান বন্ধ করে তিনিও রাস্তায় নেমে পড়েন। দোকান বন্ধ করে নামা অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিনি যোগ দেন। তাদের সঙ্গে ছাত্ররাও ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নেমে আসে। তাঁরা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনে নামেন।
হঠাৎ ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় আলবোর্জ এবং আরও কয়েক হাজার ইরানি রাস্তায় নেমে আসেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অচল করে দিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নিষেধ অমান্য করে রাস্তায় অবরোধ করেছেন। রাজধানী তেহরান থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জেলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, চার সন্তানের বাবা এই ব্যক্তির আর কোনো বিকল্প ছিল না। গত রোববার জাতীয় মুদ্রার মান ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। যা আলবোর্জের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যেই তিনি পরিবারের ভরণপোষণের জন্য খাবি খাচ্ছিলেন।

আলবোর্জ বলেন, গতকাল আমরা রাস্তা অবরোধ করেছিলাম এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ঠেকিয়ে দিয়েছিলাম। লোকজন রাস্তায় বসে স্লোগান দিচ্ছিল যে নিরাপত্তা রক্ষীরা আমাদের হত্যা করতে পারে, কিন্তু আমরা তাদের সামনে আগাতে দেব না। যতক্ষণ না সরকার আরও দুর্বল হয়, আমরা দোকান খুলব না।
উল্লেখ্য, রোববার বিক্ষোভের সূচনা হয়। ওই দিন খোলা বাজারে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দাম প্রায় ১৪ লাখ ২০ হাজারে নেমে আসে। এটিই ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন হার। ক্ষুব্ধ দোকানিরা দোকান বন্ধ করে রাস্তায় নামেন। তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। বিভিন্ন সড়কে পথচারীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ ও ধর্মঘট চলছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে গত তিন বছরে ইরান সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছে।
প্রথমে এই বিক্ষোভ সীমিত ছিল তেহরানের ব্যবসায়ী ও দোকানিদের মধ্যে। এখন এটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষোভের প্রকাশে রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও এটি সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে।
এই আন্দোলন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের গভীরতা তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্ক সিটির ১১২ তম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি নিউইউর্কের ওল্ড সিটি হলের নিচের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন।
২ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর বয়সে আরও এক বছর যোগ হলো। যুদ্ধ, বিগ্রহ, আনন্দ, বেদনা আর ঘটনার ঘনঘটার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইংরেজি বছর ২০২৫। পুরোনোকে পেছনে ফেলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ নতুন বছরকে উৎসব আনন্দে বরণ করছে।
৫ ঘণ্টা আগে
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হয়।
১৮ ঘণ্টা আগে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ হয়েছে।
১ দিন আগে