জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

আল-আকসার ইমামকে আটক করল ইসরায়েল, উত্তেজনা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ২২
আল-আকসা মসজিদের সামনে থেকে রমজানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করছেন মুসল্লিরা। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান শুরুর আগেই মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদের ইমাম শায়খ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, কোনো কারণ ছাড়াই মসজিদ থেকে আল-আব্বাসিকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আটকের নিন্দা জানিয়ে হামাস বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপ আল-আকসা মসজিদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন, মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা, রমজান মাসের প্রস্তুতি নিতে না দেওয়া এবং বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা বৃদ্ধি নিন্দনীয়। এসবের মাধ্যমে ইসরায়েল মসজিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ইহুদিকরণ ও ইবাদতের স্বাধীনতা সীমিত করার চেষ্টা করছে।

আটক করার আগে আল-আকসা মসজিদের ইমাম অভিযোগ করেন, রমজান শুরুর ঠিক আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁকে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে জেরুজালেমে প্রবেশের জন্য ১০ হাজার বিশেষ অনুমতির সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ পাস ছাড়া কেউ ঢুকতে করতে পারবেন না।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জমি দখলের নিন্দা ৮০ দেশের

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের বড় অঞ্চলগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনে ইসরায়েলের অনুমোদনের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের সদস্য ৮০টির বেশি দেশ। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদুল মঙ্গলবার জানায়, এ ঘটনায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফিলিস্তিনের জাতিসংঘ দূত রিয়াদ মানসুর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে ৮০টি রাষ্ট্র ও কয়েকটি সংস্থা বিবৃতি দিয়েছে। ইসরায়েলের একতরফা সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম তীরের বড় অঞ্চলগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করে ইসরায়েল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘ল্যান্ড টাইটেল সেটেলমেন্ট’ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হলো। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।

নিবন্ধনের অর্থ, যখন ইসরায়েল কোনো এলাকার জন্য জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করবে, সেই জমিতে দাবি থাকা যেকোনো ব্যক্তিকে মালিকানা প্রমাণের জন্য নথি জমা দিতে হবে। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে চলা দখলের কারণে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে মালিকানা প্রমাণের নথি হাজির করা অত্যন্ত কঠিন হবে এবং এই উদ্যোগ হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জমির অধিকার হারানোর কারণ হতে পারে।

প্রায় ৩ লাখ ফিলিস্তিনি এসব এলাকায় বসবাস করে। তারা কৃষি ও চারণভূমির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। জমিতে দখলদাররা বসতি স্থাপন করতে পারবে না।

Ad 300x250

সম্পর্কিত