leadT1ad

কর্মঘণ্টায় বিচারকরা ফেসবুক ব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ০১
সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

কর্মঘণ্টা চলাকালে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

অধস্তন আদালতের বিচারকদের সতর্ক করে বলেন, ‘কর্মঘণ্টা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক জীবনের “সেদিনই হবে শেষ দিন”।’

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘মামলার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে রায় বা আদেশ প্রদান করতে হবে।’

তিনি অধস্তন আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং বিচারকদের পেশাগত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে মামলার রায় প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার এবং বিচারিক কর্মঘণ্টার অপব্যবহার রোধে তিনি জিরো টলারেন্স প্রদর্শনের বার্তা দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি তার নির্দেশনায় বিচারিক সময়ের সদ্ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। অধস্তন আদালতের প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম চলে।

প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, রায় প্রদানে বিলম্ব হলে বিচারককে পুনরায় নথি পর্যালোচনা করতে হয়, যা সময়ের অপচয় এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ায়। এই দীর্ঘসূত্রতা রোধেই শুনানি শেষের এক সপ্তাহের মধ্যে রায় প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা রক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানান, বিচারকের আসনে বসে অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সততার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

বিচারিক কার্যক্রমের গাম্ভীর্য বজায় রাখতে আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী ও মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষ ছাড়া এজলাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং আদালত চত্বরকে হকার, চা বা ডাব বিক্রেতামুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া আইনজীবীদের ড্রেসকোড মেনে চলার বিষয়টি তদারকির দায়িত্বও বিচারকদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত