স্ট্রিম ডেস্ক

কূটনৈতিক টানাপড়েন বা সামরিক উত্তেজনা– কোনো কিছুই ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে বাধা হতে পারেনি। বছরের প্রথম দিনেই (১ জানুয়ারি) নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী নিজেদের পরমাণুকেন্দ্র এবং পারমাণবিক সুযোগ-সুবিধার তালিকা পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে।
গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক সংঘাতের রেশ এখনো রয়ে গেছে। এরপরও প্রমাণ করল, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারা। গত তিন দশকের বেশি চলে আসা এই প্রথা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম অবনতি, যুদ্ধাবস্থার সময়েও বন্ধ হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো– কেন বৈরীতা সত্ত্বেও পারমাণবিক ব্লু-প্রিন্ট বা মানচিত্র শত্রুর হাতে তুলে দেয়?
অবিশ্বাসের বাতাবরণে নিরাপত্তার দলিল
প্রক্রিয়াটির শেকড় গত শতাব্দীর আশির দশকের শেষের দিকে। তখন দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু এবং উভয় দেশই ছিল পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ভয় কাজ করছিল, যুদ্ধের সময় ভুলবশত কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কারও পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা হলে অকল্পনীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
এই ভীতি থেকেই ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তান ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে আক্রমণ নিষিদ্ধকরণ (অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য প্রোহিবিশন অব অ্যাটাক অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইনস্টলেশনস অ্যান্ড ফেসিলিটিস) চুক্তি করে। ১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি এই চুক্তি কার্যকর হয় এবং ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো দুই দেশ পরস্পরের পরমাণু স্থাপনার তালিকা বিনিময় করে। সেই থেকে গত ৩৪ বছর ধরে নিয়ম করে তালিকা হালনাগাদ ও আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
নথিতে ঠিক কী থাকে
জাতীয় নিরাপত্তার মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরকে কী ধরনের তথ্য দেয়– এমন প্রশ্ন স্বাভাবিক। চুক্তির আওতায় উভয় দেশ তাদের ভূখণ্ডের সুনির্দিষ্ট অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ উল্লেখ করে পারমাণবিক স্থাপনার অবস্থান দেয়। এর উদ্দেশ্য হলো– যুদ্ধের সময় যেন সামরিক বাহিনী জানে ঠিক কোন জায়গায় হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র বা রিসার্চ রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি উৎপাদন ইউনিট, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং আইসোটোপ পৃথকীকরণ কেন্দ্র।
এ ছাড়া যেসব স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তাজা তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা বর্জ্য সংরক্ষণ করা আছে– সেই গুদাম বা সংরক্ষণাগারের ঠিকানাও এই তালিকায় যুক্ত থাকে। মূলত, বেসামরিক বা সামরিক যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অবকাঠামো যেন প্রচলিত যুদ্ধের টার্গেটে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্য।
কেন যুদ্ধের চেয়েও চুক্তি বড়
বৈরী সম্পর্কের মধ্যে এমন স্বচ্ছতা বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে প্রধান কারণ যতটা না পারস্পরিক বিশ্বাস, তার চেয়ে বেশি ‘আত্মরক্ষা’। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রচলিত বোমা হামলা হলে তা পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের চেয়েও ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনা বিশ্বকে শিখিয়েছে, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ কোনো কাঁটাতারের বেড়া বা সীমান্ত মানে না।
ভারত কিংবা পাকিস্তান কেউ কারও পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করলে, নির্গত তেজস্ক্রিয় মেঘ বাতাসের গতির ওপর নির্ভর করে হামলাকারী দেশের নাগরিকদেরও মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলতে পারে। পরিবেশগত এই বিপর্যয় কয়েক প্রজন্ম চলতে পারে। তাই নিজের দেশকে তেজস্ক্রিয়তার ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে এবং অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক যুদ্ধ এড়াতে ভারত-পাকিস্তান তালিকা বিনিময়ে বাধ্য থাকে। একে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ বা পারস্পরিক আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ বলা হলেও, বাস্তবে এক প্রকার অস্তিত্ব রক্ষার কৌশল।
সংঘাতের মধ্যেও টিকে থাকা সেতু
গত তিন দশকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কারগিল যুদ্ধ হয়েছে, সংসদ ভবনে হামলা পরবর্তী ২০০১-০২ সালের চরম সামরিক উত্তেজনা দেখা গেছে, ২০১৬ সালের উরি হামলা এবং ২০১৯ সালের বালাকোট ও পুলওয়ামা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বৈরিতা চরম আকার ধারণ করেছিল।
এত কিছুর পরেও ১ জানুয়ারির এই তালিকা বিনিময়ের রুটিন কখনো ভঙ্গ হয়নি। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কথা বলেন না, ক্রিকেট খেলা বন্ধ থাকে কিংবা রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করা হয়, তখনো এই একটি চ্যানেল খোলা থাকে।
একই দিনে পরমাণুকেন্দ্রের তালিকার পাশাপাশি বন্দিদের তালিকা বিনিময়ের প্রথা চালু রেখেছে, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, পারমাণবিক নিরাপত্তার প্রশ্নে উভয় দেশই ন্যূনতম দায়িত্বশীলতা বজায় রাখে।
চুক্তির সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ
চুক্তির বড় সীমাবদ্ধতা হলো– এটি পারমাণবিক স্থাপনা বা অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করে না। চুক্তিতে পারমাণবিক কমান্ড সেন্টার বা মিসাইল ঘাঁটির তথ্য বিনিময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, দেশ দুটি একে অপরের রিঅ্যাক্টরে হামলা করবে না ঠিকই। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি থেকে বিরত থাকার কোনো অঙ্গীকার এই দলিলে নেই।
দক্ষিণ এশিয়ার অস্থির ভূ-রাজনীতিতে চুক্তিটি বিরল আলোকবর্তিকা। অবিশ্বাস ও ঘৃণার পাহাড় ডিঙিয়ে যে নিরাপত্তার স্বার্থে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রাখা সম্ভব, ভারত-পাকিস্তানের ১ জানুয়ারির বার্ষিক প্রথা তারই জীবন্ত প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস

কূটনৈতিক টানাপড়েন বা সামরিক উত্তেজনা– কোনো কিছুই ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে বাধা হতে পারেনি। বছরের প্রথম দিনেই (১ জানুয়ারি) নিয়মতান্ত্রিকভাবে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী নিজেদের পরমাণুকেন্দ্র এবং পারমাণবিক সুযোগ-সুবিধার তালিকা পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে।
গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক সংঘাতের রেশ এখনো রয়ে গেছে। এরপরও প্রমাণ করল, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারা। গত তিন দশকের বেশি চলে আসা এই প্রথা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম অবনতি, যুদ্ধাবস্থার সময়েও বন্ধ হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো– কেন বৈরীতা সত্ত্বেও পারমাণবিক ব্লু-প্রিন্ট বা মানচিত্র শত্রুর হাতে তুলে দেয়?
অবিশ্বাসের বাতাবরণে নিরাপত্তার দলিল
প্রক্রিয়াটির শেকড় গত শতাব্দীর আশির দশকের শেষের দিকে। তখন দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু এবং উভয় দেশই ছিল পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ভয় কাজ করছিল, যুদ্ধের সময় ভুলবশত কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কারও পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা হলে অকল্পনীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে।
এই ভীতি থেকেই ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তান ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে আক্রমণ নিষিদ্ধকরণ (অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য প্রোহিবিশন অব অ্যাটাক অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইনস্টলেশনস অ্যান্ড ফেসিলিটিস) চুক্তি করে। ১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি এই চুক্তি কার্যকর হয় এবং ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো দুই দেশ পরস্পরের পরমাণু স্থাপনার তালিকা বিনিময় করে। সেই থেকে গত ৩৪ বছর ধরে নিয়ম করে তালিকা হালনাগাদ ও আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
নথিতে ঠিক কী থাকে
জাতীয় নিরাপত্তার মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরকে কী ধরনের তথ্য দেয়– এমন প্রশ্ন স্বাভাবিক। চুক্তির আওতায় উভয় দেশ তাদের ভূখণ্ডের সুনির্দিষ্ট অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ উল্লেখ করে পারমাণবিক স্থাপনার অবস্থান দেয়। এর উদ্দেশ্য হলো– যুদ্ধের সময় যেন সামরিক বাহিনী জানে ঠিক কোন জায়গায় হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র বা রিসার্চ রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি উৎপাদন ইউনিট, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং আইসোটোপ পৃথকীকরণ কেন্দ্র।
এ ছাড়া যেসব স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তাজা তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা বর্জ্য সংরক্ষণ করা আছে– সেই গুদাম বা সংরক্ষণাগারের ঠিকানাও এই তালিকায় যুক্ত থাকে। মূলত, বেসামরিক বা সামরিক যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অবকাঠামো যেন প্রচলিত যুদ্ধের টার্গেটে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্য।
কেন যুদ্ধের চেয়েও চুক্তি বড়
বৈরী সম্পর্কের মধ্যে এমন স্বচ্ছতা বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে প্রধান কারণ যতটা না পারস্পরিক বিশ্বাস, তার চেয়ে বেশি ‘আত্মরক্ষা’। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রচলিত বোমা হামলা হলে তা পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের চেয়েও ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। চেরনোবিল বা ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনা বিশ্বকে শিখিয়েছে, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ কোনো কাঁটাতারের বেড়া বা সীমান্ত মানে না।
ভারত কিংবা পাকিস্তান কেউ কারও পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করলে, নির্গত তেজস্ক্রিয় মেঘ বাতাসের গতির ওপর নির্ভর করে হামলাকারী দেশের নাগরিকদেরও মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলতে পারে। পরিবেশগত এই বিপর্যয় কয়েক প্রজন্ম চলতে পারে। তাই নিজের দেশকে তেজস্ক্রিয়তার ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে এবং অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক যুদ্ধ এড়াতে ভারত-পাকিস্তান তালিকা বিনিময়ে বাধ্য থাকে। একে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ বা পারস্পরিক আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ বলা হলেও, বাস্তবে এক প্রকার অস্তিত্ব রক্ষার কৌশল।
সংঘাতের মধ্যেও টিকে থাকা সেতু
গত তিন দশকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কারগিল যুদ্ধ হয়েছে, সংসদ ভবনে হামলা পরবর্তী ২০০১-০২ সালের চরম সামরিক উত্তেজনা দেখা গেছে, ২০১৬ সালের উরি হামলা এবং ২০১৯ সালের বালাকোট ও পুলওয়ামা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক বৈরিতা চরম আকার ধারণ করেছিল।
এত কিছুর পরেও ১ জানুয়ারির এই তালিকা বিনিময়ের রুটিন কখনো ভঙ্গ হয়নি। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কথা বলেন না, ক্রিকেট খেলা বন্ধ থাকে কিংবা রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করা হয়, তখনো এই একটি চ্যানেল খোলা থাকে।
একই দিনে পরমাণুকেন্দ্রের তালিকার পাশাপাশি বন্দিদের তালিকা বিনিময়ের প্রথা চালু রেখেছে, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, পারমাণবিক নিরাপত্তার প্রশ্নে উভয় দেশই ন্যূনতম দায়িত্বশীলতা বজায় রাখে।
চুক্তির সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ
চুক্তির বড় সীমাবদ্ধতা হলো– এটি পারমাণবিক স্থাপনা বা অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করে না। চুক্তিতে পারমাণবিক কমান্ড সেন্টার বা মিসাইল ঘাঁটির তথ্য বিনিময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, দেশ দুটি একে অপরের রিঅ্যাক্টরে হামলা করবে না ঠিকই। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি থেকে বিরত থাকার কোনো অঙ্গীকার এই দলিলে নেই।
দক্ষিণ এশিয়ার অস্থির ভূ-রাজনীতিতে চুক্তিটি বিরল আলোকবর্তিকা। অবিশ্বাস ও ঘৃণার পাহাড় ডিঙিয়ে যে নিরাপত্তার স্বার্থে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রাখা সম্ভব, ভারত-পাকিস্তানের ১ জানুয়ারির বার্ষিক প্রথা তারই জীবন্ত প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস

দেশের রাজনীতি বর্তমানে এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন শঙ্কা রয়েছে, তেমনি সম্ভাবনাও কম নয়। তাই ২০২৬ সাল হতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ নির্ধারণের বছর। তবে দেশ ও দেশের রাজনীতি স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার চক্রে প্রবেশ করবে—তা অনেকাংশেই নির্ভর কর
১ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তিনি বাংলাদেশের সামরিক শাসন-পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণে এক কেন্দ্রীয় ও রূপান্তরমূলক ভূমিকা পালন করেন।
২ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনীতি ঐতিহাসিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত। এক প্রান্তে রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, অন্য প্রান্তে রয়েছে ধর্মীয় রাজনীতি। এই দুই মেরুর মাঝখানে একটি বিশাল শূন্যতা বিরাজমান ছিল। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বভাবত ধর্মপরায়ণ, কিন্তু তারা ধর্মান্ধ নয়। আবার তারা আধুনিকতায় বিশ্বাসী, কিন্তু শিকড়বিচ্ছিন্ন নয়।
২ দিন আগে
গত ২১ ডিসেম্বর কলকাতায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রধান মোহন ভাগবত ভারতের রাষ্ট্রীয় পরিচয় নিয়ে এমন এক বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক আদর্শের চিত্র স্পষ্ট করে তোলে।
৪ দিন আগে