তানিশা রহমানের লেখ
স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলা বর্ষবরণ উদ্ভাবণ যিনি করেন তাঁর নাম হচ্ছে শামীম।
এটা মূলত ৮০ দশকের আগেই যশোরে অল্পকিছু মানুষ পালন করতো। তখনও নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ছিল। তারপরে একটা সাংস্কৃতিক প্রাইভেট বিদ্যা প্রতিষ্ঠান এটাকে ১৯৮১ সালে যশোরে ওই সাংস্কৃতিক বিদ্যা প্রতিষ্ঠানটা বেসরকারীভাবে পালন করতে শুরু করে।
১৯৮৬ সালে এটা ঢাকায় আসে ওই শামীমের হাত ধরে। তখনও বেসরকারি ভাবে অল্পকিছু মানুষ পালন করতো।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার চারুকলা অনুষদ এটা মূলত সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালন করতে শুরু করে। সেখানেও শামীম ছিলো।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এটা তার পূর্বের ও আসল নামে পালিত হতে থাকে।
হঠাৎ দেশে একপক্ষ আসলো, যারা এটার নাম সেই মাহবুব জামাল শামীমের নাম আনন্দ শোভাযাত্রা পাল্টিয়ে দেয়।
কয়েকদিন আগে শামীম ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা দুজনই এই উৎসবের সেই আগের পূর্বের নামে ফিরে যেতে চান এবং আজ অনুষ্ঠানিকভাবে সেটা প্রকাশ করেন তারা।
যার হাত ধরে এটা সৃষ্টি এবং যিনি এটার উদ্ভাবণ করেন সেই মাহবুব জামাল শামীমই তার পূর্বের নামে ফিরে যেতে চান।
এটা নিয়ে দেশের পরাজিত শক্তির একশ্রেণীর হাউকাউ কান্নাকাটি শুরু হয়ে গিয়েছে।
আপনারা হাউকাউ করতে থাকেন আর আনন্দ শোভাযাত্রা তার আগামী পদযাত্রায় এগিয়ে যাক।
কথা হচ্ছে অন্যের তৈরী, অন্যের সৃষ্টি জিনিসের নাম পাল্টিয়ে তার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই।
যদি মেধা ও যোগ্যতা থাকে তাহলে শামীমের মত কোনো কিছু সৃষ্টি করে তারপরে তার নাম দেন বা চেঞ্জ করুন।
আমি কয়েকটি সত্য কথা দিয়ে উদাহরণ দেই:
১৯৯৪ সালে রাজশাহী, রংপুর বিভাগ বা উত্তরবঙ্গের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার মাঝখানে যমুনা সেতুর উপর একটা ব্রীজ নির্মাণের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
১৯৯৪ সালের ১ অক্টোবর যমুনা নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের জন্য সংসদে বিল পাশ হয়। ব্রীজটির নাম দেয়া হয় নদীর নাম অনুযায়ী ‘যমুনা বহুমূখী সেতু’। ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর সেই সেতু নির্মাণের কাজও শুরু হয়।
যমুনা সেতু তৈরী করে এক সরকার এবং এটা শেষ করে অন্য সরকার।
সেতু নির্মাণের সময় কিন্ত যমুনা নদীর নাম অনুযায়ী নাম ঠিকই ছিলো। কিন্ত সেতু উদ্বোধনের এক সপ্তাহ আগে তার নাম পুরাপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়।
মানে আগে যেই নামটি ছিলো সেটির নাম বাদ দিয়ে হয়ে যায় ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’।
ঠিক এইভাবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর সাফারি পার্কের নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। পিজি হাসপাতালের নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
মূল বিষয়ে আসি অন্যের তৈরী সৃষ্টিশীল জিনিসের নাম পরিবর্তনের মধ্যে কোনো বীরত্ব বা কৃতিত্ব নেই। আপনারা আনন্দ শোভাযাত্রার নাম পাল্টিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বানিয়েছেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও সেই উদ্ভাবক মাহবুব জামাল শামীম যিনি মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে আনন্দ শোভাযাত্রায় ফিরে গিয়েছে।
ভবিষ্যৎ আপনারা হয়তো আবার সেটার নাম আনন্দ শোভাযাত্রা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে যাবেন। কিন্ত ১০০ বছর পরেও আবার ওটা আনন্দ শোভাযাত্রাতে কেউ ফিরিয়ে আনবে।
১০০-২০০ বছর পরেও এভাবেই চলতে থাকবে কেউ আনন্দ শোভাযাত্রায় ফিরে আসবে আবার কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফিরে যাবে।
মানে বিতর্ক চলতেই থাকবে। বিতর্ক টা আপনারাই করেছেন মাহবুব জামাল শামীমের তৈরী আনন্দ শোভাযাত্রাকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বানিয়ে।
বিষয় হচ্ছে আপনাদের শামীমের মত কোনো কিছু তৈরী বা সৃষ্টি করার ক্ষমতা নেই, বরং কারোর সৃষ্টিশীল জিনিসের নাম পরিবর্তন করতে আপনারা পারদর্শী।
শুরু থেকেই থার্টি-ফাস্ট নাইট, থার্টি-ফাস্ট নাইট ই আছে। চাইনিজ নববর্ষ সহ অনন্য নববর্ষ তাদের পূর্বের নামেই আছে। শুধু ১৯৯৬ সালে বিতর্কটা শুরু করেছেন আপনারাই।
(লেখাটি তানিশা রহমানের ফেসবুক থেকে নেওয়া। লেখকের ভাষা ও বানানরীতি অবিকৃত রাখা হয়েছে)

বাংলা বর্ষবরণ উদ্ভাবণ যিনি করেন তাঁর নাম হচ্ছে শামীম।
এটা মূলত ৮০ দশকের আগেই যশোরে অল্পকিছু মানুষ পালন করতো। তখনও নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ছিল। তারপরে একটা সাংস্কৃতিক প্রাইভেট বিদ্যা প্রতিষ্ঠান এটাকে ১৯৮১ সালে যশোরে ওই সাংস্কৃতিক বিদ্যা প্রতিষ্ঠানটা বেসরকারীভাবে পালন করতে শুরু করে।
১৯৮৬ সালে এটা ঢাকায় আসে ওই শামীমের হাত ধরে। তখনও বেসরকারি ভাবে অল্পকিছু মানুষ পালন করতো।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার চারুকলা অনুষদ এটা মূলত সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালন করতে শুরু করে। সেখানেও শামীম ছিলো।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এটা তার পূর্বের ও আসল নামে পালিত হতে থাকে।
হঠাৎ দেশে একপক্ষ আসলো, যারা এটার নাম সেই মাহবুব জামাল শামীমের নাম আনন্দ শোভাযাত্রা পাল্টিয়ে দেয়।
কয়েকদিন আগে শামীম ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা দুজনই এই উৎসবের সেই আগের পূর্বের নামে ফিরে যেতে চান এবং আজ অনুষ্ঠানিকভাবে সেটা প্রকাশ করেন তারা।
যার হাত ধরে এটা সৃষ্টি এবং যিনি এটার উদ্ভাবণ করেন সেই মাহবুব জামাল শামীমই তার পূর্বের নামে ফিরে যেতে চান।
এটা নিয়ে দেশের পরাজিত শক্তির একশ্রেণীর হাউকাউ কান্নাকাটি শুরু হয়ে গিয়েছে।
আপনারা হাউকাউ করতে থাকেন আর আনন্দ শোভাযাত্রা তার আগামী পদযাত্রায় এগিয়ে যাক।
কথা হচ্ছে অন্যের তৈরী, অন্যের সৃষ্টি জিনিসের নাম পাল্টিয়ে তার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই।
যদি মেধা ও যোগ্যতা থাকে তাহলে শামীমের মত কোনো কিছু সৃষ্টি করে তারপরে তার নাম দেন বা চেঞ্জ করুন।
আমি কয়েকটি সত্য কথা দিয়ে উদাহরণ দেই:
১৯৯৪ সালে রাজশাহী, রংপুর বিভাগ বা উত্তরবঙ্গের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার মাঝখানে যমুনা সেতুর উপর একটা ব্রীজ নির্মাণের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
১৯৯৪ সালের ১ অক্টোবর যমুনা নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের জন্য সংসদে বিল পাশ হয়। ব্রীজটির নাম দেয়া হয় নদীর নাম অনুযায়ী ‘যমুনা বহুমূখী সেতু’। ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর সেই সেতু নির্মাণের কাজও শুরু হয়।
যমুনা সেতু তৈরী করে এক সরকার এবং এটা শেষ করে অন্য সরকার।
সেতু নির্মাণের সময় কিন্ত যমুনা নদীর নাম অনুযায়ী নাম ঠিকই ছিলো। কিন্ত সেতু উদ্বোধনের এক সপ্তাহ আগে তার নাম পুরাপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়।
মানে আগে যেই নামটি ছিলো সেটির নাম বাদ দিয়ে হয়ে যায় ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’।
ঠিক এইভাবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর সাফারি পার্কের নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। পিজি হাসপাতালের নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
মূল বিষয়ে আসি অন্যের তৈরী সৃষ্টিশীল জিনিসের নাম পরিবর্তনের মধ্যে কোনো বীরত্ব বা কৃতিত্ব নেই। আপনারা আনন্দ শোভাযাত্রার নাম পাল্টিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বানিয়েছেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও সেই উদ্ভাবক মাহবুব জামাল শামীম যিনি মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে আনন্দ শোভাযাত্রায় ফিরে গিয়েছে।
ভবিষ্যৎ আপনারা হয়তো আবার সেটার নাম আনন্দ শোভাযাত্রা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে যাবেন। কিন্ত ১০০ বছর পরেও আবার ওটা আনন্দ শোভাযাত্রাতে কেউ ফিরিয়ে আনবে।
১০০-২০০ বছর পরেও এভাবেই চলতে থাকবে কেউ আনন্দ শোভাযাত্রায় ফিরে আসবে আবার কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফিরে যাবে।
মানে বিতর্ক চলতেই থাকবে। বিতর্ক টা আপনারাই করেছেন মাহবুব জামাল শামীমের তৈরী আনন্দ শোভাযাত্রাকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বানিয়ে।
বিষয় হচ্ছে আপনাদের শামীমের মত কোনো কিছু তৈরী বা সৃষ্টি করার ক্ষমতা নেই, বরং কারোর সৃষ্টিশীল জিনিসের নাম পরিবর্তন করতে আপনারা পারদর্শী।
শুরু থেকেই থার্টি-ফাস্ট নাইট, থার্টি-ফাস্ট নাইট ই আছে। চাইনিজ নববর্ষ সহ অনন্য নববর্ষ তাদের পূর্বের নামেই আছে। শুধু ১৯৯৬ সালে বিতর্কটা শুরু করেছেন আপনারাই।
(লেখাটি তানিশা রহমানের ফেসবুক থেকে নেওয়া। লেখকের ভাষা ও বানানরীতি অবিকৃত রাখা হয়েছে)

নিউইয়র্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মেয়র পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন। জোহরান মামদানি ওল্ড সিটি হলের নিচের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে এই শপথ নেন। শপথবাক্য পাঠ করান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। ধর্মগ্রন্থে ছুঁয়ে শপথের ব্যাপারটি আদালত, রাষ্ট্রপ্রধানের অভি
৪ ঘণ্টা আগে
নতুন বছর মানেই কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যাওয়া নয়; এটি মানবসভ্যতার জন্য পেছনে তাকিয়ে শেখার, সামনে তাকিয়ে নতুন করে ভাবার সময়। যুদ্ধ, সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু বিপর্যয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণে ক্লান্ত মানবসভ্যতা নতুন বছরে যে প্রত্যাশাটি সবচেয়ে বেশি করে, তা হলো শান্তি।
৭ ঘণ্টা আগে
বছর শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। অদ্ভুত এক মানসিক তাড়না কাজ করছে অনেকের মধ্যে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার আগেই যেন সব হিসাব মেলাতে হবে। একেই বলা হচ্ছে ‘ওয়ান লাস্ট টাইম’ সাইকোলজি। কিন্তু বছর পাল্টালেই তো জীবন বদলাবে না। তবে কেন এই মানসিক অস্থিরতা?
১ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত গোটা জাতি। রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক পালন শুরু হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে শোক জানিয়েছেন ব্যান্ড সংগীত তারকারা।
১ দিন আগে