আল-জাজিরার প্রতিবেদন
স্ট্রিম ডেস্ক

২০২৫ সালের শেষ দিনে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার আয়াজ সাদিক প্রকাশ্যে করমর্দন করেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য নেতার উপস্থিতিতে তাঁরা এই সৌজন্য বিনিময় করেন। দুই দেশের ক্রিকেট দল সাম্প্রতিক সময়ে পরস্পর হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানালেও, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো পথে হেঁটে পাকিস্তানি প্রতিনিধির দিকে হাত বাড়িয়ে দেন।
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের নেতা আয়াজ সাদিক বুধবার রাতে বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সেই সাক্ষাতের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর কাছে হেঁটে এসে কুশল জানালে তিনি সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ান; এরপর জয়শঙ্কর হাসিমুখে নিজের পরিচয় দিয়ে করমর্দন করেন। সাদিক নিজের পরিচয় দিতে গেলে জয়শঙ্কর তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি তাঁকে চেনেন, তাই আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কক্ষে প্রবেশের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষ করে পাকিস্তানের প্রতিনিধির দিকে মনোযোগ দেন। পাকিস্তানি রাজনীতিকের মতে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতির পূর্ণ গুরুত্ব বুঝেই হাসিমুখে এমন সৌজন্য দেখিয়েছেন। পরে করমর্দনের ছবিগুলো সাদিকের কার্যালয় ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের এক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের মে মাসে পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ চার দিনের জন্য ভয়াবহ আকাশযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করেছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে চলা দীর্ঘ বিরোধের ইতিহাসে এটিকেই সবচেয়ে গুরুতর অধ্যায় বলে মনে করা হয়। গত বছরের এশিয়া কাপের উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছিল যে ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তাঁর সতীর্থরা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতেও রাজি ছিলেন না। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল ভারত। রাজনৈতিক এই বৈরিতার প্রভাব যখন খেলার মাঠেও সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, তখন বোঝা যায় সংঘাতের বীজ কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে। তবে জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক করমর্দনের ঘটনা এমন থমথমে পরিস্থিতির মাঝে কিছুটা হলেও ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
ভারতের অনেক বিশ্লেষক ঢাকার এই সাক্ষাৎকে ভালোভাবে গ্রহণ না করলেও, পাকিস্তানের অনেকে একে স্থবির সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির আভাস হিসেবে দেখছেন। ইসলামাবাদভিত্তিক বিশ্লেষক মোস্তফা হায়দার সাইয়েদের মতে, নতুন বছরে জয়শঙ্কর ও আয়াজ সাদিকের এই সাক্ষাৎ ইতিবাচক ঘটনা। দীর্ঘদিন যুদ্ধের উত্তেজনায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ন্যূনতম সৌজন্যবোধটুকু হারিয়ে গিয়েছিল, হাত মেলানোর মধ্য দিয়ে তা ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো দুই পারমাণবিক প্রতিবেশীর বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল, কিন্তু গত এপ্রিলে ভারতশাসিত কাশ্মীরের পাহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে ছয় দশকের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়।
পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে। কিন্তু মে মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে চার দিন ধরে তীব্র বিমানযুদ্ধ হয়। দুই দেশই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একে অপরের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে যা ছিল সবচেয়ে বড় সংঘাত।
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে লড়াই থামার পর পাকিস্তান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলেও, ভারত দাবি করে যে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই কেবল কর্মকর্তাদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। এরপর থেকে সম্পর্কের পারদ চড়েই আছে; পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক মহড়ার কারণে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন থমথমে পরিস্থিতির মাঝে ঢাকার ওই করমর্দন বিশ্লেষকদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত সরদার মাসুদ খান বিষয়টিকে আনন্দদায়ক কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যর্থনা অভাবনীয়। জাতিসংঘের সাবেক এই দূত আরও মনে করিয়ে দেন যে মে মাসে যুদ্ধবিরতির সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষকেই নিরপেক্ষ কোনো দেশে আলোচনায় বসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিল।
ভারত সেই সময় ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। দিল্লি জোর দিয়ে বলছে, পাকিস্তান যতদিন ভারতে হামলা চালানোর জন্য সীমান্ত পেরিয়ে যোদ্ধাদের পাঠানো বন্ধ না করবে, ততদিন আলোচনার কোনো মানে হয় না। ভারত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। সম্প্রতি পাকিস্তানও একই অভিযোগ তুলেছে ও দাবি করেছে, নয়াদিল্লি তাদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিচ্ছে।
উভয় পক্ষই অন্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। তবে পাকিস্তান স্বীকার করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মাটিতে মুম্বাই হামলাসহ বড় কয়েকটি হামলার অপরাধীরা পাকিস্তান থেকে এসেছিল।
তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়, তবে তার জন্য বাংলাদেশ খুব একটা আদর্শ জায়গা নাও হতে পারে। বাংলাদেশ একসময় পাকিস্তানের অংশ ছিল।
মাসুদ খান বলেন, ‘যে কারণেই হোক (করমর্দন), এটি অঞ্চলের জন্য ভালো। তবে সামনের পথে অনেক যদি ও কিন্তু রয়েছে।’
ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল হাসান লস্কর আল জাজিরাকে বলেন, ‘তাঁরা দুজন কাকতালীয়ভাবে একই ঘরে ছিলেন এবং দুই দেশের সিনিয়র নেতারা এমন পরিস্থিতিতে যা করতেন, তাঁরা তা-ই করেছেন। তাঁরা হাত মিলিয়েছেন এবং কুশল বিনিময় করেছেন। এই সাক্ষাতের সব ছবি বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এসেছে, ভারত থেকে নয়।’
লস্কর জানান, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দীর্ঘস্থায়ী সংলাপ হয়নি। ওই হামলায় বন্দুকধারীরা ১৬৬ জনকে হত্যা করেছিল।
লস্কর আরও বলেন, ‘অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়তে থাকায় দুই পক্ষের কোনোভাবে একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা কঠিন।’
মে মাসের সংঘাতের পর সবচেয়ে বড় ফলাফল ছিল ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান বলছে এই পদক্ষেপ তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি, কারণ তারা সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলাম নদীর পানির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। এসব নদীর উৎস ভারত বা ভারতশাসিত কাশ্মীর।
সাবেক কূটনীতিক খান বলেন, ভারত যদি তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে ও চুক্তিতে ফিরে আসে, তবে তা আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং সম্পর্কের উন্নয়নের ইঙ্গিত দেবে।
তবে লস্কর খুব একটা আশাবাদী নন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা অনুসরণ করা কারও কাছে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত হওয়া কোনো চমক নয়। এটি দুই পক্ষের মধ্যে নতুন এক স্থায়ী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নেই।’
গত এক বছরে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম দেশটিকে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মিত্র ও সাবেক বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাতের পর পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছে। দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সফরও হয়েছে।
ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে। ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ও সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তাঁর ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলেছেন।
গাজার নিরাপত্তা তদারকির জন্য প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হওয়ার কথা পাকিস্তানের। এ ছাড়া তারা সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।
এদিকে ভারত ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। ট্রাম্প বারবার মে মাসের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেছেন ও বেশ কয়েকটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন করার মতো মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভারতের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যেখানে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৯ শতাংশ। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে ২০২৬ সালে কি দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলবে?
পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক সাইয়েদ বলেন, দুই দেশের ‘জাতীয় স্বার্থে’ অন্তত ন্যূনতম সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। তিনি বলেন, ‘তাদের খুব সাধারণ ও ন্যূনতম এজেন্ডা থাকা উচিত, যেখানে নিয়ম, রেড লাইন বা সীমা এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী ঠিক করা হবে। এরপর উভয় পক্ষের সম্মতিতে মৌলিক পর্যায়ের আলোচনা টেবিলে আনা যেতে পারে।’ কিন্তু মে মাসের তিক্ত সংঘাতের কারণে খান এ বিষয়ে সন্দিহান।
লস্কর বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ভারত হামলার প্রতিক্রিয়ায় ধাপে ধাপে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ও মে ২০২৫-এর সংঘাত দেখিয়েছে যে উভয় পক্ষ কতদূর যেতে পারে।
লস্কর মনে করেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে নেপথ্য যোগাযোগ আবার শুরু করা জরুরি, কারণ অতীতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
লস্কর বলেন, ‘ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কর্তৃক ক্ষমতা সংহতকরণ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পাকিস্তান-সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তি—সবই এমন বিষয় যা এই অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে এবং দিল্লিকেও এসব বিবেচনায় নিতে হবে।’
সাইয়েদ ঐকমত্য প্রকাশ করে বলেন, সহিংসতার ঘটনাগুলো দোষারোপ না করে মোকাবিলা করার জন্য একটি ‘পূর্বনির্ধারিত ও পারস্পরিক সম্মত প্রক্রিয়া’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ভারতও বুঝেছে যে তারা পাকিস্তানের অস্তিত্বকে অস্বীকার বা উপেক্ষা করে পার পাবে না। পাকিস্তান খুব গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং ভারত এখন অন্তত ন্যূনতম স্তরের সম্পর্ক রাখতে বাধ্য।’
~কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন তুফায়েল আহমদ

২০২৫ সালের শেষ দিনে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার আয়াজ সাদিক প্রকাশ্যে করমর্দন করেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য নেতার উপস্থিতিতে তাঁরা এই সৌজন্য বিনিময় করেন। দুই দেশের ক্রিকেট দল সাম্প্রতিক সময়ে পরস্পর হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানালেও, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো পথে হেঁটে পাকিস্তানি প্রতিনিধির দিকে হাত বাড়িয়ে দেন।
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের নেতা আয়াজ সাদিক বুধবার রাতে বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সেই সাক্ষাতের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর কাছে হেঁটে এসে কুশল জানালে তিনি সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ান; এরপর জয়শঙ্কর হাসিমুখে নিজের পরিচয় দিয়ে করমর্দন করেন। সাদিক নিজের পরিচয় দিতে গেলে জয়শঙ্কর তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি তাঁকে চেনেন, তাই আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কক্ষে প্রবেশের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষ করে পাকিস্তানের প্রতিনিধির দিকে মনোযোগ দেন। পাকিস্তানি রাজনীতিকের মতে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতির পূর্ণ গুরুত্ব বুঝেই হাসিমুখে এমন সৌজন্য দেখিয়েছেন। পরে করমর্দনের ছবিগুলো সাদিকের কার্যালয় ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের এক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের মে মাসে পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ চার দিনের জন্য ভয়াবহ আকাশযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করেছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে চলা দীর্ঘ বিরোধের ইতিহাসে এটিকেই সবচেয়ে গুরুতর অধ্যায় বলে মনে করা হয়। গত বছরের এশিয়া কাপের উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছিল যে ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তাঁর সতীর্থরা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতেও রাজি ছিলেন না। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল ভারত। রাজনৈতিক এই বৈরিতার প্রভাব যখন খেলার মাঠেও সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, তখন বোঝা যায় সংঘাতের বীজ কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে। তবে জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক করমর্দনের ঘটনা এমন থমথমে পরিস্থিতির মাঝে কিছুটা হলেও ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
ভারতের অনেক বিশ্লেষক ঢাকার এই সাক্ষাৎকে ভালোভাবে গ্রহণ না করলেও, পাকিস্তানের অনেকে একে স্থবির সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির আভাস হিসেবে দেখছেন। ইসলামাবাদভিত্তিক বিশ্লেষক মোস্তফা হায়দার সাইয়েদের মতে, নতুন বছরে জয়শঙ্কর ও আয়াজ সাদিকের এই সাক্ষাৎ ইতিবাচক ঘটনা। দীর্ঘদিন যুদ্ধের উত্তেজনায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ন্যূনতম সৌজন্যবোধটুকু হারিয়ে গিয়েছিল, হাত মেলানোর মধ্য দিয়ে তা ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে বাস্তবতা হলো দুই পারমাণবিক প্রতিবেশীর বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল, কিন্তু গত এপ্রিলে ভারতশাসিত কাশ্মীরের পাহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে ছয় দশকের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়।
পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে। কিন্তু মে মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে চার দিন ধরে তীব্র বিমানযুদ্ধ হয়। দুই দেশই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একে অপরের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে যা ছিল সবচেয়ে বড় সংঘাত।
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে লড়াই থামার পর পাকিস্তান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলেও, ভারত দাবি করে যে তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই কেবল কর্মকর্তাদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। এরপর থেকে সম্পর্কের পারদ চড়েই আছে; পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক মহড়ার কারণে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন থমথমে পরিস্থিতির মাঝে ঢাকার ওই করমর্দন বিশ্লেষকদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত সরদার মাসুদ খান বিষয়টিকে আনন্দদায়ক কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যর্থনা অভাবনীয়। জাতিসংঘের সাবেক এই দূত আরও মনে করিয়ে দেন যে মে মাসে যুদ্ধবিরতির সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষকেই নিরপেক্ষ কোনো দেশে আলোচনায় বসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিল।
ভারত সেই সময় ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। দিল্লি জোর দিয়ে বলছে, পাকিস্তান যতদিন ভারতে হামলা চালানোর জন্য সীমান্ত পেরিয়ে যোদ্ধাদের পাঠানো বন্ধ না করবে, ততদিন আলোচনার কোনো মানে হয় না। ভারত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে। সম্প্রতি পাকিস্তানও একই অভিযোগ তুলেছে ও দাবি করেছে, নয়াদিল্লি তাদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিচ্ছে।
উভয় পক্ষই অন্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। তবে পাকিস্তান স্বীকার করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মাটিতে মুম্বাই হামলাসহ বড় কয়েকটি হামলার অপরাধীরা পাকিস্তান থেকে এসেছিল।
তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়, তবে তার জন্য বাংলাদেশ খুব একটা আদর্শ জায়গা নাও হতে পারে। বাংলাদেশ একসময় পাকিস্তানের অংশ ছিল।
মাসুদ খান বলেন, ‘যে কারণেই হোক (করমর্দন), এটি অঞ্চলের জন্য ভালো। তবে সামনের পথে অনেক যদি ও কিন্তু রয়েছে।’
ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল হাসান লস্কর আল জাজিরাকে বলেন, ‘তাঁরা দুজন কাকতালীয়ভাবে একই ঘরে ছিলেন এবং দুই দেশের সিনিয়র নেতারা এমন পরিস্থিতিতে যা করতেন, তাঁরা তা-ই করেছেন। তাঁরা হাত মিলিয়েছেন এবং কুশল বিনিময় করেছেন। এই সাক্ষাতের সব ছবি বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এসেছে, ভারত থেকে নয়।’
লস্কর জানান, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দীর্ঘস্থায়ী সংলাপ হয়নি। ওই হামলায় বন্দুকধারীরা ১৬৬ জনকে হত্যা করেছিল।
লস্কর আরও বলেন, ‘অবিশ্বাসের মাত্রা বাড়তে থাকায় দুই পক্ষের কোনোভাবে একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা কঠিন।’
মে মাসের সংঘাতের পর সবচেয়ে বড় ফলাফল ছিল ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান বলছে এই পদক্ষেপ তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি, কারণ তারা সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলাম নদীর পানির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। এসব নদীর উৎস ভারত বা ভারতশাসিত কাশ্মীর।
সাবেক কূটনীতিক খান বলেন, ভারত যদি তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে ও চুক্তিতে ফিরে আসে, তবে তা আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং সম্পর্কের উন্নয়নের ইঙ্গিত দেবে।
তবে লস্কর খুব একটা আশাবাদী নন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা অনুসরণ করা কারও কাছে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত হওয়া কোনো চমক নয়। এটি দুই পক্ষের মধ্যে নতুন এক স্থায়ী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নেই।’
গত এক বছরে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম দেশটিকে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মিত্র ও সাবেক বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাতের পর পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেছে। দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সফরও হয়েছে।
ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে। ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ও সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তাঁর ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলেছেন।
গাজার নিরাপত্তা তদারকির জন্য প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হওয়ার কথা পাকিস্তানের। এ ছাড়া তারা সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।
এদিকে ভারত ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। ট্রাম্প বারবার মে মাসের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেছেন ও বেশ কয়েকটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন করার মতো মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভারতের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যেখানে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৯ শতাংশ। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে ২০২৬ সালে কি দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলবে?
পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক সাইয়েদ বলেন, দুই দেশের ‘জাতীয় স্বার্থে’ অন্তত ন্যূনতম সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। তিনি বলেন, ‘তাদের খুব সাধারণ ও ন্যূনতম এজেন্ডা থাকা উচিত, যেখানে নিয়ম, রেড লাইন বা সীমা এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী ঠিক করা হবে। এরপর উভয় পক্ষের সম্মতিতে মৌলিক পর্যায়ের আলোচনা টেবিলে আনা যেতে পারে।’ কিন্তু মে মাসের তিক্ত সংঘাতের কারণে খান এ বিষয়ে সন্দিহান।
লস্কর বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ভারত হামলার প্রতিক্রিয়ায় ধাপে ধাপে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ও মে ২০২৫-এর সংঘাত দেখিয়েছে যে উভয় পক্ষ কতদূর যেতে পারে।
লস্কর মনে করেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে নেপথ্য যোগাযোগ আবার শুরু করা জরুরি, কারণ অতীতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
লস্কর বলেন, ‘ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কর্তৃক ক্ষমতা সংহতকরণ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পাকিস্তান-সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তি—সবই এমন বিষয় যা এই অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে এবং দিল্লিকেও এসব বিবেচনায় নিতে হবে।’
সাইয়েদ ঐকমত্য প্রকাশ করে বলেন, সহিংসতার ঘটনাগুলো দোষারোপ না করে মোকাবিলা করার জন্য একটি ‘পূর্বনির্ধারিত ও পারস্পরিক সম্মত প্রক্রিয়া’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ভারতও বুঝেছে যে তারা পাকিস্তানের অস্তিত্বকে অস্বীকার বা উপেক্ষা করে পার পাবে না। পাকিস্তান খুব গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং ভারত এখন অন্তত ন্যূনতম স্তরের সম্পর্ক রাখতে বাধ্য।’
~কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন তুফায়েল আহমদ

ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সৌদি সীমান্তের কাছে সরকারি বাহিনী ও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) মধ্যে এই লড়াই চলছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত ও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে এসটি
৫ ঘণ্টা আগে
ইরানের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে ব্যবসায়ীরা আন্দোলন শুরু করলেও, পরে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকরা যোগ দেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
জাপানের সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। সেই তুলনায় সংসদ ভবনে নারীদের জন্য টয়লেট সংখ্যা কম। সেই জন্য অন্তত ৬০ নারী আইনপ্রণেতা টয়লেট বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। এবার সেই লড়াইয়ে যোগ দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইছি।
১৬ ঘণ্টা আগে
সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস-মন্টানা স্কি রিসোর্টে থার্টি ফার্স্ট নাইটের পার্টি চলাকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন মতে, একটি জনাকীর্ণ বারে ঘটা এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন।
১ দিন আগে