জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় কী নিয়ে আগ্রহী ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

চলতি মাসের ১১ তারিখে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের ৪৭তম বর্ষপূর্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় দফায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জেনেভায় পৌঁছেছেন। এই আলোচনার লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং নতুন সামরিক সংঘাত এড়ানো। পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিনিময়ে ইরান তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, খনিতে যৌথ বিনিয়োগ এবং এমনকি বিমান ক্রয়ের মতো অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে আলোচনা করতে চায়।

এদিকে, দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরুর কয়েক দিন আগে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইরানি এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি চাইছে ইরান যা উভয় পক্ষের জন্য অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে ওয়াশিংটনের। সেই বিরোধ মেটাতে এবং নতুন করে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে চলতি মাসের শুরুতে পুনরায় আলোচনায় বসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, আলোচনার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান আলোচনা সফল না হলে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়েছে।

স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পছন্দ করেন। তবে এটি নাও হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন।

রুবিও বলেন, আগে কেউ কখনো ইরানের সঙ্গে সফল চুক্তি করতে পারেনি। তবে আমরা চেষ্টা করব।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে ইরানও। তবে রবিবার দেশটি কিছুটা নমনীয় ভাব দেখিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে—ইরানের অর্থনৈতিক কূটনীতিবিষয়ক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক হামিদ কানবারী বলেছেন, চুক্তির স্থায়িত্বের স্বার্থে এটি অপরিহার্য যে যুক্তরাষ্ট্রও যেন উচ্চ ও দ্রুত অর্থনৈতিক লাভজনক ক্ষেত্রগুলো থেকে উপকৃত হয়।

কানবারী বলেন, তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, খনিতে যৌথ বিনিয়োগ এবং এমনকি বিমান ক্রয়ের মতো অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তিনিও এও যুক্তি দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি।

শুক্রবার একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারসহ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া, রবিবার একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে রুবিও বলেছেন, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তারা সেখানে যাচ্ছেন। দেখা যাক এর ফলাফল কী হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে এবং জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ-এর প্রধান ও অন্যদের সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জেনেভায় গেছেন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার প্রস্তুতি ব্যক্ত করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি রবিবার বিবিসিকে বলেন, ওয়াশিংটন চুক্তি করতে চায় কি না তা প্রমাণ করার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।

এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার ইরানি পরমাণু প্রধানের দেওয়া বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে পরমাণু প্রধান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তাদের সর্বোচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকে সরে আসায় রাজি হতে পারে। একে পরমাণু কর্মসূচির ইস্যুতে ইরানের নমনীয়তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তবে তিনি এও স্পষ্ট করে বলেন, তেহরান ‘শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ মেনে নেবে না, যা অতীতে আলোচনার একটি বড় বাধা ছিল। কারণ ওয়াশিংটন ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখে। যদিও ইরান এ ধরনের অস্ত্রের কথা অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে সিরিজ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে চীনে ইরানের তেল রপ্তানি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে—এমন সিদ্ধান্তে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্মত হয়েছেন।

ইরানের তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশই যায় চীনে। ফলে এই বাণিজ্যে কোনো সংকোচন এলে তা ইরানের তেলের রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন ট্রাম্প। চুক্তিটির ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। কিন্তু চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে তেহরানের ওপর পুনরায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটি বহুপাক্ষিক হলেও বর্তমান আলোচনা কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে আলোচনা অনুষ্ঠানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ওমান।

Ad 300x250

সম্পর্কিত