ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন। এই আলোচনার লক্ষ্য উত্তেজনা কমানো এবং নতুন কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো। তবে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আগে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালকের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাঘচি লেখেন, ‘ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি করার জন্য আমি জেনেভায় এসেছি। হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ আলোচনার টেবিলে নেই।’
দশকের পর দশক ধরে চলা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নিরসনে চলতি মাসের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনা শুরু করে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীসহ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যখন মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ এড়াতে চেষ্টা করছেন।
আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরে তিনি ইরানের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসির সঙ্গে কারিগরি আলোচনা করবেন।
জাতিসংঘের এই পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে। তেহরান বলেছে, সেখানে বিকিরণের ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম পরিদর্শন সম্পন্ন করতে আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল প্রয়োজন।
আরাঘচি আরও জানান, তিনি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামাদ আল বুসাইদি-এর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। তিনিই চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফার আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিলেন।
ইরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ দাবিতে রাজি হবে না এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন ‘সর্বোত্তম ঘটনা’ হবে এবং তিনি দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছেন।
জেনেভার আলোচনায় হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিত্ব করতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জেরাড কুশনার থাকতে পারেন।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষ দায়ী। বিশেষ করে ৮ ও ৯ জানুয়ারির রাতে সহিংসতায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে তারা জানায়।