জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার অভিযোগে জয়-পলকের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ০১
ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার অভিযোগে জয়-পলকের বিরুদ্ধে বিচার শুরু। ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের সামনে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রসিকিউশনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর দাবি করেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলক জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। দুজনই আইসিটি খাতের দায়িত্বে ছিলেন। পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে তাঁরা গণহত্যায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।’

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বিশ্ববাসীর কাছে হত্যাযজ্ঞের চিত্র আড়াল করতে তাঁরা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কৌশল নেন। ঢাকায় তখন ব্যাপকহারে গুলি ও হত্যাযজ্ঞ চলে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন যেন আরও তীব্র না হয়; তাই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

যখন মা বলেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন, যখন বলবে নো, তখন ব্লক

সূচনা বক্তব্যে প্রসিকিউশন দালিলিক প্রমাণ হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মধ্যকার একটি টেলিফোন কথোপকথনের উদ্ধৃতি দেন। ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখের ওই ফোনালাপে পলক বলেন, ‘কতটুকু অঘটন ঘটতে পারে সেটার একটা বার্তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের পরিষ্কারভাবে দেওয়া উচিত। আমি লিস্ট পাঠিয়েছি, উনি (সজীব ওয়াজেদ জয়) ৮টা অ্যাপ্রুভ করে দিয়েছেন। উনি বলেছেন, "তুমি রেডি থাকো যখন মা বলেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন, যখন বলবে নো, তখন ব্লক।"’

প্রসিকিউশনের দাবি, এই কথোপকথন প্রমাণ করে যে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত আসত সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি এই নির্দেশনা দিতেন। আর পলক বাস্তবায়ন করতেন।

কাদেরের মামলায় শহীদ ওসমানের জবানবন্দি গ্রহণ প্রসঙ্গ

প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, অন্য একটি মামলায় (ওবায়দুল কাদেরের মামলা) শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছেন। ওসমান হাদি আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার ছিলেন। মৃত্যুর আগে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে তিনি যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য আমরা আইনের ১৯ ধারায় আবেদন করেছিলাম। যেহেতু তিনি শহীদ হয়েছেন তাই আইন অনুযায়ী তাঁর পূর্বের রেকর্ড করা বক্তব্যকেই আদালত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।’

আজ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য শেষ হলেও কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। কারণ হিসেবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালে অন্য একটি মামলায় (জিয়াউল আহসানের মামলা) সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জেরা চলমান থাকায় সময়ের অভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি জয়-পলক মামলার প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আহত ভিকটিম, নিহতদের স্বজন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিটিআরসি কর্মকর্তারা রয়েছেন। গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত