
চালের উচ্চ দাম গ্রামীণ মানুষকে গমের দিকে ধাবিত করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে, গম এখন চালের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য হয়ে উঠেছে। এটি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে নতুন গতি দিচ্ছে।

এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে এই নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটি তৈরি হয়েছে। ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ এর আওতায় সম্পন্ন এই প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যাংকটি দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে দ্রুত অগ্রগতির আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

২০২৫ সালকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বিজয়ের বছর বলা যাবে না, আবার একেবারে ভেঙে পড়ার গল্পও নয়। এই বছরটা যেন মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নৌকা; পেছনে তীব্র স্রোত, সামনে অজানা গন্তব্য।

আমরা শহরে বসবাস করতে গিয়ে ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। কংক্রিটের দেয়াল, লোহার গ্রিল আর যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে শ্বাস নেওয়ার জায়গাটুকুও যেন সংকুচিত হয়ে এসেছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে রাজশাহীর সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা আহমুদুর রহমান সুজনের ছাদবাগান আমাদের কাছে এক বিকল্প জীবনের প্রস্তাব।

তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাস, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের বিস্তার, নতুন নতুন স্টার্টআপ উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এখনই বাংলাদেশের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। প্রশ্ন হলো, এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন আমরা নেতৃত্ব নিতে পারছি না?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আজ এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের পথে। প্রযুক্তির ঝড়ো স্রোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই হয়ে উঠেছে পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। সংসদে ২০২৪ সালে পাস হওয়া পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ডিজিটাল ব্যাংক গাইডলাইন ব্যাংকিং খাতকে নতুন কাঠামোয় বেঁধে দিয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ২০২৫ সালে ২১ ট্রিলিয়ন টাকার সীমা পেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকেই শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু অর্থনীতির ভেতর থেকে বিষয়টি দেখলে বোঝা যায় এটি আমাদের আর্থিক বাস্তবতার একটি স্পষ্ট বার্তা। রাজস্ব সংগ্রহ যেমন বাড়েনি, উন্নয়ন ব্যয় তেমনই ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে।

আমার দৃষ্টিতে সংকটের সময়ে গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো মানুষের মনকে স্থির করা। সংবাদ কেবল তথ্য নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। যখন অর্থনীতি চাপের মুখে, তখন শিরোনামের একটি ভুল শব্দই বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা যায়, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার যৌথ পরীক্ষা।

চলতি অর্থবছরে ডিসেম্বরে সরকারের বাজেট সংশোধনের ঘোষণা গভীর অর্থনৈতিক সংকট নির্দেশ করে। ক্রমবর্ধমান ব্যয়, রাজস্ব ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে এই পদক্ষেপ কি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা, নাকি আসন্ন নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা অর্জনের রাজনৈতিক কৌশল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কাগজ-কলমে দেশের অর্থনীতিকে যতই ঊর্ধ্বগতির দেখানো হোক, বাজারে গিয়ে তার আলাদা চেহারাটাই দেখা যায়। বাজারে ঢুকলেই বোঝা যায়, কীভাবে টাকার দুর্বলতা নীরবে মানুষের দৈনন্দিনকে বদলে দেয়।