জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইকনোমিক টাইমসের প্রতিবেদন

নেতানিয়াহু কোথায়?

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৫: ১১
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু মারা গেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সোমবার এই সংবাদ প্রচার করে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানে সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই নেতানিয়াহু ও তাঁর পরিবারের অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে। ইরানি সেনাবাহিনী এক পর্যায়ে দাবি করেন, ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ‘নিহত বা আহত হতে পারেন’। এই বক্তব্যের পর থেকেই তেহরানভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়াতে থাকে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক জনসম্মুখে অনুপস্থিতি, তাঁর বাসভবনের চারপাশে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কয়েকটি কূটনৈতিক সফর হঠাৎ করে স্থগিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে। এসব তথ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

এদিকে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতানিয়াহুকে হত্যার দাবি ভাইরাল হয়। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, তেল আবিবে ইরানের বিমান হামলায় নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। আবার কোথাও বলা হয়, একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির আহত হয়েছেন।

তবে এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, ইরানের কোনো বিমান হামলায় নেতানিয়াহু বা তাঁর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু হামলার শিকার হননি। একইভাবে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির আহত হওয়ার দাবিও ভিত্তিহীন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ ধরনের দাবি বিশ্বাস করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নেতানিয়াহু কি জীবিত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জীবিত আছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তেহরানে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে। কিছু পোস্টে ফ্লাইট রাডারের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গোপনে দেশ ছেড়ে জার্মানিতে চলে গেছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই বাছাই না করে অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়, ইসরায়েলি এই নেতা নিহত হয়েছেন।

তবে এসব দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জীবিত আছেন এবং তাঁকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া হত্যার গুজব ভিত্তিহীন।

নেতানিয়াহুকে তেল আবিবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে। তিনি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সরকারি কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

সর্বশেষ গত ৯ মার্চ তাঁকে ইসরায়েলের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর পোর্ট আসদদে দেখা গেছে। সেখানে তিনি ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর মধ্যেও দেশের সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে একটি পেশাদার সফর পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করেছেন।

ওই বার্তায় আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরায়েলের সামুদ্রিক বাণিজ্য সচল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।

নেতানিয়াহুর ভাইকে নিয়ে গুজব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু তেল আবিবে ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন।

এসব পোস্টে আরও দাবি করা হয়, একই হামলায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতাহিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু পেশায় একজন চিকিৎসক ও লেখক। রেডিওলজিস্ট হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইদ্দো নেতানিয়াহু জেরুয়ালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেছেন।

চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গেও যুক্ত।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত