খাদিজা আক্তার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বসছে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।
নতুন গঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। সংসদে এবার বিরোধী দলের সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ১৫১ জন নতুন সংসদ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। ফলে আইনসভায় নতুন নেতৃত্ব ও ভিন্নধর্মী আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তরুণ ও নবীন এই সদস্যদের অংশগ্রহণে সংসদের বিতর্ক, নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানে সংসদের অধিবেশন আরও প্রাণবন্ত হওয়ার প্রত্যাশাও করা হচ্ছে।
১৫১ জন নতুন সংসদ সদস্য মধ্যে থেকে কয়েকজন আলোচিত সংসদ সদস্যকে নিয়েই এই লেখা।

নাহিদ ইসলাম
ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা- ১১ মূলত বাড্ডা থানা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১ থেকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং বাড্ডা, বেরাইদ, ভাটারা ও সাতারকুল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকাও এই সংসদীয় আসনের আওতায় পড়ে।
এই আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, ঢাকা-১১কে একটি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত আধুনিক নগরাঞ্চলে রূপান্তর করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেছিলেন, এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ নাগরিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জলাবদ্ধতা ও নগর ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো সমাধান এবং নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তরুণদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানিয়েছিলেন নাগিদ ইসলাম। তিনি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার তরুণদের এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।
এনসিপির এই নেতা বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় বলেছিলেন, ‘আমরা ওসমান হাদীসহ জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, লুটপাট, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সবই আমাদের অঙ্গীকার। তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং জুলাই প্রজন্মের স্বপ্ন ও অধিকার রক্ষাও আমাদের অঙ্গীকার।’
সংসদ সদস্য হিসেবে নাহিদ ইসলাম এসব অঙ্গীকার কতটা রক্ষা করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা এগারোবাসী।

হান্নান মাসউদ
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে ‘জেলা’ করার প্রতিশ্রুতি, ‘নদী ভাঙন’ রোধে কার্যক্রর ব্যবস্থাসহ ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছিলেন, ‘হাতিয়াকে তিনটি উপজেলা নিয়ে জেলায় রূপান্তর করা হবে। বুড়িরচরকে পৌরসভা, সোনাদিয়া ও জাহাজমারাকে উপজেলা এবং চানন্দী ও হরনী ইউনিয়ন যুক্ত করে নতুন আরেকটি উপজেলা করে হাতিয়াকে জেলা করা হবে।’
গত ৮ জানুয়ারি হাতিয়া উপজেলার এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন হান্নান মাউসদ।
ওই জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ‘সারা বিশ্বের মধ্যে এই দ্বীপকে ভ্যাটিকান সিটির মতো উন্নত ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
নদীভাঙন রোধকে প্রথম ইশতেহার রেখে ২১ দফা ইশতেহার জনসভায় তুলে ধরেন আবদুল হান্নান মাসউদ। তাঁর ২১ দফা ইশতহারের মধ্যে রয়েছে– নদী ভাঙন রোধে কংক্রিটের ব্লকবাঁধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্রসড্যাম তৈরি। রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্তের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, সীমান্তবিরোধ নিরসন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন, ফেরি ও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণ, পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন, জেলেদের হয়রানি বন্ধে প্রদক্ষেপ ও জীবন মান উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা, নদীবন্দর বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে সমূলে উৎপাটনে ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, ওছখালী পৌরসভার উন্নয়ন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়ন, স্থায়ী নৌ–ক্যাস্প প্রতিষ্ঠা, হাইটেক পার্ক নির্মাণ, শ্বেতপত্র প্রকাশ ও মুখোমুখি জবাবদিহি।

হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘এখানে আর টেন্ডারবাজি চলবে না। অন্যায় কাজ নিয়ে আমার বাবাও যদি আসে, তাকে বেঁধে রাখবেন।’
আমার সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, অনিয়ম-দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুলিশে সোপর্দ করবেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘নিয়মের মধ্যে থাকলে আমার পক্ষ-বিপক্ষ সবাই আমার কাছে নিরাপদ। যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন, আমি তাদের ওপর কোনো প্রতিশোধ নেব না। আসুন আমরা সবাই মিলে ইনসাফের সমাজ বিনির্মাণ করি।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেবিদ্বার উপজেলায় সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা পায়—এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী জনগণের অধিকার নিয়ে খেলতে পারবে না।’
প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদে যাচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে পারেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেবিদ্বারবাসী।

আখতার হোসন
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন তাঁর নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেন গত ৩১ জানুয়ারি। ইশতেহারে তিনি তিস্তা নদী সুরক্ষা ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীর উন্নয়ন, শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সুরক্ষা, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, মাদক নির্মূল করা, শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র তৈরি, পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ জীবন-জীবিকার মনোনয়নে ১০টি খাতে ৪৯ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন আখতার।
ইশতেহার অনুযায়ী আখতার এখন কতটা কাজ করতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

আব্দুল্লাহ আল আমিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সরব ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জলাবদ্ধতা, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিবেশ, স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছিলেন, ‘এসব সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই। এসব সমস্যা মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। ত্রাসের রাজত্ব থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়াই আমার লক্ষ্য।’
নতুন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আব্দুল্লাহ আল আমিন তাঁর লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি তাঁর ইশতেহারে বাউফলের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ৮ দফা অঙ্গীকার এবং ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৬০ দিনের মধ্যে মাদক নির্মূল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন এবং ৯০ দিনের মধ্যে সকল প্রকার দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বগা সেতু বাস্তবায়ন, কালাইয়া–পটুয়াখালী–বগা–বাহেশ্বর সড়ক টু-লেনে উন্নীতকরণ, নদী তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী সিসি ব্লক ও বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি।
বাউফলবাসী এখন শফিকুল ইসলাম মাসুদের ইশতেহারের বাস্তবায়ন দেখতে চান।

আমির হামজা
আখ চাষির ন্যাযমূল্য নিশ্চিত করা, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণ করা, শিল্পায়নের প্রসার ঘটিয়ে শিল্প হাব তৈরি করা, চালের রাজধানী খাজা নগরকে বিশেষ শিল্পাঞ্চল ঘোষণা করা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, রেলস্টেশন নির্মাণ, কুষ্টিয়া পৌরসভাকে সিটি কপোরেশন করা ইত্যাদি ছিল আমির হামজার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমির হামজা তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পালন করবেন বলেই বিশ্বাস কুষ্টিয়াবাসীর।

ইশরাক হোসেন
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন গ্যাস সংকট, মাদক, ট্রাফিক জ্যাম ও পরিবেশ দূষণসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক বলেন, আমরা গ্যাসের সমস্যাটিকে এখন এক নাম্বার প্রায়রিটিতে রাখছি। এই সংকট প্রবল আকার ধারণ করেছে। এছাড়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।
ইশরাক হোসেন জানান, তাঁর পরিকল্পনা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী স্তরে বিভক্ত। উন্নয়নের জন্য সময় প্রয়োজন। যদি তিনি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পোরেন, তাহলে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলবেন, যা এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানের স্থায়ী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
দেখা যাক, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।

ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনকে মানবিক ও জবাবদিহিমূলক করাসহ ৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তাঁর ৯ দফা নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল—নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত জীবন, কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, থানা প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান, তিতাস ও ওয়াসার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়, ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা ও নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাস্তা, ফুটপাত, কালভার্ট ও ড্রেনেজ উন্নয়ন করা, জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, বিল্ডিং কোড ও বর্জ্য ফেলার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ হোস্টেল সহায়তা এবং নারীবান্ধব পরিবহন নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করা, স্থানীয়দের অংশগ্রহণে জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ বিহারি ক্যাম্প গড়ে তোলা, সহায়তা ডেস্ক ও দ্রুত অভিযোগ-ফলোআপ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করা, ইত্যাদি।

নুরুল হক
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গলাচিপা-দশমিনাকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জনপদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত ইশতেহারে তিনি উল্লেখ বলেছিলেন, দ্বীপ-বেষ্টিত এই অবহেলিত জনপদের মানুষের জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই রাজনীতিতে এসেছি। এলাকার হানাহানি ও বিদ্বেষ দূর করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
ইশতেহারে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আধুনিকায়ন, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এই তরুণ নেতা।
কোটা আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতার কাছে গলাচিপা-দশমিনাবাসীর প্রত্যাশা বিপুল। তিনি তাঁর ইশতেহারে দেওয়া প্রুতিশ্রুতিগুলো কতটা পূরণ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বসছে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশন ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।
নতুন গঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। সংসদে এবার বিরোধী দলের সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ১৫১ জন নতুন সংসদ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। ফলে আইনসভায় নতুন নেতৃত্ব ও ভিন্নধর্মী আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তরুণ ও নবীন এই সদস্যদের অংশগ্রহণে সংসদের বিতর্ক, নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানে সংসদের অধিবেশন আরও প্রাণবন্ত হওয়ার প্রত্যাশাও করা হচ্ছে।
১৫১ জন নতুন সংসদ সদস্য মধ্যে থেকে কয়েকজন আলোচিত সংসদ সদস্যকে নিয়েই এই লেখা।

নাহিদ ইসলাম
ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা- ১১ মূলত বাড্ডা থানা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১ থেকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং বাড্ডা, বেরাইদ, ভাটারা ও সাতারকুল ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকাও এই সংসদীয় আসনের আওতায় পড়ে।
এই আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, ঢাকা-১১কে একটি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত আধুনিক নগরাঞ্চলে রূপান্তর করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেছিলেন, এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ নাগরিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে তিনি কাজ করবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জলাবদ্ধতা ও নগর ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো সমাধান এবং নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তরুণদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানিয়েছিলেন নাগিদ ইসলাম। তিনি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার তরুণদের এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।
এনসিপির এই নেতা বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় বলেছিলেন, ‘আমরা ওসমান হাদীসহ জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, লুটপাট, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সবই আমাদের অঙ্গীকার। তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং জুলাই প্রজন্মের স্বপ্ন ও অধিকার রক্ষাও আমাদের অঙ্গীকার।’
সংসদ সদস্য হিসেবে নাহিদ ইসলাম এসব অঙ্গীকার কতটা রক্ষা করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা এগারোবাসী।

হান্নান মাসউদ
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে ‘জেলা’ করার প্রতিশ্রুতি, ‘নদী ভাঙন’ রোধে কার্যক্রর ব্যবস্থাসহ ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছিলেন, ‘হাতিয়াকে তিনটি উপজেলা নিয়ে জেলায় রূপান্তর করা হবে। বুড়িরচরকে পৌরসভা, সোনাদিয়া ও জাহাজমারাকে উপজেলা এবং চানন্দী ও হরনী ইউনিয়ন যুক্ত করে নতুন আরেকটি উপজেলা করে হাতিয়াকে জেলা করা হবে।’
গত ৮ জানুয়ারি হাতিয়া উপজেলার এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন হান্নান মাউসদ।
ওই জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ‘সারা বিশ্বের মধ্যে এই দ্বীপকে ভ্যাটিকান সিটির মতো উন্নত ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
নদীভাঙন রোধকে প্রথম ইশতেহার রেখে ২১ দফা ইশতেহার জনসভায় তুলে ধরেন আবদুল হান্নান মাসউদ। তাঁর ২১ দফা ইশতহারের মধ্যে রয়েছে– নদী ভাঙন রোধে কংক্রিটের ব্লকবাঁধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্রসড্যাম তৈরি। রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্তের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, সীমান্তবিরোধ নিরসন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন, ফেরি ও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণ, পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন, জেলেদের হয়রানি বন্ধে প্রদক্ষেপ ও জীবন মান উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা, নদীবন্দর বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে সমূলে উৎপাটনে ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, ওছখালী পৌরসভার উন্নয়ন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়ন, স্থায়ী নৌ–ক্যাস্প প্রতিষ্ঠা, হাইটেক পার্ক নির্মাণ, শ্বেতপত্র প্রকাশ ও মুখোমুখি জবাবদিহি।

হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে নির্বাচিত এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘এখানে আর টেন্ডারবাজি চলবে না। অন্যায় কাজ নিয়ে আমার বাবাও যদি আসে, তাকে বেঁধে রাখবেন।’
আমার সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, অনিয়ম-দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুলিশে সোপর্দ করবেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘নিয়মের মধ্যে থাকলে আমার পক্ষ-বিপক্ষ সবাই আমার কাছে নিরাপদ। যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন, আমি তাদের ওপর কোনো প্রতিশোধ নেব না। আসুন আমরা সবাই মিলে ইনসাফের সমাজ বিনির্মাণ করি।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেবিদ্বার উপজেলায় সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা পায়—এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী জনগণের অধিকার নিয়ে খেলতে পারবে না।’
প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদে যাচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে পারেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেবিদ্বারবাসী।

আখতার হোসন
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন তাঁর নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেন গত ৩১ জানুয়ারি। ইশতেহারে তিনি তিস্তা নদী সুরক্ষা ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীর উন্নয়ন, শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সুরক্ষা, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, মাদক নির্মূল করা, শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র তৈরি, পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ জীবন-জীবিকার মনোনয়নে ১০টি খাতে ৪৯ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন আখতার।
ইশতেহার অনুযায়ী আখতার এখন কতটা কাজ করতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

আব্দুল্লাহ আল আমিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সরব ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জলাবদ্ধতা, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিবেশ, স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছিলেন, ‘এসব সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই। এসব সমস্যা মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। ত্রাসের রাজত্ব থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়াই আমার লক্ষ্য।’
নতুন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আব্দুল্লাহ আল আমিন তাঁর লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি তাঁর ইশতেহারে বাউফলের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ৮ দফা অঙ্গীকার এবং ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৬০ দিনের মধ্যে মাদক নির্মূল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন এবং ৯০ দিনের মধ্যে সকল প্রকার দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বগা সেতু বাস্তবায়ন, কালাইয়া–পটুয়াখালী–বগা–বাহেশ্বর সড়ক টু-লেনে উন্নীতকরণ, নদী তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী সিসি ব্লক ও বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি।
বাউফলবাসী এখন শফিকুল ইসলাম মাসুদের ইশতেহারের বাস্তবায়ন দেখতে চান।

আমির হামজা
আখ চাষির ন্যাযমূল্য নিশ্চিত করা, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণ করা, শিল্পায়নের প্রসার ঘটিয়ে শিল্প হাব তৈরি করা, চালের রাজধানী খাজা নগরকে বিশেষ শিল্পাঞ্চল ঘোষণা করা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, রেলস্টেশন নির্মাণ, কুষ্টিয়া পৌরসভাকে সিটি কপোরেশন করা ইত্যাদি ছিল আমির হামজার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমির হামজা তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পালন করবেন বলেই বিশ্বাস কুষ্টিয়াবাসীর।

ইশরাক হোসেন
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন গ্যাস সংকট, মাদক, ট্রাফিক জ্যাম ও পরিবেশ দূষণসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক বলেন, আমরা গ্যাসের সমস্যাটিকে এখন এক নাম্বার প্রায়রিটিতে রাখছি। এই সংকট প্রবল আকার ধারণ করেছে। এছাড়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।
ইশরাক হোসেন জানান, তাঁর পরিকল্পনা স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী স্তরে বিভক্ত। উন্নয়নের জন্য সময় প্রয়োজন। যদি তিনি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পোরেন, তাহলে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলবেন, যা এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানের স্থায়ী কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
দেখা যাক, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।

ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনকে মানবিক ও জবাবদিহিমূলক করাসহ ৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তাঁর ৯ দফা নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল—নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত জীবন, কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, থানা প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান, তিতাস ও ওয়াসার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়, ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা ও নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাস্তা, ফুটপাত, কালভার্ট ও ড্রেনেজ উন্নয়ন করা, জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, বিল্ডিং কোড ও বর্জ্য ফেলার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ হোস্টেল সহায়তা এবং নারীবান্ধব পরিবহন নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করা, স্থানীয়দের অংশগ্রহণে জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ বিহারি ক্যাম্প গড়ে তোলা, সহায়তা ডেস্ক ও দ্রুত অভিযোগ-ফলোআপ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করা, ইত্যাদি।

নুরুল হক
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গলাচিপা-দশমিনাকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জনপদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত ইশতেহারে তিনি উল্লেখ বলেছিলেন, দ্বীপ-বেষ্টিত এই অবহেলিত জনপদের মানুষের জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই রাজনীতিতে এসেছি। এলাকার হানাহানি ও বিদ্বেষ দূর করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
ইশতেহারে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আধুনিকায়ন, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এই তরুণ নেতা।
কোটা আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতার কাছে গলাচিপা-দশমিনাবাসীর প্রত্যাশা বিপুল। তিনি তাঁর ইশতেহারে দেওয়া প্রুতিশ্রুতিগুলো কতটা পূরণ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
৫ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যুতে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
৫ ঘণ্টা আগে
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সুরক্ষাসহ ১২ দফা কর্মসূচির আলোকে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন ধারার রাজনৈতিক দলের রূপরেখা ঘোষণা করতে আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
সরকার জনগণকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
১১ ঘণ্টা আগে