শোয়েব সাম্য সিদ্দিক

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। রাতের আঁধার তখনো পুরোপুরি কাটেনি। আমেরিকা আর ইসরাইলের যুদ্ধবিমান একসঙ্গে ঢুকে পড়ে ইরানের আকাশে। অপারেশন 'এপিক ফিউরি'। মিসাইল আর বোমার আঘাত হতে থাকে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে। বোমা পড়ে স্কুলে। নিহত হয় শত শত শিশু। সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও নিহত হন। পরদিন সকালে বিশ্বের মানুষ চোখ খুলল এক ভিন্ন পৃথিবীতে।
সেই হামলার চেয়েও বড় ধাক্কা এলো কয়েক ঘণ্টার ভেতরেই। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে দিল। হুঁশিয়ারি দিল, যে জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করবে তাকে ডুবিয়ে দেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যেখানে দিনে একশোরও বেশি জাহাজ এই সরু পথ পেরিয়ে যেত, মার্চের শুরুতে সেই পথ কার্যত মৃত।
আজকে পৃথিবীর দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই একটিমাত্র পথে আটকে আছে। আটকে আছে বিশ্বের ৩১ শতাংশ সমুদ্রপথের অপরিশোধিত তেল। আটকে আছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, যা বৈশ্বিক বাজারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
একটা সরু জলপথ বন্ধ হয়ে পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি টলমল করছে। শেয়ারবাজার ধসছে। জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। বিশ্ববাণিজ্য এলোমেলো। এখন প্রশ্ন হলো, এই যুদ্ধ থামবে কীভাবে? কে থামাবে?
কেউ জানে না। কারণ যে দেশগুলো অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে মধ্যস্থতার ভূমিকায় নেমেছিল, তারা আজ নিজেরাই আগুনের ভেতরে। কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলা হয়েছে। যাদের মুখে এতদিন শান্তির কথা শোনা গেছে, তারা নিজেরাই আজ কোণঠাসা। মধ্যস্থতাকারীর যে চেয়ারটা এতদিন কাতার বা আমিরাত দখল করে রাখত, সেই চেয়ারটা আজ ফাঁকা পড়ে আছে।
ঠিক এই ফাঁকা চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে একটা প্রশ্ন জাগছে। এই জায়গায় বাংলাদেশ কি এগিয়ে আসতে পারে না? প্রশ্নটা শুনে অনেকে হাসবেন। ভাববেন, বাংলাদেশ আবার মধ্যস্থতা করবে? আমরা তো নিজেদের সমস্যাই সামলাতে পারি না। কিন্তু একটু থামুন। এই হাসির জবাব দেওয়ার জন্য কোনো কল্পনার আশ্রয় নিতে হবে না। ইতিহাসের পাতা উল্টালেই উত্তর মিলবে।
১৯৭৮ সাল, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচন। একপাশে দাঁড়িয়ে আছে জাপান, পঞ্চাশের দশক থেকে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি। আরেকপাশে মাত্র সাত বছর বয়সী একটি ছোট্ট দেশ, বাংলাদেশ। ভোট হলো। ফল বেরোল। বাংলাদেশ জিতে গেল। পুরো বিশ্ব অবাক।
এই বিজয়ের পেছনে কুশিলব ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের সঙ্গে এমন গভীর বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন যে সেই দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। রাজা-বাদশাহদের কাছে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু আরেক রাষ্ট্রনেতা ছিলেন না, ছিলেন এক বিশ্বাসযোগ্য বন্ধুর মুখ।
তারপর এলো ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ১৯৮০ সাল। লক্ষ লক্ষ মানুষ মরছে। আরব দুনিয়া দুই ভাগ হয়ে গেছে। সেই ভয়াবহ সংকটেও বাংলাদেশ চুপ করে বসে থাকেনি। ওআইসির শান্তি কমিটিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছে। জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আনার চেষ্টায় ভূমিকা রেখেছে। পরে জাতিসংঘের ইউএনআইআইএমওজি মিশনে বাংলাদেশি সেনারা মাঠে ছিলেন পর্যবেক্ষক হিসেবে, এক পর্যায়ে সেই মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বও পালন করেছে বাংলাদেশ।
জিয়াউর রহমানের নীতি ছিল-- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়। এই সহজ কথাটাই তাঁকে আরব দুনিয়ার আস্থার কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিল। এই ঐতিহ্যটা কি আজ কাজে আসতে পারে?
পারে। পারার কারণটাও স্পষ্ট।
আজকের বাংলাদেশ আমেরিকার শত্রু নয়। ইরানের শত্রু নয়। ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও বৈরিতাও নেই। আর মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা কোনো চুক্তির কাগজে আঁকা নয়। এই সম্পর্ক লেখা আছে লক্ষ লক্ষ পরিবারের ঘামে, শ্রমে, বছরের পর বছরের বিশ্বাসে।।
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, জর্ডানে আমাদের ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষ কাজ করে। তারা শুধু রেমিট্যান্স পাঠায় না। তারা প্রতিদিন বাংলাদেশের হয়ে একটা বিশ্বাসের সেতু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই বন্ধনটা কোনো বড় দেশও কূটনীতির টেবিলে বসে কিনে নিতে পারবে না।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের শীর্ষ অবদানকারীদের একজন। সর্বোচ্চ সৈন্য পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম উঠেছে। এই গ্রহণযোগ্যতা বছরের পর বছর ধরে অর্জন করা হয়েছে। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সংকট হলে বাংলাদেশের পতাকা সেখানে যায়। এই পরিচয়টাই বড় সম্পদ। এমন পরিস্থিতিতে যদি বাংলাদেশের বাংলাদেশ মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে সামনে দাঁড়ায়, তাহলে সেটা কি বাতুলতা হবে? একেবারেই নয়। কারণ মধ্যস্থতা মানে এই নয় যে বাংলাদেশের কথায় কামান থামবে। মধ্যস্থতা মানে হলো একটি বিশ্বাসযোগ্য মুখ উভয়পক্ষকে বলছে, আলোচনার টেবিলে আসুন। সেই আহ্বান শুনতে হলে যে দেশটি ডাকছে তাকে সবপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। বাংলাদেশ ঠিক সেই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছে আজ।
আর বাংলাদেশের নিজেরও এই যুদ্ধে সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে। কাতার আর আমিরাত থেকে বাংলাদেশ তার বিশাল এলএনজি আমদানির জোগান পায়। হরমুজ বন্ধ থাকলে সেই গ্যাস আর আসবে না। শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র একে একে থমকে যাবে। লক্ষাধিক প্রবাসী কর্মী সংকটে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে অনেক বাংলাদেশি নাবিক আটকা পড়ে আছেন, বাড়ি ফিরতে পারছেন না। বাংলাদেশ তাই শুধু নৈতিক কারণে নয়, সরাসরি নিজের স্বার্থেও এই যুদ্ধ থামাতে চায়। এই সততাটা কূটনীতির মঞ্চে অনেক দূর পর্যন্ত যায়।
একটা অস্থির সময় পার হয়ে দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। এখন ওআইসি ফোরামে একটা উদ্যোগ নেওয়া যায়। জাতিসংঘে একটা খসড়া প্রস্তাব রাখা যায়। ওয়াশিংটনে, তেহরানে, রিয়াদে, আম্মানে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা ফোন তুলতে পারেন। যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে একটা অনানুষ্ঠানিক বার্তাবাহকের ভূমিকাও বাংলাদেশের জন্য নতুন এক মর্যাদার দরজা খুলে দিতে পারে। চেষ্টা করতে ক্ষতি কী?
যখন একটি ছোট দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংকটে নিজের কণ্ঠ তোলে, তখন বিশ্বের মনের মানচিত্রে সেই দেশের মানচিত্র বদলে যায়।
এই কথার প্রমাণ তো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়েছেন। একটা ছোট, যুদ্ধবিধ্বস্ত, দরিদ্র দেশ নিয়ে তিনি বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে সেই পথ আবার খুলেছে। সুযোগ একবার চলে গেলে ইতিহাস ঠিকই মনে রাখে, কোন মুহূর্তে কে এগিয়ে এসেছিল আর কে শুধু অপেক্ষা করে বসে ছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। রাতের আঁধার তখনো পুরোপুরি কাটেনি। আমেরিকা আর ইসরাইলের যুদ্ধবিমান একসঙ্গে ঢুকে পড়ে ইরানের আকাশে। অপারেশন 'এপিক ফিউরি'। মিসাইল আর বোমার আঘাত হতে থাকে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে। বোমা পড়ে স্কুলে। নিহত হয় শত শত শিশু। সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিও নিহত হন। পরদিন সকালে বিশ্বের মানুষ চোখ খুলল এক ভিন্ন পৃথিবীতে।
সেই হামলার চেয়েও বড় ধাক্কা এলো কয়েক ঘণ্টার ভেতরেই। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে দিল। হুঁশিয়ারি দিল, যে জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করবে তাকে ডুবিয়ে দেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যেখানে দিনে একশোরও বেশি জাহাজ এই সরু পথ পেরিয়ে যেত, মার্চের শুরুতে সেই পথ কার্যত মৃত।
আজকে পৃথিবীর দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই একটিমাত্র পথে আটকে আছে। আটকে আছে বিশ্বের ৩১ শতাংশ সমুদ্রপথের অপরিশোধিত তেল। আটকে আছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, যা বৈশ্বিক বাজারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
একটা সরু জলপথ বন্ধ হয়ে পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি টলমল করছে। শেয়ারবাজার ধসছে। জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া। বিশ্ববাণিজ্য এলোমেলো। এখন প্রশ্ন হলো, এই যুদ্ধ থামবে কীভাবে? কে থামাবে?
কেউ জানে না। কারণ যে দেশগুলো অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে মধ্যস্থতার ভূমিকায় নেমেছিল, তারা আজ নিজেরাই আগুনের ভেতরে। কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলা হয়েছে। যাদের মুখে এতদিন শান্তির কথা শোনা গেছে, তারা নিজেরাই আজ কোণঠাসা। মধ্যস্থতাকারীর যে চেয়ারটা এতদিন কাতার বা আমিরাত দখল করে রাখত, সেই চেয়ারটা আজ ফাঁকা পড়ে আছে।
ঠিক এই ফাঁকা চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে একটা প্রশ্ন জাগছে। এই জায়গায় বাংলাদেশ কি এগিয়ে আসতে পারে না? প্রশ্নটা শুনে অনেকে হাসবেন। ভাববেন, বাংলাদেশ আবার মধ্যস্থতা করবে? আমরা তো নিজেদের সমস্যাই সামলাতে পারি না। কিন্তু একটু থামুন। এই হাসির জবাব দেওয়ার জন্য কোনো কল্পনার আশ্রয় নিতে হবে না। ইতিহাসের পাতা উল্টালেই উত্তর মিলবে।
১৯৭৮ সাল, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচন। একপাশে দাঁড়িয়ে আছে জাপান, পঞ্চাশের দশক থেকে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি। আরেকপাশে মাত্র সাত বছর বয়সী একটি ছোট্ট দেশ, বাংলাদেশ। ভোট হলো। ফল বেরোল। বাংলাদেশ জিতে গেল। পুরো বিশ্ব অবাক।
এই বিজয়ের পেছনে কুশিলব ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের সঙ্গে এমন গভীর বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন যে সেই দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। রাজা-বাদশাহদের কাছে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু আরেক রাষ্ট্রনেতা ছিলেন না, ছিলেন এক বিশ্বাসযোগ্য বন্ধুর মুখ।
তারপর এলো ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ১৯৮০ সাল। লক্ষ লক্ষ মানুষ মরছে। আরব দুনিয়া দুই ভাগ হয়ে গেছে। সেই ভয়াবহ সংকটেও বাংলাদেশ চুপ করে বসে থাকেনি। ওআইসির শান্তি কমিটিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছে। জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আনার চেষ্টায় ভূমিকা রেখেছে। পরে জাতিসংঘের ইউএনআইআইএমওজি মিশনে বাংলাদেশি সেনারা মাঠে ছিলেন পর্যবেক্ষক হিসেবে, এক পর্যায়ে সেই মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বও পালন করেছে বাংলাদেশ।
জিয়াউর রহমানের নীতি ছিল-- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়। এই সহজ কথাটাই তাঁকে আরব দুনিয়ার আস্থার কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিল। এই ঐতিহ্যটা কি আজ কাজে আসতে পারে?
পারে। পারার কারণটাও স্পষ্ট।
আজকের বাংলাদেশ আমেরিকার শত্রু নয়। ইরানের শত্রু নয়। ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও বৈরিতাও নেই। আর মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা কোনো চুক্তির কাগজে আঁকা নয়। এই সম্পর্ক লেখা আছে লক্ষ লক্ষ পরিবারের ঘামে, শ্রমে, বছরের পর বছরের বিশ্বাসে।।
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, জর্ডানে আমাদের ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষ কাজ করে। তারা শুধু রেমিট্যান্স পাঠায় না। তারা প্রতিদিন বাংলাদেশের হয়ে একটা বিশ্বাসের সেতু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই বন্ধনটা কোনো বড় দেশও কূটনীতির টেবিলে বসে কিনে নিতে পারবে না।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের শীর্ষ অবদানকারীদের একজন। সর্বোচ্চ সৈন্য পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম উঠেছে। এই গ্রহণযোগ্যতা বছরের পর বছর ধরে অর্জন করা হয়েছে। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সংকট হলে বাংলাদেশের পতাকা সেখানে যায়। এই পরিচয়টাই বড় সম্পদ। এমন পরিস্থিতিতে যদি বাংলাদেশের বাংলাদেশ মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে সামনে দাঁড়ায়, তাহলে সেটা কি বাতুলতা হবে? একেবারেই নয়। কারণ মধ্যস্থতা মানে এই নয় যে বাংলাদেশের কথায় কামান থামবে। মধ্যস্থতা মানে হলো একটি বিশ্বাসযোগ্য মুখ উভয়পক্ষকে বলছে, আলোচনার টেবিলে আসুন। সেই আহ্বান শুনতে হলে যে দেশটি ডাকছে তাকে সবপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। বাংলাদেশ ঠিক সেই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছে আজ।
আর বাংলাদেশের নিজেরও এই যুদ্ধে সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে। কাতার আর আমিরাত থেকে বাংলাদেশ তার বিশাল এলএনজি আমদানির জোগান পায়। হরমুজ বন্ধ থাকলে সেই গ্যাস আর আসবে না। শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র একে একে থমকে যাবে। লক্ষাধিক প্রবাসী কর্মী সংকটে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে অনেক বাংলাদেশি নাবিক আটকা পড়ে আছেন, বাড়ি ফিরতে পারছেন না। বাংলাদেশ তাই শুধু নৈতিক কারণে নয়, সরাসরি নিজের স্বার্থেও এই যুদ্ধ থামাতে চায়। এই সততাটা কূটনীতির মঞ্চে অনেক দূর পর্যন্ত যায়।
একটা অস্থির সময় পার হয়ে দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। এখন ওআইসি ফোরামে একটা উদ্যোগ নেওয়া যায়। জাতিসংঘে একটা খসড়া প্রস্তাব রাখা যায়। ওয়াশিংটনে, তেহরানে, রিয়াদে, আম্মানে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা ফোন তুলতে পারেন। যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে একটা অনানুষ্ঠানিক বার্তাবাহকের ভূমিকাও বাংলাদেশের জন্য নতুন এক মর্যাদার দরজা খুলে দিতে পারে। চেষ্টা করতে ক্ষতি কী?
যখন একটি ছোট দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংকটে নিজের কণ্ঠ তোলে, তখন বিশ্বের মনের মানচিত্রে সেই দেশের মানচিত্র বদলে যায়।
এই কথার প্রমাণ তো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়েছেন। একটা ছোট, যুদ্ধবিধ্বস্ত, দরিদ্র দেশ নিয়ে তিনি বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে সেই পথ আবার খুলেছে। সুযোগ একবার চলে গেলে ইতিহাস ঠিকই মনে রাখে, কোন মুহূর্তে কে এগিয়ে এসেছিল আর কে শুধু অপেক্ষা করে বসে ছিল।

ইরানে হয়তো সরকার পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধ থামাতে হলে আসলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বেপরোয়া সরকারগুলোর পতন হওয়া জরুরি। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মানুষ যুদ্ধ-উন্মাদনায় ভুগছে। তারা নেতানিয়াহুকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে।
৪ ঘণ্টা আগে
সংসদ সদস্যদের স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হবে যে তাদের মূল দায়িত্ব দুটি—আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কাজের তদারকি করা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংসদ সদস্যদের কাজ নয়।। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, নিজের ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বেশি সময় দিতে হবে। নয়তো সংসদ তার কার্যকারিতা হারাবে।
৭ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে যদি ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রত্যেক দরিদ্র নাগরিকের জন্য সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তর করা যায় এবং বাজেট ও সম্পদের ব্যবহার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারবে।
১০ ঘণ্টা আগে
গত মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল প্রকাশ করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রহার’। এই ঐতিহাসিক দলিলটি প্রতিক্রিয়াশীল ও খণ্ডিত নিরাপত্তা কাঠামো থেকে সুসংগঠিত আইন-ভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরের ইঙ্গিত—যা ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্
১৩ ঘণ্টা আগে