leadT1ad

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে দুষছে কারাকাস

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণ। ছবি: বিবিসি।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় দুপুর) অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানী কারাকাসজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সময় আকাশে নিচু দিয়ে উড়তে থাকা বিমান ও হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা যায়। বিভিন্ন এলাকায় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে মাটি, আকাশে দেখা যায় আগুনের গোলা ও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলি। কারাকাসের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আতঙ্কিত মানুষজন ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিস্ফোরণের বেশিরভাগ ঘটনাই বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার আশপাশে ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে, কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি। যেখানে বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। দেশটির অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনাতেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবস্থিত এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবস্থান করেন বলে ধারণা করা হয়। এখানে একাধিক ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বিস্ফোরণ ঘটেছে মিরান্দা রাজ্যের উপকূলীয় এলাকার হিগুয়েরোতে বিমানবন্দরেও। এছাড়া লা গুয়াইরা, আরাগুয়া ও মিরান্দা রাজ্যের বিভিন্ন অংশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। কিছু এলাকায় গুলির শব্দ শোনার দাবিও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

২১ বছর বয়সী এক অফিসকর্মী অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল। আমরা দূরে বিস্ফোরণ আর বিমানের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল বাতাসের চাপ আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল মাদুরো সরকার

ভেনেজুয়েলার সরকার এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একে ‘চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, কারাকাসসহ মিরান্দা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা। তারা একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন উল্লেখ করে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিন্দা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ, তেলবাহী জাহাজ জব্দ এবং মাদক পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে কারাকাস।

এদিকে সিবিএস নিউজ, সিএনএনসহ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব হামলাকে মাদক পাচারবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলে নৌ তৎপরতা জোরদার করে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে এবং ক্যারিবীয় সাগরে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে গোপন অভিযানের কথাও জানিয়েছিল মার্কিন সূত্র।

তবে ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা হামলার সরাসরি স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত