৫ বছরের মধ্যে ডিজেলচালিত সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টিভি
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংসদ বাংলাদেশ টিভি

সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পগুলোকে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সেচকাজে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষকদের বিনামূল্যে সোলার বিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বি, বর্তমান সরকারের এই পরিকল্পনা রয়েছে। ডিজেল দ্বারা চালিত সব পানির পাম্পগুলোকে পর্যায়ক্রমে আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা সৌর বিদ্যুতে নিয়ে যাবো।’

এদিকে, বিগত সরকারের মেগা প্রকল্পে অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির বিষয়ে জনস্বার্থে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না— কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব প্রকল্পগুলোতে মনে হয়েছে এই রকম কিছু আছে, সেগুলো তদন্তের অধীনে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে। তদন্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে আসলে তাঁদের পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বর্তমান সরকার ফ্যাসিস্ট আমলের দুর্নীতির শ্বেতপত্র জনগণের সামনে প্রকাশ করবে কি না— নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় এ দেশের জনগণের অর্থনীতি কীভাবে লুট-পাট করা হয়েছে, অপচয় করা হয়েছে সে বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল। সে কমিটি সমগ্র দেশের মানুষের সামনে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল। সেই শ্বেতপত্রকে সামনে রেখে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত পর্যায়ক্রমিকভাবে বর্তমান সরকার সে সকল পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

মাদারিপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা জানতে চান, প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাধারা এখনো তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছায়নি। সেটি পৌঁছাতে তিনি কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যের প্রশ্নটি আমার কাছে পরিষ্কার নয়। তিনি আমাকে নোটিশ দিলে আমি পরিপূর্ণভাবে একটি উত্তর দিতে পারবো। তবে সরকারের দেশকে পুনর্গঠন যে পরিকল্পনা এই পরিকল্পনাগুলো বিএনপি তাঁর নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে তুলে ধরেছিলো। এখন আমরা যখন কাজগুলো শুরু করবো তখন সারা দেশের মানুষ, সকল পর্যায়ের মানুষ ধীরে ধীরে জানতে পারবেন।’

প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষ প্রশ্নে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ভোলায় ইপিজেড স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলার যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, এই সম্পদটি আমরা দেশের ও ভোলার মানুষের উপকারে ব্যবহার করতে চাই। সে কারণে প্রথম ভোলাকে আমরা মেইনল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই। সেজন্যই ব্রিজ স্থাপন এবং ব্রিজ স্থাপনের মাধ্যমে রোড কমিউনিকেশন করতে চাই। এছাড়া এখানে যেমন একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উপস্থাপন করতে চাই তেমন একটি ফার্টিলাইজারের কারখানাও করতে চাই। এর মাধ্যমে ভোলার মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত