
উর্দুভাষী বাঙালি অভিজাত। গড়েছিলেন পাকিস্তান। আবার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পিতৃপ্রতিম চরিত্রও হয়ে উঠেছিলেন। জীবনের শেষটা কেটেছিল নির্বাসনে। একই মানুষ এক দেশে নায়ক তো আরেক দেশে খলনায়ক। কী ঘটেছিল আসলে?
১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরে জন্ম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর। তবে ইতিহাসে তাঁর জায়গাটা ধূসর। অবিভক্ত বাংলা ভেঙে জন্ম নেওয়া তিনটি দেশ তাঁকে স্মরণ করে, তবে প্রত্যেকেই ভিন্ন কারণে। পশ্চিমবঙ্গে তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৪৬-এর ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’। বাংলাদেশে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র, যাঁর হাতেখড়িতে রাজনীতি শিখেছিলেন তরুণ শেখ মুজিব। পাকিস্তানে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন, দেশের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। এমন পরস্পরবিরোধী মূল্যায়ন তাঁর প্রজন্মের আর কোনো বাঙালি নেতার ভাগ্যে জোটেনি। আর এই স্ববিরোধিতা মিশে আছে তাঁর জীবনের নথিপত্রেই।
পারিবারিক ঐতিহ্য
পরের জীবনে যে আদর্শ তিনি বহন করেছিলেন, তাঁর পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে তা মেলে না। ইতিহাসবিদ হারুন-অর-রশিদ তাঁর ‘দ্য ফোরশ্যাডোইং অব বাংলাদেশ’ বইয়ে বলছেন, সোহরাওয়ার্দীরা ছিলেন মেদিনীপুরের বিশিষ্ট সুফি পরিবার। বহু প্রজন্ম আগে মুলতান থেকে আসা এক সুফি বংশধারার উত্তরসূরি তাঁরা। জীবনযাপন ফার্সি-উর্দু ঘেঁষা তাঁদের। বাবা স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক। শহীদ সোহরাওয়ার্দী নিজে অক্সফোর্ড থেকে পড়াশোনা করে, ব্যারিস্টারি পাস করে ১৯২০ সালে ফেরেন দেশে। রাজনীতিতে হাতেখড়ি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সহযোগী হিসেবে।
দেশবন্ধুর ছত্রছায়ায় শুরু হলেও, হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক বিভাজন তাঁকে টেনে নেয় মুসলমান পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির দিকে। কিন্তু স্বাধীন পাকিস্তানে তিনি সমর্থন জুগিয়েছেন ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের। শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামুল্লাহর জীবনীতেও একই পারিবারিক প্রেক্ষাপটের কথা আছে। উর্দুভাষী, ইংরেজি কেতার এক অভিজাত আইনজীবী শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠবেন বাঙালি ভাষিক জাতীয়তাবাদের ত্রাতা— এটাই তাঁর জীবনের প্রথম স্ববিরোধিতা।
ডেপুটি মেয়র থেকে ‘গুন্ডাগিরি’
হারুন-অর-রশিদের বই থেকে জানা যায়, সোহরাওয়ার্দী রাজনীতিতে ঢুকেছিলেন শ্রমিক সংগঠক হিসেবে। কলকাতা বন্দরের খালাসী, রেলশ্রমিকদের নিয়ে গড়েছিলেন ডজনখানেক ইউনিয়ন। ১৯২৪ সালে হন কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, পরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই সময়েই একটা দুর্নাম তাঁর সঙ্গে সেঁটে যায় চিরকালের মতো, আর তা হলো কলকাতার আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা।
পোলিশ একাডেমির জার্নালে টমাস ফ্লাসিনস্কি লিখেছেন, ‘কলকাতার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদার’ তকমাটা এমনই বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল যে ইতিহাসবিদ আয়েশা জালাল পর্যন্ত তাঁর বিখ্যাত বই ‘দ্য সোল স্পোকসম্যান: জিন্নাহ, দ্য মুসলিম লীগ অ্যান্ড দ্য ডিমান্ড ফর পাকিস্তান’-এ কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই তা লিখে দেন। ফ্লাসিনস্কি এই দুর্নামের উৎস খুঁজে পান সুরঞ্জন দাশের বই ‘কমিউনাল রায়টস ইন বেঙ্গল, ১৯০৫-১৯৪৭’-তে। যদিও টমাস ফ্লাসিনস্কির মতে, দাঙ্গায় সোহরাওয়ার্দীর ব্যক্তিগত ভূমিকার প্রমাণ আসলে যতটা ধরে নেওয়া হয়, ততটা নয়।
তার মানে তিনি ধোয়া তুলসীপাতা ছিলেন, তা নয়। সেকালের কলকাতায় সশস্ত্র মস্তানদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়ার চল ছিল দুই সম্প্রদায়েই সমান। টুম্পা মুখার্জির গবেষণায় এই রাজনীতি-অপরাধের যোগসাজশের ছবি স্পষ্ট। ১৯৪৬-এর দাঙ্গার জন্য সোহরাওয়ার্দীকে দায়ী করা হলেও গোপাল পাঁঠাকে আজও পশ্চিমবঙ্গে বীর মানা হয়। কথাটা তাই এই নয় যে সোহরাওয়ার্দীকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কথাটা হলো, তাঁকে ঘিরে যে মিথ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে গেছে অনেক দূর।
গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং
সোহরাওয়ার্দীর খলনায়ক ভাবমূর্তির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টে তাঁর ভূমিকা। কেবিনেট মিশন পাকিস্তানের দাবি নাকচ করলে মুসলিম লীগ ডাক দেয় ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের। ব্রিটিশ বাংলার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী ১৬ আগস্ট সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। এতে রাস্তা থেকে সরে যায় পুলিশ, যারা হয়তো দাঙ্গা ঠেকাতে পারত। তাঁর একটি সতর্কবার্তাও পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি বলেন, বাংলাকে হয়তো কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন এক রাষ্ট্র ধরে নিতে হবে। এই কথা দাঙ্গার আগে হিন্দুদের আতঙ্ক বাড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে।
এ দাঙ্গায় সরকারি হিসেবে মারা যান দুই থেকে তিন হাজার মানুষ। হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী বয়ানে সোহরাওয়ার্দীকেই মূল হোতা বলা হয়। বলা হয়, কলকাতা দখলের ছকই ছিল এই হত্যাযজ্ঞ। ইতিহাসবিদরা তবে অন্যভাবে দেখেন। ফ্লাসিনস্কির মতে, সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত তাঁর ছিল বৈকি, কিন্তু তিনি ছিলেন তিন দিক থেকে চাপে পড়া এক রাজনীতিক—মুসলিম লীগের কট্টরপন্থীরা, অবিশ্বাসী হিন্দু জনতা, আর অবিভক্ত বাংলার উত্তরাধিকার চাওয়া কংগ্রেস। জয়া চ্যাটার্জির ‘বাংলা ভাগ হল’ বইয়েও এই একই ছবি মেলে। তবে একটা কথা স্পষ্ট—সোহরাওয়ার্দীর সরকার, চক্রান্তে হোক বা অযোগ্যতায়, কলকাতা দাঙ্গা ঠেকাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছিল। এই ব্যর্থতাই বাঙালি হিন্দুর স্মৃতিতে তাঁর নাম চিরকালের জন্য কালিমালিপ্ত করে রাখে।
গান্ধীর ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’
তার ঠিক এক বছর পর সেই মানুষটাই মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে এক ছাদের নিচে। গান্ধীর সচিব প্যারেলাল তাঁর বই ‘মহাত্মা গান্ধী: দ্য লাস্ট ফেজ’-এ লিখেছেন, গান্ধী জীবনের শেষ কটা মাস বাংলায় কাটান শান্তি মিশনে, কলকাতা আর নোয়াখালিতে সম্প্রীতি ফেরাতে। এই কাজে তাঁকে হাত মেলাতে হয় সেই মুসলিম লীগ নেতাদের সঙ্গেই, যাঁদের তিনি দাঙ্গার জন্য আংশিক দায়ী মনে করতেন। ১৯৪৭-এর আগস্টে গান্ধী ওঠেন কলকাতার হায়দরি মঞ্জিলে, বাড়িটা ঠিক করে দিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দীই। বাইরে হামলায় শান্তি বিপন্ন হলে গান্ধী অনশনে বসেন। সোহরাওয়ার্দীসহ শহরের নেতারা কলকাতায় আর দাঙ্গা হতে না দেওয়ার লিখিত শপথ নিলে তবেই অনশন ভাঙে।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন গান্ধীকে বলেছিলেন ‘ওয়ান-ম্যান বাউন্ডারি ফোর্স’, কারণ যেখানে পঞ্চান্ন হাজার সেনা পাঞ্জাবে ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানে গান্ধী একাই শান্ত রাখেন বাংলা। এই প্রশংসার ভাগ পান ‘তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ড, মিস্টার সোহরাওয়ার্দী’ও। প্রচলিত আছে, গান্ধী নাকি আড়ালে তাঁকে ‘জেকিল অ্যান্ড হাইড’ ডাকতেন, যদিও এর সপক্ষে জোরালো প্রমাণ নেই। তবে যা প্রমাণিত, তা কম চমকপ্রদ নয়। বারো মাস আগে যে মানুষকে দাঙ্গার মূল খলনায়ক বলা হচ্ছিল, তিনিই এখন গান্ধীর নিজের বেছে নেওয়া বিশ্বস্ত সঙ্গী। সমসাময়িকরা এর নাম দিয়েছিলেন ক্যালকাটা মিরাকল।
অখণ্ড বাংলার স্বপ্ন
দেশভাগের আগে সোহরাওয়ার্দী অখণ্ড বাংলার জন্য শেষ প্রচেষ্টা চালান। শরৎচন্দ্র বসু, কিরণশঙ্কর রায়, সত্যরঞ্জন বকশীর সঙ্গে মিলে, আর আবুল হাশিমের সমর্থনে তিনি চেয়েছিলেন এক অখণ্ড বাংলা। ভারত বা পাকিস্তান কারও অংশ নয়, বরং তৃতীয় এক ডোমিনিয়ন, যেখানে হিন্দু-মুসলমান ক্ষমতা ভাগ করবে। কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আপত্তিতে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তার জীবনের এই অধ্যায় প্রমাণ করে, দ্বিজাতি তত্ত্বের চেয়ে অখণ্ড বাংলার প্রতিই তাঁর টান বেশি ছিল। এই টান আবার ফিরে আসে তাঁর জীবনের শেষ দশকে, অন্য রূপে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের গডফাদার
দেশভাগের পরও সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানে ছোটেননি। থেকে যান কলকাতায়, গান্ধীর শান্তি মিশনের সঙ্গী হয়ে। মুসলিম লীগের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলে ১৯৪৯ সালে তাঁর গণপরিষদ সদস্যপদ বাতিল হয়। যুক্তি ছিল, তিনি পাকিস্তানের স্থায়ী বাসিন্দা নন। সেই বছরই, ২৩ জুন, ঢাকার রোজ গার্ডেনে সোহরাওয়ার্দী ও আরেক মুসলিম নেতা আবুল হাশিমের অনুসারীরা গড়ে তোলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লিগ। প্রথম সভাপতি হন মওলানা ভাসানী। প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় দাবি ওঠে বাংলার রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, আর দুই অংশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার।
কেন্দ্র উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চাইলে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন, যা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয় ঢাকার রাজপথ। ১৯৫৩ সালে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ও ভাসানীর সঙ্গে গড়েন যুক্তফ্রন্ট। একুশ দফার জোরে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ উড়ে যায়। তাঁর দলেই তখন বেড়ে উঠছেন তরুণ সংগঠক শেখ মুজিবুর রহমান, পরে ১৯৫৬ সালে যিনি হন শিল্প-বাণিজ্য-শ্রম মন্ত্রী। কলকাতার পুরনো বিতর্ক নয়, বরং এই পরের জীবনই তাঁকে দেয় ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ উপাধি—সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন লড়াই আর গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী ও পতন
সোহরাওয়ার্দী তাঁর ক্ষমতার চূড়ায় ওঠেন ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বরে। চৌধুরী মুহাম্মদ আলীর পদত্যাগের পর তিনি জোট সরকার গড়ে হন পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। এর আগে আইনমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ১৯৫৫ সালের মুরি চুক্তিতে বড় ভূমিকা রাখেন, যা পথ খোলে দেশের প্রথম সংবিধানের। একটা ভুল ধারণা আছে যে তিনি পূর্ববঙ্গের আলাদা প্রাদেশিক মর্যাদার সমর্থক ছিলেন। আসলে ঠিক উল্টো। তিনি ছিলেন দুই অংশের সমতা আর পশ্চিম পাকিস্তানে ‘এক ইউনিট’ গঠনের সমর্থক। তাঁর বিশ্বাস ছিল, যৌথ নির্বাচকমণ্ডলী আর সমান প্রতিনিধিত্বের এক অখণ্ড কাঠামোতেই পাকিস্তানি জাতিসত্তা গড়া সম্ভব।
কিন্তু এই এক ইউনিট রক্ষা করতে গিয়েই তাঁর সরকার পড়ে যায়। পুরনো প্রদেশ ফিরে পেতে চাওয়া পশ্চিম পাকিস্তানি নেতারা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। শিপিং কর্পোরেশন গড়ার প্রস্তাব নিয়ে তাঁর সংঘাত বাধে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গেও। রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জার অবিশ্বাসও বাড়তে থাকে, কারণ সোহরাওয়ার্দী বারবার জোর দিচ্ছিলেন সংসদে আস্থা ভোটের ওপর। বরখাস্তের আগেই ১৯৫৭ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি ইস্তফা দেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৬২ সালে তিনি গড়েন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। পরের বছর, ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৩, বৈরুতে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে মারা যান তিনি। মরদেহ ফেরে ঢাকায়। আজও তিনি শায়িত আছেন তিন নেতার মাজারে, বাংলাদেশের অন্য স্থপতিদের পাশে।
সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে কথা বলাটা কঠিন, কারণ তাঁর জীবনের স্ববিরোধিতাগুলো একে অপরকে খারিজ করে না। ১৯৪৬-এর সাম্প্রদায়িক ব্যর্থতা যতটা সত্যি, ১৯৫০-এর দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতাও ঠিক ততটাই। দুটোই এক মানুষের, দুই ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে। ঔপনিবেশিক কলকাতায় মুসলিম রাজনীতি টিকত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের অঙ্কে, আর ব্রিটিশ প্রশাসন সুকৌশলে দুই সম্প্রদায়কে লড়িয়ে দিত। সেই আবহেই সোহরাওয়ার্দী গড়েছিলেন সশস্ত্র পৃষ্ঠপোষকতার নেটওয়ার্ক, যা তাঁকে করেছিল ‘গুন্ডাদের রাজা’। দেশভাগের পর পাকিস্তানে, বাংলাকে অখণ্ড রাখতে ব্যর্থ হয়ে আর মুসলিম লীগ থেকে ঘাড়ধাক্কা খেয়ে বেরিয়ে, সেই একই সংগঠন-ক্ষমতা তিনি ঢেলে দেন নতুন দলে।
৪৬-এর ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ১৯৪৭-এ গান্ধীর পাশে দাঁড়ানো, অখণ্ড বাংলার ব্যর্থ স্বপ্ন, আর শেষে নতুন রাজনীতির জন্ম, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে পৌঁছে দেয় স্বাধীনতার দোরগোড়ায়। এই বহুরূপী সত্তাই তাঁকে কয়েকটি শব্দে বেঁধে ফেলার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। আজও তাই তাঁর জন্মদিনে কলকাতা আর ঢাকা একমত হতে পারে না, আসলে তিনি কে ছিলেন।
- রাতুল আল আহমেদ: লেখক ও গবেষক
.png)






