ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ১৩% বৃদ্ধি, প্রত্যাখ্যানও বেশি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১৩
ইউরোপে আশ্রয় আবেদন সামগ্রিকভাবে কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে আশ্রয় আবেদন সামগ্রিকভাবে কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। তবে এই একই সময়ে বাংলাদেশিদের আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। ইতালি, গ্রিস ও ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের এই আবেদন করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইইউএএ- এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট আবেদনকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় রয়েছেন আফগান নাগরিকরা। দেশটির ৩৯ হাজার নাগরিক ইইউর বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা। এরপরেই আবেদন সংখ্যার হিসেবে তৃতীয় অবস্থানে আছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা।

গত বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭। আর চলতি বছরের একই সময়ে বাংলাদেশিদের এই আশ্রয় আবেদন বেড়ে ১৯ হাজার ৫২১ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

ইইউএএ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের যেসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম মঞ্জুর হয়েছে। ইইউ দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুরের হার ৫ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ, ৯৫ শতাংশেরও বেশি আবেদনই প্রথম ধাপে খারিজ হয়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানের হলুদ বারটি নির্দেশ করছে, ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদনের মধ্যে ৯৯ শতাংশেরও বেশি সরাসরি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ছবি: ইইউএএ ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট
পরিসংখ্যানের হলুদ বারটি নির্দেশ করছে, ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদনের মধ্যে ৯৯ শতাংশেরও বেশি সরাসরি নাকচ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ছবি: ইইউএএ ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট

বর্তমানে নতুন-পুরনো মিলিয়ে প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশির মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলছে। যা জমে থাকা মামলার দিক থেকেও অন্যতম শীর্ষ স্থানে।

ইইউ-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশের আবেদন মঞ্জুরির হার ২০ শতাংশের কম, তাদের জন্য ‘দ্রুত সীমান্ত পরীক্ষা’ এবং ‘দ্রুততম প্রত্যাখ্যান ও ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা’ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশিদের নিম্ন স্বীকৃতির হারের কারণে এখন দ্রুততম সময়ে আবেদন নাকচ করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে।

ইইউ আশ্রয় নীতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির জীবন বা স্বাধীনতার ওপর হুমকি থাকলে তিনি অ্যাসাইলামের আবেদন করতে পারেন। বাস্তবে বাংলাদেশিরা প্রধানত বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে মামলা ও নিগ্রহের অভিযোগ, দেশে সরকার পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তাহীনতা কিংবা ধর্মীয় ও সামাজিক নিপীড়নের যুক্তি দেখিয়ে ইউরোপে অ্যাসাইলাম বা আশ্রয়ের আবেদন করে থাকেন। এছাড়া জমিজমা নিয়ে পারিবারিক শত্রুতা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে সুরক্ষার অভাবকেও অনেকে কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

অন্যদের মধ্যে অনেকে আবার স্টুডেন্ট বা কাজের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে না ফিরে অ্যাসাইলামের আবেদন করেন। আবার কেউ কেউ অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের আশায় অবৈধপথে ইউরোপে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আইনি যুক্তি ব্যবহার করেন।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে তুলনামূলকভাবে একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করায় এবং এসব দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণের অভাব থাকায় প্রায় ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ আবেদনই সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত