মাহজাবিন নাফিসা

আজকাল এআই ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা, কোনো বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে চাওয়া থেকে শুরু করে ছবি-ভিডিও তৈরি বা কোডিং— সবই করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সাধারণ মানুষ এর কোনো কারখানা দেখে না। তাই এআইকে অনেকটাই ‘অদৃশ্য’ প্রযুক্তি মনে হয়।
এআই মোটেও অদৃশ্য নয়। আমাদের প্রশ্নের উত্তর তৈরি হওয়ার পেছনে কাজ করে বিশাল ডেটা সেন্টার, হাজার হাজার সার্ভার, শক্তিশালী চিপ, বিপুল বিদ্যুৎ এবং সেই যন্ত্রগুলো ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা। আর এই ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পানি।
এটি এআইয়ের পরিবেশগত খরচের একটি কম আলোচিত দিক কিন্তু উদ্বেগজনক দিক। এআই শুধু বিদ্যুৎ খরচ করে না, এর সঙ্গে যুক্ত আছে পানির ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ, হার্ডওয়্যার উৎপাদন এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর চাপ। কোথায়, কীভাবে এবং কোন প্রযুক্তিতে এআই চালানো হচ্ছে, তার ওপর পানির ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে। ২০২৫ সালের লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির একটি গবেষণাতে দেখা গেছে, ডেটা সেন্টারের একটি কাজের জন্য পানির ব্যবহার একেক পরিস্থিতিতে ১০ হাজার গুণেরও বেশি ভিন্ন হতে পারে।
এআই নিজে পানি ব্যবহার করে না। পানি লাগে তাকে চালানোর অবকাঠামোয়। এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা—দুটিই মূলত ডেটা সেন্টারে হয়। এসব কেন্দ্রে শক্তিশালী সার্ভার ও বিশেষায়িত চিপ থাকে। চিপ যত বেশি কাজ করে, তত বেশি তাপ তৈরি হয়। সেই তাপ সরিয়ে না ফেললে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি ক্ষতিও হতে পারে।
তাই ডেটা সেন্টারে কুলিং বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা দরকার। প্রচলিত অনেক ব্যবস্থায় তাপ সরানোর জন্য পানি ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে পানি বাষ্পীভূত করে তাপ বের করে দেওয়া হয়। আবার কিছু ডেটা সেন্টারে সরাসরি চিপের কাছাকাছি তরল প্রবাহিত করে তাপ সরানো হয়।
পানির ব্যবহার এখানেই শেষ নয়। ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য যে বিপুল বিদ্যুৎ দরকার, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পানি ব্যবহার হতে পারে। ২০২৫ সালের নেচার সাসটেইনেবিলিটি-তে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের এআই সার্ভারের পানির ব্যবহার হিসাব করার সময় এই সরাসরি ও পরোক্ষ—দুই ধরনের ব্যবহারই ধরা হয়েছে।
এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে খুবই আলোচিত একটি ধারণা হলো— একটি এআই কথোপকথনের কয়েকটি প্রশ্নের পেছনে প্রায় আধা লিটার পানি খরচ হতে পারে।
সংখ্যাটি একেবারে ভিত্তিহীন নয়। ২০২৩ সালে শাওলেই রেন ও সহকর্মীদের গবেষণায় মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে জিপিটি-৩ প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের পানির ফুটপ্রিন্ট হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের হিসাব নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, ডেটা সেন্টারের অবস্থান, আবহাওয়া, কুলিং ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
তাই ‘প্রতিটি এআই প্রশ্নে আধা লিটার পানি’ ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ পাওয়া যায় গুগলের নিজস্ব উৎপাদন পরিবেশে করা সাম্প্রতিক এক পরিমাপে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত গবেষণায় গুগলের জেমিনি অ্যাপের একটি মাঝারি টেক্সট প্রশ্নের জন্য পানির ব্যবহার প্রায় ০.২৬ মিলিলিটার—প্রায় পাঁচ ফোঁটা পানি—হিসাব করা হয়েছে। একই গবেষণায় ওই প্রশ্নের বিদ্যুৎ ব্যবহার ০.২৪ ওয়াট-ঘণ্টা পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষণাও একই সতর্কতার জায়গায় নিয়ে যায়। গবেষকেরা দেখেছেন, সার্ভারের দক্ষতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধরন, সার্ভারের ব্যবহারমাত্রা, কুলিং প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো, আবহাওয়া এবং সার্ভারের জীবনচক্র—সব মিলিয়ে পানির ব্যবহার বদলে যায়।
তবে একটি প্রশ্নে কয়েক ফোঁটা বা কয়েক মিলিলিটার পানি—শুনতে খুব বেশি মনে না হলেও অনেক মানুষ যখন ব্যবহার করেন, তখন তা আর অল্প থাকে না। কারণ, এআই এখন প্রতিনিয়ত নানা ধরণের কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন লেখালেখি, অনুবাদ, ছবি তৈরি, কোড লেখা, সার্চ, পড়াশোনা এবং অফিসের নানা কাজে সবাই এটি ব্যবহার করছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় বড় এআই মডেল তৈরি করছে এবং ডেটা সেন্টারে আরও বেশি সার্ভার বসাচ্ছে।
এই পরিমাণ বৃদ্ধিই ভবিষ্যতের মূল উদ্বেগ। ২০২৫ সালের নেচার সাসটেইনেবিলিটি-তে প্রকাশিত গবেষণায় হিসাব করা হয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এআই সার্ভারগুলোর বার্ষিক পানির ব্যবহার পরিস্থিতিভেদে প্রায় ৭৩১ মিলিয়ন থেকে ১.১২৫ বিলিয়ন ঘনমিটার হতে পারে। একই সময়ে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ বছরে ২৪ থেকে ৪৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য হতে পারে। এর সঙ্গে আছে অবকাঠামোগত ব্যবহার। তাই পরিবেশের পক্ষে সংখ্যাটি নেহাত কম নয়।
পানির পরিমাণের পাশাপাশি পানির জায়গার আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। একটি ডেটা সেন্টার এমন এলাকায় থাকলে যেখানে প্রচুর পানি রয়েছে, সেখানে একই পরিমাণ পানি ব্যবহার স্থানীয়ভাবে তুলনামূলক কম চাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেটিই যদি এমন এলাকায় হয় যেখানে আগে থেকেই খরা, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট বা কৃষির জন্য পানির চাপ রয়েছে, তাহলে বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।
নেচার সাসটেইনেবিলিটির গবেষণায়ও দেখা গেছে, এআই সার্ভারের পরিবেশগত প্রভাব ডেটা সেন্টারের অবস্থানের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে। গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঞ্চলে পানির সংকট বেশি, সেসব জায়গায় এআই অবকাঠামো বৃদ্ধির সম্ভাব্য ঝুঁকি আলাদা করে দেখেছেন।
যখন একটি বড় ডেটা সেন্টারের পানির চাহিদা এমন একটি স্থানীয় পানিব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়, যেখানে মানুষের পানীয় জল, কৃষি, শিল্প এবং পরিবেশ—সবকিছুরই চাহিদা রয়েছে, তখন সেখানে নানা সংকট দেখা দেয়।
পানি একটি স্থানীয় সম্পদ। বিদ্যুতের মতো এটি দূর থেকে সহজে সরিয়ে নিয়ে সব জায়গায় সমানভাবে ব্যবহার করা যায় না। তাই একটি ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার জাতীয় মোট পানির তুলনায় ছোট হলেও নির্দিষ্ট একটি এলাকার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইতিমধ্যেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বাংলাদেশের সরকারি জাতীয় ডেটা সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন ডলারের এআই ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে চায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এডিআইসি’। ‘ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার ও কোয়ান্টাম-রেডি সোভরেন কম্পিউট ক্যাম্পাস’ নামে এই ডেটা সেন্টার করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। স্থান হিসেবে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক অথবা সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কয়েক ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উচ্চ সক্ষমতার পানি সরবরাহ চাওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিপুল সক্ষমতা কোথায় থেকে আসবে এবং তার পরিব্রশগত প্রভাব নিয়ে এর মধ্যই প্রতিবাদ জানিয়েছে পরিবেশবিদরা।
যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ, শব্দদূষণ, বন্য প্রাণীর আবাসস্থলে হস্তক্ষেপ এবং পানি-বিদ্যুতের ওপর চাপ নিয়ে তাদের উদ্বেগ। এমনকি ডেটা সেন্টারের কারণে স্থানীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এই ধরণের সংকট বাংলাদেশ কিভাবে সামাল দেবে তা নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা।
পানির ব্যবহার এরচেয়েও বড় একটি পরিবেশগত হিসাবের অংশ।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ২০২৫ সালের এনার্জি অ্যান্ড এআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলো প্রায় ৪১৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, যা বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১.৫ শতাংশ। প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ১,০০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টার বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই বৃদ্ধির মাত্রা আরও স্পষ্ট। ২০২৬ সালে প্রকাশিত লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে দেশটির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ১১.৮ শতাংশ পর্যন্ত ডেটা সেন্টারে যেতে পারে; বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই হার ৯.৫ থেকে ১৫.৩ শতাংশের মধ্যে হতে পারে।
এই বিদ্যুৎ যদি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উৎস থেকে আসে, তাহলে কার্বন নিঃসরণ বাড়ে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধরন আবার পানির হিসাবেও প্রভাব ফেলে। ফলে এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাবকে আলাদা আলাদা বাক্সে ভাগ করা কঠিন—বিদ্যুৎ, পানি ও জলবায়ু একই ব্যবস্থার অংশ।
এআইয়ে বিপুল পরিমাণ পানির ব্যবহার করলেও তা কমিয়ে আনা অসম্ভব নয়।
কুলিং প্রযুক্তি বদলানো, কম পানির প্রয়োজন হয় এমন জায়গায় ডেটা সেন্টার স্থাপন করা, পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহার করা, সার্ভারের দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পানির পদচিহ্ন বিবেচনায় নেওয়া—এসবই সম্ভাব্য সমাধান।
মাইক্রোসফট ইতিমধ্যে নতুন ধরনের ডেটা সেন্টার নকশা চালু করেছে, যেখানে এআই কাজের জন্য কুলিংয়ে পানি বাষ্পীভবন করা হয় না। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এই নকশা প্রতি ডেটা সেন্টারে বছরে ১২৫ মিলিয়ন লিটারের বেশি পানি ব্যবহারের প্রয়োজন এড়াতে পারে। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে মাইক্রোসফটের নিজস্ব ডেটা সেন্টারগুলোর বৈশ্বিক পানি ব্যবহারের দক্ষতা ছিল প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ০.২৭ লিটার।
তবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, পানি বাষ্পীভবনের বদলে কিছু যান্ত্রিক কুলিং ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহার সামান্য বাড়তে পারে। অর্থাৎ একটি পরিবেশগত সমস্যা কমাতে গিয়ে অন্যটির ওপর চাপ তৈরি না হয়, সেটিও দেখতে হবে।
এআইয়ের পরিবেশগত খরচের সবচেয়ে অস্বস্তিকর দিক হলো—ব্যবহারকারী সাধারণত তা দেখতে পান না।
একটি প্লাস্টিকের বোতল কিনলে বোতলটি হাতে থাকে। গাড়ি চালালে জ্বালানি খরচের হিসাব বোঝা যায়। কিন্তু এআইকে একটি প্রশ্ন করার সময় তার পেছনের ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ, কুলিং এবং পানি—কোনোটিই চোখের সামনে থাকে না।
এ কারণে এআইয়ের পরিবেশগত হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, প্রযুক্তি দক্ষ হলে এই খরচ কমানো সম্ভব। গুগলের ২০২৫ সালের উৎপাদন পরিবেশের পরিমাপে এক বছরে তাদের মাঝারি জেমিনি টেক্সট প্রশ্নের শক্তি ব্যবহার ৩৩ গুণ কমেছে এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট ৪৪ গুণ কমেছে বলে গবেষণায় জানানো হয়েছে।
এআই মানুষের কাজ সহজ করছে, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান থেকে শুরু করে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও বলছে, এআই নিজেই জ্বালানি খাতকে আরও দক্ষ করে তুলতে এবং নির্গমন কমাতে কাজে লাগতে পারে।
তাই এআই ব্যবহার বন্ধ না করে ভাবতে হবে কী ধরনের এআই আমরা তৈরি করছি, কোথায় তার ডেটা সেন্টার বসাচ্ছি, কী দিয়ে তাকে ঠান্ডা রাখছি এবং সেই প্রযুক্তির পরিবেশগত খরচ কে বহন করছে। কারণ এআই ভার্চুয়াল হলেও তার ‘বডি’ বা শরীর আছে। সেই শরীরের নাম সার্ভার, ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎকেন্দ্র আর কুলিং ব্যবস্থা। আর সেই শরীর চালাতে পানি লাগে। তাই জলবায়ু, পানি, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এই পৃথিবীতে কিভাবে এই রিসোর্স সবচেয়ে কম ব্যবহার করে বেশি ফল পাওয়া যায়- সেই রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে।

আজকাল এআই ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা, কোনো বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে চাওয়া থেকে শুরু করে ছবি-ভিডিও তৈরি বা কোডিং— সবই করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সাধারণ মানুষ এর কোনো কারখানা দেখে না। তাই এআইকে অনেকটাই ‘অদৃশ্য’ প্রযুক্তি মনে হয়।
এআই মোটেও অদৃশ্য নয়। আমাদের প্রশ্নের উত্তর তৈরি হওয়ার পেছনে কাজ করে বিশাল ডেটা সেন্টার, হাজার হাজার সার্ভার, শক্তিশালী চিপ, বিপুল বিদ্যুৎ এবং সেই যন্ত্রগুলো ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা। আর এই ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পানি।
এটি এআইয়ের পরিবেশগত খরচের একটি কম আলোচিত দিক কিন্তু উদ্বেগজনক দিক। এআই শুধু বিদ্যুৎ খরচ করে না, এর সঙ্গে যুক্ত আছে পানির ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ, হার্ডওয়্যার উৎপাদন এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর চাপ। কোথায়, কীভাবে এবং কোন প্রযুক্তিতে এআই চালানো হচ্ছে, তার ওপর পানির ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে। ২০২৫ সালের লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির একটি গবেষণাতে দেখা গেছে, ডেটা সেন্টারের একটি কাজের জন্য পানির ব্যবহার একেক পরিস্থিতিতে ১০ হাজার গুণেরও বেশি ভিন্ন হতে পারে।
এআই নিজে পানি ব্যবহার করে না। পানি লাগে তাকে চালানোর অবকাঠামোয়। এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা—দুটিই মূলত ডেটা সেন্টারে হয়। এসব কেন্দ্রে শক্তিশালী সার্ভার ও বিশেষায়িত চিপ থাকে। চিপ যত বেশি কাজ করে, তত বেশি তাপ তৈরি হয়। সেই তাপ সরিয়ে না ফেললে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি ক্ষতিও হতে পারে।
তাই ডেটা সেন্টারে কুলিং বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা দরকার। প্রচলিত অনেক ব্যবস্থায় তাপ সরানোর জন্য পানি ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে পানি বাষ্পীভূত করে তাপ বের করে দেওয়া হয়। আবার কিছু ডেটা সেন্টারে সরাসরি চিপের কাছাকাছি তরল প্রবাহিত করে তাপ সরানো হয়।
পানির ব্যবহার এখানেই শেষ নয়। ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য যে বিপুল বিদ্যুৎ দরকার, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পানি ব্যবহার হতে পারে। ২০২৫ সালের নেচার সাসটেইনেবিলিটি-তে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের এআই সার্ভারের পানির ব্যবহার হিসাব করার সময় এই সরাসরি ও পরোক্ষ—দুই ধরনের ব্যবহারই ধরা হয়েছে।
এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে খুবই আলোচিত একটি ধারণা হলো— একটি এআই কথোপকথনের কয়েকটি প্রশ্নের পেছনে প্রায় আধা লিটার পানি খরচ হতে পারে।
সংখ্যাটি একেবারে ভিত্তিহীন নয়। ২০২৩ সালে শাওলেই রেন ও সহকর্মীদের গবেষণায় মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে জিপিটি-৩ প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের পানির ফুটপ্রিন্ট হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের হিসাব নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, ডেটা সেন্টারের অবস্থান, আবহাওয়া, কুলিং ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
তাই ‘প্রতিটি এআই প্রশ্নে আধা লিটার পানি’ ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ পাওয়া যায় গুগলের নিজস্ব উৎপাদন পরিবেশে করা সাম্প্রতিক এক পরিমাপে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত গবেষণায় গুগলের জেমিনি অ্যাপের একটি মাঝারি টেক্সট প্রশ্নের জন্য পানির ব্যবহার প্রায় ০.২৬ মিলিলিটার—প্রায় পাঁচ ফোঁটা পানি—হিসাব করা হয়েছে। একই গবেষণায় ওই প্রশ্নের বিদ্যুৎ ব্যবহার ০.২৪ ওয়াট-ঘণ্টা পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষণাও একই সতর্কতার জায়গায় নিয়ে যায়। গবেষকেরা দেখেছেন, সার্ভারের দক্ষতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধরন, সার্ভারের ব্যবহারমাত্রা, কুলিং প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো, আবহাওয়া এবং সার্ভারের জীবনচক্র—সব মিলিয়ে পানির ব্যবহার বদলে যায়।
তবে একটি প্রশ্নে কয়েক ফোঁটা বা কয়েক মিলিলিটার পানি—শুনতে খুব বেশি মনে না হলেও অনেক মানুষ যখন ব্যবহার করেন, তখন তা আর অল্প থাকে না। কারণ, এআই এখন প্রতিনিয়ত নানা ধরণের কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন লেখালেখি, অনুবাদ, ছবি তৈরি, কোড লেখা, সার্চ, পড়াশোনা এবং অফিসের নানা কাজে সবাই এটি ব্যবহার করছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় বড় এআই মডেল তৈরি করছে এবং ডেটা সেন্টারে আরও বেশি সার্ভার বসাচ্ছে।
এই পরিমাণ বৃদ্ধিই ভবিষ্যতের মূল উদ্বেগ। ২০২৫ সালের নেচার সাসটেইনেবিলিটি-তে প্রকাশিত গবেষণায় হিসাব করা হয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এআই সার্ভারগুলোর বার্ষিক পানির ব্যবহার পরিস্থিতিভেদে প্রায় ৭৩১ মিলিয়ন থেকে ১.১২৫ বিলিয়ন ঘনমিটার হতে পারে। একই সময়ে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ বছরে ২৪ থেকে ৪৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য হতে পারে। এর সঙ্গে আছে অবকাঠামোগত ব্যবহার। তাই পরিবেশের পক্ষে সংখ্যাটি নেহাত কম নয়।
পানির পরিমাণের পাশাপাশি পানির জায়গার আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। একটি ডেটা সেন্টার এমন এলাকায় থাকলে যেখানে প্রচুর পানি রয়েছে, সেখানে একই পরিমাণ পানি ব্যবহার স্থানীয়ভাবে তুলনামূলক কম চাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেটিই যদি এমন এলাকায় হয় যেখানে আগে থেকেই খরা, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট বা কৃষির জন্য পানির চাপ রয়েছে, তাহলে বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়।
নেচার সাসটেইনেবিলিটির গবেষণায়ও দেখা গেছে, এআই সার্ভারের পরিবেশগত প্রভাব ডেটা সেন্টারের অবস্থানের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে। গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঞ্চলে পানির সংকট বেশি, সেসব জায়গায় এআই অবকাঠামো বৃদ্ধির সম্ভাব্য ঝুঁকি আলাদা করে দেখেছেন।
যখন একটি বড় ডেটা সেন্টারের পানির চাহিদা এমন একটি স্থানীয় পানিব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়, যেখানে মানুষের পানীয় জল, কৃষি, শিল্প এবং পরিবেশ—সবকিছুরই চাহিদা রয়েছে, তখন সেখানে নানা সংকট দেখা দেয়।
পানি একটি স্থানীয় সম্পদ। বিদ্যুতের মতো এটি দূর থেকে সহজে সরিয়ে নিয়ে সব জায়গায় সমানভাবে ব্যবহার করা যায় না। তাই একটি ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার জাতীয় মোট পানির তুলনায় ছোট হলেও নির্দিষ্ট একটি এলাকার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইতিমধ্যেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বাংলাদেশের সরকারি জাতীয় ডেটা সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ২ বিলিয়ন ডলারের এআই ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে চায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এডিআইসি’। ‘ফ্রন্টিয়ার এআই ডেটা সেন্টার ও কোয়ান্টাম-রেডি সোভরেন কম্পিউট ক্যাম্পাস’ নামে এই ডেটা সেন্টার করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। স্থান হিসেবে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক অথবা সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কয়েক ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উচ্চ সক্ষমতার পানি সরবরাহ চাওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিপুল সক্ষমতা কোথায় থেকে আসবে এবং তার পরিব্রশগত প্রভাব নিয়ে এর মধ্যই প্রতিবাদ জানিয়েছে পরিবেশবিদরা।
যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ, শব্দদূষণ, বন্য প্রাণীর আবাসস্থলে হস্তক্ষেপ এবং পানি-বিদ্যুতের ওপর চাপ নিয়ে তাদের উদ্বেগ। এমনকি ডেটা সেন্টারের কারণে স্থানীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এই ধরণের সংকট বাংলাদেশ কিভাবে সামাল দেবে তা নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা।
পানির ব্যবহার এরচেয়েও বড় একটি পরিবেশগত হিসাবের অংশ।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ২০২৫ সালের এনার্জি অ্যান্ড এআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলো প্রায় ৪১৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, যা বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১.৫ শতাংশ। প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ১,০০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টার বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই বৃদ্ধির মাত্রা আরও স্পষ্ট। ২০২৬ সালে প্রকাশিত লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে দেশটির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ১১.৮ শতাংশ পর্যন্ত ডেটা সেন্টারে যেতে পারে; বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই হার ৯.৫ থেকে ১৫.৩ শতাংশের মধ্যে হতে পারে।
এই বিদ্যুৎ যদি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উৎস থেকে আসে, তাহলে কার্বন নিঃসরণ বাড়ে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধরন আবার পানির হিসাবেও প্রভাব ফেলে। ফলে এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাবকে আলাদা আলাদা বাক্সে ভাগ করা কঠিন—বিদ্যুৎ, পানি ও জলবায়ু একই ব্যবস্থার অংশ।
এআইয়ে বিপুল পরিমাণ পানির ব্যবহার করলেও তা কমিয়ে আনা অসম্ভব নয়।
কুলিং প্রযুক্তি বদলানো, কম পানির প্রয়োজন হয় এমন জায়গায় ডেটা সেন্টার স্থাপন করা, পুনর্ব্যবহৃত পানি ব্যবহার করা, সার্ভারের দক্ষতা বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পানির পদচিহ্ন বিবেচনায় নেওয়া—এসবই সম্ভাব্য সমাধান।
মাইক্রোসফট ইতিমধ্যে নতুন ধরনের ডেটা সেন্টার নকশা চালু করেছে, যেখানে এআই কাজের জন্য কুলিংয়ে পানি বাষ্পীভবন করা হয় না। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এই নকশা প্রতি ডেটা সেন্টারে বছরে ১২৫ মিলিয়ন লিটারের বেশি পানি ব্যবহারের প্রয়োজন এড়াতে পারে। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে মাইক্রোসফটের নিজস্ব ডেটা সেন্টারগুলোর বৈশ্বিক পানি ব্যবহারের দক্ষতা ছিল প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ০.২৭ লিটার।
তবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, পানি বাষ্পীভবনের বদলে কিছু যান্ত্রিক কুলিং ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহার সামান্য বাড়তে পারে। অর্থাৎ একটি পরিবেশগত সমস্যা কমাতে গিয়ে অন্যটির ওপর চাপ তৈরি না হয়, সেটিও দেখতে হবে।
এআইয়ের পরিবেশগত খরচের সবচেয়ে অস্বস্তিকর দিক হলো—ব্যবহারকারী সাধারণত তা দেখতে পান না।
একটি প্লাস্টিকের বোতল কিনলে বোতলটি হাতে থাকে। গাড়ি চালালে জ্বালানি খরচের হিসাব বোঝা যায়। কিন্তু এআইকে একটি প্রশ্ন করার সময় তার পেছনের ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ, কুলিং এবং পানি—কোনোটিই চোখের সামনে থাকে না।
এ কারণে এআইয়ের পরিবেশগত হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, প্রযুক্তি দক্ষ হলে এই খরচ কমানো সম্ভব। গুগলের ২০২৫ সালের উৎপাদন পরিবেশের পরিমাপে এক বছরে তাদের মাঝারি জেমিনি টেক্সট প্রশ্নের শক্তি ব্যবহার ৩৩ গুণ কমেছে এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট ৪৪ গুণ কমেছে বলে গবেষণায় জানানো হয়েছে।
এআই মানুষের কাজ সহজ করছে, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান থেকে শুরু করে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও বলছে, এআই নিজেই জ্বালানি খাতকে আরও দক্ষ করে তুলতে এবং নির্গমন কমাতে কাজে লাগতে পারে।
তাই এআই ব্যবহার বন্ধ না করে ভাবতে হবে কী ধরনের এআই আমরা তৈরি করছি, কোথায় তার ডেটা সেন্টার বসাচ্ছি, কী দিয়ে তাকে ঠান্ডা রাখছি এবং সেই প্রযুক্তির পরিবেশগত খরচ কে বহন করছে। কারণ এআই ভার্চুয়াল হলেও তার ‘বডি’ বা শরীর আছে। সেই শরীরের নাম সার্ভার, ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎকেন্দ্র আর কুলিং ব্যবস্থা। আর সেই শরীর চালাতে পানি লাগে। তাই জলবায়ু, পানি, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এই পৃথিবীতে কিভাবে এই রিসোর্স সবচেয়ে কম ব্যবহার করে বেশি ফল পাওয়া যায়- সেই রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে।
.png)
-a0f295-256x144.webp)
নাজমা আক্তারের (ছদ্ম নাম) সকাল শুরু হয় পানির খোঁজে। একটু নিরাপদ ও কম লবণাক্ত পানির আশায় তাঁকে হাঁটতে হয় অনেকটা দূর। সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে সূর্য চড়ে বসে মাথার ওপর। তারপর রান্না, সন্তান, সংসার, কখনো মাঠের কাজ। কিন্তু প্রতিদিনের এই চেনা লড়াইয়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় আরেক সংগ্রাম—‘প্রজনন স্বাস্থ্য’। স
২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে ঘনিয়ে আসা ‘এল নিনো’ স্মরণকালের শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস। ফলে ২০২৭ সাল হতে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর।
২১ আগস্ট ২০২৬
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর স
১৮ আগস্ট ২০২৬
হাতিকে বাঁচাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে বাঁশবাগান সৃজন, জলাধার নির্মাণসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা।
১২ আগস্ট ২০২৬