গ্যাস সংযোগ না থাকায় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভরসা এলপিজি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলে দীর্ঘদিন গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর ভরসা করতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এবং ফেনীর সোনাগাজীতে গড়ে ওঠা এই শিল্পনগরীর আয়তন প্রায় ৩০ হাজার একর। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে প্রায় ১ হাজার ১৩৮ দশমিক ৫৫ একর জমির ওপর দুটি পৃথক জোন গড়ে উঠেছে। ৫২ শতাংশে জোন-১ এবং বাকি ৪৮ শতাংশ জায়গায় জোন-২। এই দুই জোনে ৫৩৯টি শিল্প প্লটের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন ধীরগতি থাকলেও বর্তমানে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ বেশ গতি পেয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে ‘তাইমা সুজ বিডি’ নামের চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা আরমান উদ্দিন জানান, এই জোনে তাদের আরও বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে।

গ্যাসের সংযোগ নেই, বাড়ছে এলপিজির নির্ভরতা

গ্যাস সংযোগের অভাবকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্ধারিত পাইপলাইন দীর্ঘ সময়েও নির্মাণ হয়নি। এতে কিছু কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। আবার উৎপাদন চালু রাখা কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

মিরসরাই জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে কিয়াম হাউজ‌ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি। সংগৃহীত ছবি
মিরসরাই জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে কিয়াম হাউজ‌ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি। সংগৃহীত ছবি

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়সার রহমান বলেন, গ্যাস সংযোগ না থাকায় কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারছে না এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আপাতত এলপিজিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘খাইশী লিনজেরি বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর মানবসম্পদ কর্মকর্তা জামান উল্লাহ জানান, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে প্রায় ৭ থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি ব্যবহার করছে।

পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ প্রকিউরমেন্ট পর্যায়ে

গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে বেজার প্রকল্প পরিচালক এম. সাইফুর রহমান জানান, গ্যাস সঞ্চালনের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের একটি প্যাকেজ বর্তমানে প্রকিউরমেন্ট (ক্রয়) পর্যায়ে রয়েছে।

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যুতের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ জরুরি।

চীনা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডিসি ইন্ড্রাস্ট্রি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা। সংগৃহীত ছবি
চীনা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডিসি ইন্ড্রাস্ট্রি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা। সংগৃহীত ছবি

দ্রুত পাইপলাইন নির্মাণ ও গ্যাস সংযোগ চালু হলে অপেক্ষমাণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে বলেও আশা তাঁদের।

বিদ্যুৎ সরবরাহে সন্তুষ্ট বিনিয়োগকারীরা

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়সার রহমান জানান, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শতভাগ চীনা মালিকানাধীন জুতার সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপিএসটি সুজ বিডি’র মানবসম্পদ কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন তারেক বলেন, কারখানা পরিচালনায় বিদ্যুৎ সংকট নেই। বেপজার তত্ত্বাবধানে নিজস্ব উপকেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়তে হয় না।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত