জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নির্বাচন ঘিরে তৎপর সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। স্ট্রিম ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁরা বিভিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। এ সময় তাঁরা নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ কর্মসূচিও পালন করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে তাঁরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সারাদেশে তাঁরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কোনো রকম সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

নির্বাচনের আগে রাজধানীতে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। স্ট্রিম ছবি
নির্বাচনের আগে রাজধানীতে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। স্ট্রিম ছবি

সরেজমিনে রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও বাংলামোটর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘স্পেশাল রোবাস্ট পেট্রোলিং কর্মসূচি’ পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। এসময় তাদের সঙ্গে ছিল তিনটি এপিসি ও একটি পিকাপ গাড়ি। সেইসঙ্গে বেশ কিছু বিজিবি সদস্য নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ঘুরতে দেখা গেছে তাঁদের।

এছাড়াও রাজধানীর গুলশান, বনানী, কাকরাইল, কাওরান বাজার মোড়, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকাতে স্পেশাল পেট্রোলিং কর্মসূচি পালন করছে বিজিবি।

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সেইসঙ্গে মাঠে রয়েছে র‍্যাবও।

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে আমাদের জোরালো ভূমিকা ছিল। গত দেড়-দুই মাসে অসংখ্য অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’

সংসদ ভবনের সামনে মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করছেন সেনা সদস্যরা। স্ট্রিম ছবি
সংসদ ভবনের সামনে মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করছেন সেনা সদস্যরা। স্ট্রিম ছবি

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্ব আমরা তিনটা পর্যায়ে ভাগ করেছিলাম। নির্বাচন পূর্ব সময়, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়। দু-একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন পূর্ব সময়টি আমরা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছি। কালকে নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা স্ট্রাইকিং এবং মোবাইল টিম হিসেবে কাজ করবো। সারা দেশের ৬৪ জেলা এবং ৮টি মেট্রো এলাকায় আমাদের টিম মোতায়েন আছে। বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই আমরা নির্বাচন সম্পন্ন করবো।’

এদিকে, যেকোনও ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টাকে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজিবির একাধিক নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শনকালে দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বিজিবি সদস্যদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্ন ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক টহল পরিচালনা এবং চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।’

সড়কে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। স্ট্রিম ছবি
সড়কে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। স্ট্রিম ছবি

অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বকালের সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন করতে চান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আমরা একটা ঐতিহাসিক, সর্বকালের সবচাইতে নিরাপদ নির্বাচন করতে চাই। সেজন্যই আমরা বেশি প্রস্তুতি নিয়েছি। পরাজিত শক্তি, ফ্যাসিস্ট শক্তি যারা হুমকি দিত, তারা নিজেরাও ডিসকারেজড। এখন আর কাউকে ওইরকম থ্রেট মনে করি না। আমরা উদাহরণ তৈরি করতে চাই, যেন ইতিহাসে এই ইলেকশনটা লেখা থাকে।’

আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ তিন ধরনের ব্যবস্থা নেবে। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৮৯টি ভোটকেন্দ্র প্রহরা এবং পরিচালনার জন্য আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এর বাইরে ভ্রাম্যমাণ পুলিশের দল থাকবে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা স্ট্রাইকিং পুলিশ ফোর্স বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত করব।’

নির্বাচনী নিরাপত্তায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।

Ad 300x250

সম্পর্কিত