সালেহ ফুয়াদ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার শেষ। সামাজিক মাধ্যমে এখনো রয়ে গেছে তার রেষ। মাঠের মতো ভার্চুয়াল লড়াইয়েও ‘দিল-খোলা’ প্রার্থীরা। বিভিন্ন দলের ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দেদার ঢেলেছেন অর্থ। সহজে বললে ডলার। কারণ, ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ডলারেই দিতে হয়।
ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার তথ্যে, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৭ কোটির বেশি, যাদের বড় অংশ তরুণ। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর সমর্থন পেতে সামাজিক মাধ্যমটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা হাজার হাজার ডলারের বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। এককভাবে ডলার খরচে শীর্ষে আছেন ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। তিনি লড়ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপক্ষে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, এবার একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অথবা ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচ করতে পারবেন। ব্যানার-ফেস্টুন ও নির্বাচনী ক্যাম্পে ব্যয়ের পাশাপাশি প্রথমবার আচরণবিধিতে ডিজিটাল প্রচারের আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল মাধ্যমের খরচ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে জানায় এবং যে আইডি বা পেজ থেকে প্রচার চালানো হবে, তার বিশদ প্রচার শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দিতে বলেছিল।
স্ট্রিম তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, অনেক প্রার্থী ইসির বেঁধে দেওয়া সীমার প্রায় সমান বা কাছাকাছি ব্যয় শুধু ডিজিটাল মাধ্যমেই করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির পর্যবেক্ষণের তথ্য দিয়ে তিনি বলেছেন, অনেক প্রার্থী নির্বাচনে নির্ধারিত ব্যয়সীমা পার করেছেন। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এমন প্রার্থীরা গড়ে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন।

কোন দলের কত খরচ
মেটার অ্যাড লাইব্রেরির ‘সোশ্যাল ইস্যুস, ইলেকশনস অ্যান্ড পলিটিকস’ ক্যাটাগরির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯০ দিনে দলীয়ভাবে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
ভেরিফায়েড ‘BNP Media Cell’ এই সময়ে ৪ হাজার ৯৭৪ ডলার (৬ লাখ ৮ হাজার ৮৮ টাকা) এবং ‘Bangladesh Nationalist Party-BNP’ থেকে ৩ হাজার ৬৭০ ডলারের (৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭০ টাকা) বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সিলেট, বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পেজ থেকেও গত এক সপ্তাহে হাজারের বেশি ডলার খরচের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর বাইরে নামে-বেনামে এমন বহু পেজ পাওয়া গেছে, যেখানে বিএনপি ও তাদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নানা বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর খোলা ‘আমার ধান—আমার প্রাণ’ পেজ ১ হাজার ৯৮৫ ডলার, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ থেকে শুধু ২৯ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে ২ হাজার ৪১, ‘গণসার্কাস’ ২ হাজার ২২০ এবং ‘Bangladesh Live’ পেজ থেকে গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ৬৯৬ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ফেসবুকে জামায়াত প্রচার চালিয়েছে ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ পেজ থেকে। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর খোলা পেজটি মোট ৬ হাজার ৩২৮ ডলার খরচ করেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯০ দিনে বাংলাদেশি পেজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডলার খরচ করেছে ‘Dhaka News 24 Online’। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তৈরি পেজটি মূলত জামায়াতের প্রচারে ব্যবহৃত হয়েছে এবং গত ৩০ দিনে ৯ হাজার ৩০৭ ডলার (১১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১১ টাকা) ব্যয় করেছে। এর মধ্যে আবার ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শেষ এক সপ্তাহে ঢেলেছে ৯ হাজার ২৩৪ ডলার।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম স্ট্রিমকে বলেছেন, অনেক প্রার্থীই নির্বাচনের ব্যয়সীমা মানেন না। দুঃখের বিষয় এসব খুব মনিটরিংও হয় না। ইসি এবার কমিটি করলেও কাজটি কতটা কার্যকরভাবে করেছে, তা জানি না। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমের ব্যয় সার্বক্ষণিক নজরে রাখা দরকার ছিল।
তিনি বলেন, যারা ব্যত্যয় ঘটাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী এসব বিধিমালা করে লাভ নেই। একটি শক্তিশালী মনিটরিং দরকার।
ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, আইন খুব স্পষ্ট। প্রার্থীকে ইসির নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে থাকতে হবে, যাতে ডিজিটাল প্রচারের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। ব্যয়সীমার বেশি খরচ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। কিন্তু এজন্য প্রতিদিন প্রার্থীদের ব্যয় মনিটরিং করতে হবে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেন, খরচের হিসাব প্রার্থীরা দেবেন– শর্তে ডিজিটাল প্রচারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তার কাছে তারা পেজের তালিকা ও হিসাব পাঠিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা নজরদারি করছেন।
এককভাবে শীর্ষে জামায়াতের খালিদুজ্জামান
ফেসবুকে খরচে এককভাবে শীর্ষে আছেন ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। তাঁর পক্ষে ‘Dhaka News 24 Online’, ‘Dhaka 17 News’ ও ‘Dr. Khaliduzzaman SM’ পেজ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘Dhaka News 24 Online’ গত ৩০ দিনে ৯ হাজার ৩০৭ ডলার (১১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১১ টাকা), ‘Dhaka 17 News’ ৮ হাজার ১১২ ডলার (৯ লাখ ৮৯ হাজার ১৯১ টাকা) এবং ‘Dr. Khaliduzzaman SM’ থেকে গত ৯০ দিনে ৫ হাজার ৬৪৯ ডলার (৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪৮ টাকা) খরচ করা হয়েছে। পেজ তিনটি থেকে ২৮ লাখ ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৯ জন। এই হিসাবে ইসির বেঁধে দেওয়া নিয়মে এখানে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯০ টাকা খরচ করতে পারবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের। এর ঠিক ২০ দিন পর Dr. Khaliduzzaman SM নামের পেজ খোলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের মেডিকেল থানা কমিটির আমির খালিদুজ্জামান। এরপর পেজটি থেকে বিজ্ঞাপনে ২০ হাজার ৬৩৯ ডলার (২৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৭ টাকা) ব্যয় করা হয়েছে, যা গত ৯০ দিনে ব্যক্তিগত পেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এস এম খালিদুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসএমএস দিলেও সাড়া মেলেনি।
পিছিয়ে নেই হেভিওয়েটরা
ঢাকা-১৭ আসনে খালিদুজ্জামানের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের নামের (Tarique Rahman) ৫.৮ মিলিয়ন অনুসারীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৫৫ ডলার (২৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪ টাকা) বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
২০০৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি খোলা পেজটির আগের হিসাব স্ট্রিম জানতে পারেনি। সর্বশেষ ৯০ দিনে ২ হাজার ৯৩৬ ডলার (৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯১ টাকা) খরচ করা হয়েছে।

এর বাইরে ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর খোলা তারেক রহমানের ‘Tarique Rahman। Dhaka 17’ পেজ থেকে এক সপ্তাহে বিজ্ঞাপনে ১০০ ডলার (১ লাখ ২ হাজার ১৯৪ টাকা) ব্যয় করেছে। ‘Tarique Rahman for Bangladesh’ নামে নতুন খোলা আরেকটি পেজ থেকেও ১০০ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
মেটার তথ্যে, গত ৯০ দিনের খরচে খালিদুজ্জামানের পরেই আছেন বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী, ৫ হাজার ৫১৬ ডলার। ২০২৩ সালের ১ জুলাই খোলা ১ লাখ অনুসারীর ‘Humam Quader Chowdhury’ পেজ থেকে তিনি খরচ করেছেন ৬ হাজার ৭৩২ ডলার (৮ লাখ ২২ হাজার ২৩১ টাকা)।

ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে ‘আমাদের ঢাকা-১৩’ পেজ এ পর্যন্ত ৬৬৩ ডলার ব্যয় করেছে। একই আসনে নিজের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ‘দিনবদলের এখনই সময়’ পেজ থেকে ১ হাজার ৪৭১ ডলার (১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ টাকা) খরচ করা হয়েছে, যা মামুনুল হকের দ্বিগুণের বেশি। দুজনই কাছাকাছি সময়ে পেজ খোলেন। ববি হাজ্জাজের নিজের নামে থাকা ৭ লাখ ২৮ হাজার অনুসারীর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে গত তিন মাসে ৩৪৭ ডলার (৪২ হাজার ৩১৩ টাকা) ব্যয় করেছেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল খোলা। গত তিন মাসে এখান থেকে ৩ হাজার ৩৭১ ডলার (৪ লাখ ১১ হাজার ৬৫ টাকা) বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ২ হাজার ৬৬৪ ডলার ঢেলেছেন জামায়াত আমির। ‘আমরা ডা. শফিকুর রহমানের সমর্থক গোষ্ঠী, ঢাকা-১৫’ পেজ থেকেও তাঁর পক্ষে ১ হাজার ৫৬৫ ডলার (১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ টাকা) ব্যয় করা হয়েছে।
‘Peoples Time 24 BD’ পেজ থেকে গত কয়েক দিনে ১ হাজার ৯৪২ ডলার খরচ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর খোলা পেজটি এ পর্যন্ত তিনবার নাম পরিবর্তন করেছে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারির আগের কোনো পোস্ট নেই। বর্তমান সব পোস্টই জামায়াতের রাজনৈতিক প্রচার-সংক্রান্ত।
ডলার খরচে উদার অন্য নেতারাও
তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেসবুকে ডলার উড়িয়েছেন দল দুটির স্থানীয় নেতারা। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সুনামগঞ্জ-১ আসনের স্থানীয় বিএনপি নেতা আনিসুল হক গত ৯০ দিনে ২ হাজার ২৩৩ ডলার (২ লাখ ৭২ হাজার ৮০৭ টাকা) ব্যয় করেছেন। তাঁর ‘ANISUL HAQUE’ পেজ থেকে আরও ৬৯৫ ডলার খরচ করেছেন তিনি।
গত ৯০ দিনে সাত হাজার থেকে সর্বনিম্ন দুই হাজার ডলার খরচ করা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন– কুমিল্লা-৯ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালাম, বাগেরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম, গাজীপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান, দিনাজপুর-৬ আসনের ধানের শীষের ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এমএ কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী মোহাম্মদ শাহ আলম, ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের আজহারুল ইসলাম মান্নান, ঢাকা-১৬ আসনে দাঁড়িপাল্লার আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের একটি পেজ, পাবনা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার কেএম হেসাব উদ্দিন, সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের সেলিম উদ্দিন, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এমএ মালিক, সিলেট-১ আসনে বিএনপির খন্দকার মুক্তাদির, টাঙ্গাইল-১ আসনে ধানের শীষের ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সিলেট-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান, টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র সালাউদ্দিন আলমগীর, নোয়াখালী-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের জহিরুল ইসলাম, ঢাকা-১০ আসনে ধানের শীষের শেখ রবিউল আলম, একই প্রতীকের ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ প্রমুখ।
ঢাকা-২০ আসনে শাপলা কলির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ, ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষের দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, পাবনা-৩ আসনে ট্রাক প্রতীকের হাসানুল ইসলাম রাজা, ঢাকা-১৪ আসনে স্বতন্ত্র সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু, মেহেরপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার মাওলানা তাজউদ্দীন খান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ধানের শীষের বাবু খান নির্বাচনী প্রচারে ফেসবুকে গত তিন মাসে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন।
১০০ ডলারের নিচে খরচ মেটার অ্যাড লাইব্রেরিতে দেওয়া হয় না। তবে গত তিন মাসে ফেসবুকে ১০০ ডলার খরচ করেছেন– এমন প্রার্থীর তালিকায় প্রায় সব দলের নেতাই রয়েছেন।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার শেষ। সামাজিক মাধ্যমে এখনো রয়ে গেছে তার রেষ। মাঠের মতো ভার্চুয়াল লড়াইয়েও ‘দিল-খোলা’ প্রার্থীরা। বিভিন্ন দলের ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দেদার ঢেলেছেন অর্থ। সহজে বললে ডলার। কারণ, ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ডলারেই দিতে হয়।
ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার তথ্যে, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৭ কোটির বেশি, যাদের বড় অংশ তরুণ। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর সমর্থন পেতে সামাজিক মাধ্যমটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা হাজার হাজার ডলারের বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। এককভাবে ডলার খরচে শীর্ষে আছেন ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। তিনি লড়ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপক্ষে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, এবার একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অথবা ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচ করতে পারবেন। ব্যানার-ফেস্টুন ও নির্বাচনী ক্যাম্পে ব্যয়ের পাশাপাশি প্রথমবার আচরণবিধিতে ডিজিটাল প্রচারের আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল মাধ্যমের খরচ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে জানায় এবং যে আইডি বা পেজ থেকে প্রচার চালানো হবে, তার বিশদ প্রচার শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দিতে বলেছিল।
স্ট্রিম তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, অনেক প্রার্থী ইসির বেঁধে দেওয়া সীমার প্রায় সমান বা কাছাকাছি ব্যয় শুধু ডিজিটাল মাধ্যমেই করেছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির পর্যবেক্ষণের তথ্য দিয়ে তিনি বলেছেন, অনেক প্রার্থী নির্বাচনে নির্ধারিত ব্যয়সীমা পার করেছেন। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এমন প্রার্থীরা গড়ে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন।

কোন দলের কত খরচ
মেটার অ্যাড লাইব্রেরির ‘সোশ্যাল ইস্যুস, ইলেকশনস অ্যান্ড পলিটিকস’ ক্যাটাগরির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯০ দিনে দলীয়ভাবে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
ভেরিফায়েড ‘BNP Media Cell’ এই সময়ে ৪ হাজার ৯৭৪ ডলার (৬ লাখ ৮ হাজার ৮৮ টাকা) এবং ‘Bangladesh Nationalist Party-BNP’ থেকে ৩ হাজার ৬৭০ ডলারের (৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭০ টাকা) বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সিলেট, বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পেজ থেকেও গত এক সপ্তাহে হাজারের বেশি ডলার খরচের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর বাইরে নামে-বেনামে এমন বহু পেজ পাওয়া গেছে, যেখানে বিএনপি ও তাদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নানা বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর খোলা ‘আমার ধান—আমার প্রাণ’ পেজ ১ হাজার ৯৮৫ ডলার, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ থেকে শুধু ২৯ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে ২ হাজার ৪১, ‘গণসার্কাস’ ২ হাজার ২২০ এবং ‘Bangladesh Live’ পেজ থেকে গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ৬৯৬ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ফেসবুকে জামায়াত প্রচার চালিয়েছে ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ পেজ থেকে। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর খোলা পেজটি মোট ৬ হাজার ৩২৮ ডলার খরচ করেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯০ দিনে বাংলাদেশি পেজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডলার খরচ করেছে ‘Dhaka News 24 Online’। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তৈরি পেজটি মূলত জামায়াতের প্রচারে ব্যবহৃত হয়েছে এবং গত ৩০ দিনে ৯ হাজার ৩০৭ ডলার (১১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১১ টাকা) ব্যয় করেছে। এর মধ্যে আবার ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শেষ এক সপ্তাহে ঢেলেছে ৯ হাজার ২৩৪ ডলার।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম স্ট্রিমকে বলেছেন, অনেক প্রার্থীই নির্বাচনের ব্যয়সীমা মানেন না। দুঃখের বিষয় এসব খুব মনিটরিংও হয় না। ইসি এবার কমিটি করলেও কাজটি কতটা কার্যকরভাবে করেছে, তা জানি না। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমের ব্যয় সার্বক্ষণিক নজরে রাখা দরকার ছিল।
তিনি বলেন, যারা ব্যত্যয় ঘটাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী এসব বিধিমালা করে লাভ নেই। একটি শক্তিশালী মনিটরিং দরকার।
ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, আইন খুব স্পষ্ট। প্রার্থীকে ইসির নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে থাকতে হবে, যাতে ডিজিটাল প্রচারের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। ব্যয়সীমার বেশি খরচ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। কিন্তু এজন্য প্রতিদিন প্রার্থীদের ব্যয় মনিটরিং করতে হবে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেন, খরচের হিসাব প্রার্থীরা দেবেন– শর্তে ডিজিটাল প্রচারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তার কাছে তারা পেজের তালিকা ও হিসাব পাঠিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা নজরদারি করছেন।
এককভাবে শীর্ষে জামায়াতের খালিদুজ্জামান
ফেসবুকে খরচে এককভাবে শীর্ষে আছেন ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। তাঁর পক্ষে ‘Dhaka News 24 Online’, ‘Dhaka 17 News’ ও ‘Dr. Khaliduzzaman SM’ পেজ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘Dhaka News 24 Online’ গত ৩০ দিনে ৯ হাজার ৩০৭ ডলার (১১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১১ টাকা), ‘Dhaka 17 News’ ৮ হাজার ১১২ ডলার (৯ লাখ ৮৯ হাজার ১৯১ টাকা) এবং ‘Dr. Khaliduzzaman SM’ থেকে গত ৯০ দিনে ৫ হাজার ৬৪৯ ডলার (৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪৮ টাকা) খরচ করা হয়েছে। পেজ তিনটি থেকে ২৮ লাখ ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৯ জন। এই হিসাবে ইসির বেঁধে দেওয়া নিয়মে এখানে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯০ টাকা খরচ করতে পারবেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনার সরকারের। এর ঠিক ২০ দিন পর Dr. Khaliduzzaman SM নামের পেজ খোলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের মেডিকেল থানা কমিটির আমির খালিদুজ্জামান। এরপর পেজটি থেকে বিজ্ঞাপনে ২০ হাজার ৬৩৯ ডলার (২৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৭ টাকা) ব্যয় করা হয়েছে, যা গত ৯০ দিনে ব্যক্তিগত পেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এস এম খালিদুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসএমএস দিলেও সাড়া মেলেনি।
পিছিয়ে নেই হেভিওয়েটরা
ঢাকা-১৭ আসনে খালিদুজ্জামানের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের নামের (Tarique Rahman) ৫.৮ মিলিয়ন অনুসারীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৫৫ ডলার (২৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪ টাকা) বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
২০০৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি খোলা পেজটির আগের হিসাব স্ট্রিম জানতে পারেনি। সর্বশেষ ৯০ দিনে ২ হাজার ৯৩৬ ডলার (৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯১ টাকা) খরচ করা হয়েছে।

এর বাইরে ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর খোলা তারেক রহমানের ‘Tarique Rahman। Dhaka 17’ পেজ থেকে এক সপ্তাহে বিজ্ঞাপনে ১০০ ডলার (১ লাখ ২ হাজার ১৯৪ টাকা) ব্যয় করেছে। ‘Tarique Rahman for Bangladesh’ নামে নতুন খোলা আরেকটি পেজ থেকেও ১০০ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
মেটার তথ্যে, গত ৯০ দিনের খরচে খালিদুজ্জামানের পরেই আছেন বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী, ৫ হাজার ৫১৬ ডলার। ২০২৩ সালের ১ জুলাই খোলা ১ লাখ অনুসারীর ‘Humam Quader Chowdhury’ পেজ থেকে তিনি খরচ করেছেন ৬ হাজার ৭৩২ ডলার (৮ লাখ ২২ হাজার ২৩১ টাকা)।

ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে ‘আমাদের ঢাকা-১৩’ পেজ এ পর্যন্ত ৬৬৩ ডলার ব্যয় করেছে। একই আসনে নিজের জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ‘দিনবদলের এখনই সময়’ পেজ থেকে ১ হাজার ৪৭১ ডলার (১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ টাকা) খরচ করা হয়েছে, যা মামুনুল হকের দ্বিগুণের বেশি। দুজনই কাছাকাছি সময়ে পেজ খোলেন। ববি হাজ্জাজের নিজের নামে থাকা ৭ লাখ ২৮ হাজার অনুসারীর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে গত তিন মাসে ৩৪৭ ডলার (৪২ হাজার ৩১৩ টাকা) ব্যয় করেছেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল খোলা। গত তিন মাসে এখান থেকে ৩ হাজার ৩৭১ ডলার (৪ লাখ ১১ হাজার ৬৫ টাকা) বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ২ হাজার ৬৬৪ ডলার ঢেলেছেন জামায়াত আমির। ‘আমরা ডা. শফিকুর রহমানের সমর্থক গোষ্ঠী, ঢাকা-১৫’ পেজ থেকেও তাঁর পক্ষে ১ হাজার ৫৬৫ ডলার (১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ টাকা) ব্যয় করা হয়েছে।
‘Peoples Time 24 BD’ পেজ থেকে গত কয়েক দিনে ১ হাজার ৯৪২ ডলার খরচ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর খোলা পেজটি এ পর্যন্ত তিনবার নাম পরিবর্তন করেছে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারির আগের কোনো পোস্ট নেই। বর্তমান সব পোস্টই জামায়াতের রাজনৈতিক প্রচার-সংক্রান্ত।
ডলার খরচে উদার অন্য নেতারাও
তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেসবুকে ডলার উড়িয়েছেন দল দুটির স্থানীয় নেতারা। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা সুনামগঞ্জ-১ আসনের স্থানীয় বিএনপি নেতা আনিসুল হক গত ৯০ দিনে ২ হাজার ২৩৩ ডলার (২ লাখ ৭২ হাজার ৮০৭ টাকা) ব্যয় করেছেন। তাঁর ‘ANISUL HAQUE’ পেজ থেকে আরও ৬৯৫ ডলার খরচ করেছেন তিনি।
গত ৯০ দিনে সাত হাজার থেকে সর্বনিম্ন দুই হাজার ডলার খরচ করা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন– কুমিল্লা-৯ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালাম, বাগেরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম, গাজীপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান, দিনাজপুর-৬ আসনের ধানের শীষের ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এমএ কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী মোহাম্মদ শাহ আলম, ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের আজহারুল ইসলাম মান্নান, ঢাকা-১৬ আসনে দাঁড়িপাল্লার আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের একটি পেজ, পাবনা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার কেএম হেসাব উদ্দিন, সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের সেলিম উদ্দিন, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এমএ মালিক, সিলেট-১ আসনে বিএনপির খন্দকার মুক্তাদির, টাঙ্গাইল-১ আসনে ধানের শীষের ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সিলেট-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান, টাঙ্গাইল-৮ আসনে স্বতন্ত্র সালাউদ্দিন আলমগীর, নোয়াখালী-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের জহিরুল ইসলাম, ঢাকা-১০ আসনে ধানের শীষের শেখ রবিউল আলম, একই প্রতীকের ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ প্রমুখ।
ঢাকা-২০ আসনে শাপলা কলির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ, ঢাকা-১৯ আসনে ধানের শীষের দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, পাবনা-৩ আসনে ট্রাক প্রতীকের হাসানুল ইসলাম রাজা, ঢাকা-১৪ আসনে স্বতন্ত্র সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু, মেহেরপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার মাওলানা তাজউদ্দীন খান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ধানের শীষের বাবু খান নির্বাচনী প্রচারে ফেসবুকে গত তিন মাসে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন।
১০০ ডলারের নিচে খরচ মেটার অ্যাড লাইব্রেরিতে দেওয়া হয় না। তবে গত তিন মাসে ফেসবুকে ১০০ ডলার খরচ করেছেন– এমন প্রার্থীর তালিকায় প্রায় সব দলের নেতাই রয়েছেন।

নির্বাচনে শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, জনগণ বসে থাকবে না। তারা দায়িত্ব ঠিকই পালন করবে এবং সুষ্ঠু ভোট আদায় করে ছাড়বে।
৩৫ মিনিট আগে
নির্বাচনের আগে ভোটারদের টাকা ও নারীদের বিশেষ কাপড় দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছে বিএনপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ঋণখেলাপির কারণে প্রার্থিতা থেকে ছিটকে পড়া কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ঋণখেলাপির কারণে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়া বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, তাঁর নির্দেশিত প্রার্থীকে ভোট না দিলে ভোটারদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেবেন।
৪ ঘণ্টা আগে