মাহবুবুল আলম তারেক

রমজানের আগে পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও বাড়তে শুরু করেছে প্রধান ভোগ্যপণ্যগুলোর দাম। খেজুর, ছোলা, ডাল, চিনি, পেঁয়াজে খুচরা পর্যায়ে এরই মধ্যে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১০০ টাকা। বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতিতে সরবরাহ ঘাটতির নামে এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদ ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শুরুতেই হোঁচট খাবে নতুন সরকার। কারণ, দেশে এখনই সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৯ শতাংশ। গ্যাস সংকটও চলছে। এখন রমজানে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হয়ে উঠতে পারে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেশে রোজা শুরু হতে পারে আগামী বৃহস্পতিবার। এই সময়ে প্রধান ভোগ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল, খেজুর, ছোলা, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, শুধু রমজান মাসেই দেশে সয়াবিন তেলের চাহিদা থাকে প্রায় ৩ লাখ টন। এ ছাড়া চিনির চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন, পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৫ লাখ টন, ছোলার চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টনের মধ্যে এবং খেজুরের চাহিদা ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে প্রায় ৪ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, ৩ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি, ৪৭ হাজার টন খেজুর, ২ লাখ ৫ হাজার টন ডাল, ২ লাখ ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ এবং ১৪ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এই আমদানির বড় অংশই হয়েছে রমজানের চাহিদাকে সামনে রেখে এবং এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
শুধু খেজুর আমদানি চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। তবে আরও খেজুর আমদানির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমদানি বেশি হওয়ায় গত বছরের অনেক খেজুর কোল্ড স্টোরেজে মজুত রয়েছে।
পর্যাপ্ত আমদানি হলেও গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের সবগুলোর দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁয়াজের কেজিতে ১০ টাকা, চিনিতে ৮ থেকে ১০, খেসারি ডালে ১০, রসুনে ২০ এবং ছোলার মানভেদে দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৮ টাকা।
দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন ও ধর্মঘটে কাস্টমস কার্যক্রম ধীরে চলছে। এতে আমদানি পণ্যের অনেক চালান বন্দরে আটকে গেছে। সরবরাহ কমায় খেজুরসহ চাহিদাসম্পন্ন কিছু পণ্যে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদা বেশি থাকায় জাহিদি খেজুরের ১০ কেজির কার্টনে এক রাতেই প্রায় ৬০০ টাকা বেড়েছে। দাব্বাস খেজুরের কার্টুনে বেড়েছে ৪০০ টাকা। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, সম্প্রতি খেজুরবোঝাই একটি জাহাজডুবির ঘটনায় কিছু নির্দিষ্ট জাতের খেজুরের সংকট বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনও একটি কারণ। ভোটের পরই পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটিতে অনেক শ্রমিক বাড়িতে চলে যান। এতে মজুত থাকা সত্ত্বেও বাজারে পণ্য ছাড়তে দেরি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, এবার রমজানের পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি চাহিদার সঙ্গে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। তবে নির্বাচনের কারণে বাজারে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। নির্বাচনী ব্যস্ততায় সরকারি নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরাও সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারকে দ্রুত বাজারে নজর দিতে হবে। আমদানি ও বন্দর থেকে শুরু করে কাস্টমস, গুদাম ও কারখানা যেখানেই সরবরাহে বাধা আছে তা দূর করতে হবে। প্রয়োজন হলে আমদানি বাড়াতে হবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নির্বাচনের সময় তদারকি দুর্বল ছিল। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ে কর্মকর্তাদের অনাগ্রহ দেখা যায়। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভয় ছাড়াই দাম বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। চাঁদাবাজিও একটি কারণ। সরকারকে দ্রুত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে এসব বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তবে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা খেজুরের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এবার সরকার খেজুরের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে ডিসেম্বরে, যা অনেক দেরি। অন্যান্য পণ্যের জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করে বলেন, পাইকারি বাজারে রমজানের কোনো পণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। মূলত খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার লোভে দাম বাড়িয়েছে।
ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মূল্যবৃদ্ধির জন্য ভোক্তাদেরও দায় দেখেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের সমাজে সাধারণ প্রবণতা হলো— রমজান মাস শুরুর আগেই একসঙ্গে অনেক পণ্য কিনে মজুত করা। দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন। কিন্তু এটিই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দেয়।’
ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আবার কিছু ব্যবসায়ী রমজানের আগেই সম্ভাব্য সংকটের কথা তুলে ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। রোজায় বেশি ব্যবহৃত পণ্যগুলোকে কেন্দ্র করে নানা অজুহাত আনা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই সংকটের দাবি তথ্যভিত্তিক নয়; বরং এটি পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির কৌশল।
তার মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে নিয়মিত পণ্যের প্রকৃত মজুত, আমদানির অগ্রগতি ও সরবরাহ পরিস্থিতি প্রকাশ করতে হবে, যেন গুজব ছড়ানোর সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। মজুতদারি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মৌসুমি বাজার তদারকি ব্যবস্থার বদলে সারা বছর নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক করা, তদারকির ক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করা এবং জরিমানার বদলে দোকান বা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত বা বাতিল, গুদাম সিলগালার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

রমজানের আগে পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও বাড়তে শুরু করেছে প্রধান ভোগ্যপণ্যগুলোর দাম। খেজুর, ছোলা, ডাল, চিনি, পেঁয়াজে খুচরা পর্যায়ে এরই মধ্যে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১০০ টাকা। বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতিতে সরবরাহ ঘাটতির নামে এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদ ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শুরুতেই হোঁচট খাবে নতুন সরকার। কারণ, দেশে এখনই সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৯ শতাংশ। গ্যাস সংকটও চলছে। এখন রমজানে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হয়ে উঠতে পারে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেশে রোজা শুরু হতে পারে আগামী বৃহস্পতিবার। এই সময়ে প্রধান ভোগ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল, খেজুর, ছোলা, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, শুধু রমজান মাসেই দেশে সয়াবিন তেলের চাহিদা থাকে প্রায় ৩ লাখ টন। এ ছাড়া চিনির চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন, পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৫ লাখ টন, ছোলার চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টনের মধ্যে এবং খেজুরের চাহিদা ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে প্রায় ৪ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, ৩ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি, ৪৭ হাজার টন খেজুর, ২ লাখ ৫ হাজার টন ডাল, ২ লাখ ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ এবং ১৪ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এই আমদানির বড় অংশই হয়েছে রমজানের চাহিদাকে সামনে রেখে এবং এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
শুধু খেজুর আমদানি চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। তবে আরও খেজুর আমদানির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আমদানি বেশি হওয়ায় গত বছরের অনেক খেজুর কোল্ড স্টোরেজে মজুত রয়েছে।
পর্যাপ্ত আমদানি হলেও গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের সবগুলোর দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁয়াজের কেজিতে ১০ টাকা, চিনিতে ৮ থেকে ১০, খেসারি ডালে ১০, রসুনে ২০ এবং ছোলার মানভেদে দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৮ টাকা।
দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন ও ধর্মঘটে কাস্টমস কার্যক্রম ধীরে চলছে। এতে আমদানি পণ্যের অনেক চালান বন্দরে আটকে গেছে। সরবরাহ কমায় খেজুরসহ চাহিদাসম্পন্ন কিছু পণ্যে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদা বেশি থাকায় জাহিদি খেজুরের ১০ কেজির কার্টনে এক রাতেই প্রায় ৬০০ টাকা বেড়েছে। দাব্বাস খেজুরের কার্টুনে বেড়েছে ৪০০ টাকা। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, সম্প্রতি খেজুরবোঝাই একটি জাহাজডুবির ঘটনায় কিছু নির্দিষ্ট জাতের খেজুরের সংকট বেড়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনও একটি কারণ। ভোটের পরই পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটিতে অনেক শ্রমিক বাড়িতে চলে যান। এতে মজুত থাকা সত্ত্বেও বাজারে পণ্য ছাড়তে দেরি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, এবার রমজানের পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি চাহিদার সঙ্গে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। তবে নির্বাচনের কারণে বাজারে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। নির্বাচনী ব্যস্ততায় সরকারি নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরাও সুযোগ নিয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারকে দ্রুত বাজারে নজর দিতে হবে। আমদানি ও বন্দর থেকে শুরু করে কাস্টমস, গুদাম ও কারখানা যেখানেই সরবরাহে বাধা আছে তা দূর করতে হবে। প্রয়োজন হলে আমদানি বাড়াতে হবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নির্বাচনের সময় তদারকি দুর্বল ছিল। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ে কর্মকর্তাদের অনাগ্রহ দেখা যায়। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভয় ছাড়াই দাম বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। চাঁদাবাজিও একটি কারণ। সরকারকে দ্রুত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে এসব বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তবে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা খেজুরের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এবার সরকার খেজুরের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে ডিসেম্বরে, যা অনেক দেরি। অন্যান্য পণ্যের জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করে বলেন, পাইকারি বাজারে রমজানের কোনো পণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। মূলত খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার লোভে দাম বাড়িয়েছে।
ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মূল্যবৃদ্ধির জন্য ভোক্তাদেরও দায় দেখেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের সমাজে সাধারণ প্রবণতা হলো— রমজান মাস শুরুর আগেই একসঙ্গে অনেক পণ্য কিনে মজুত করা। দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন। কিন্তু এটিই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দেয়।’
ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আবার কিছু ব্যবসায়ী রমজানের আগেই সম্ভাব্য সংকটের কথা তুলে ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। রোজায় বেশি ব্যবহৃত পণ্যগুলোকে কেন্দ্র করে নানা অজুহাত আনা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই সংকটের দাবি তথ্যভিত্তিক নয়; বরং এটি পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির কৌশল।
তার মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে নিয়মিত পণ্যের প্রকৃত মজুত, আমদানির অগ্রগতি ও সরবরাহ পরিস্থিতি প্রকাশ করতে হবে, যেন গুজব ছড়ানোর সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিবিড় নজরদারি বাড়াতে হবে। মজুতদারি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মৌসুমি বাজার তদারকি ব্যবস্থার বদলে সারা বছর নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক করা, তদারকির ক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করা এবং জরিমানার বদলে দোকান বা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত বা বাতিল, গুদাম সিলগালার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভবিষ্যতে সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’ সরব হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজান উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করছে টিসিবি।
১ দিন আগে