জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

শাবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ১৭ দিন বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩৩
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ১৭ দিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই নিয়োগ বাতিল ছাড়া ক্লাসে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন।

বিভাগের অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তানজিদ রহমান অপূর্ব বলেন, ‘আমরা ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। প্রশাসন একাধিকবার নিয়োগ বাতিল হবে– আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন করছে না। আমাদের একটাই দাবি– এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল করতে হবে।’

পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাজবিউল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের আমলে। আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকার পরও তাঁকে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, তাজবিউল ইসলাম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতকে সিজিপিএ ৭ দশমিক ৩৫ (১০ পয়েন্ট স্কেলে) পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রচলিত সিজিপিএতে এটি রূপান্তর করলে তা ৩ দশমিক ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ২৫ হয়। অথচ ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৫০ সিজিপিএ চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাজবিউল ওই বছরের জুনে নিয়োগ পান। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি পাঠদানে অংশ নিতে পারেননি। বাকি সুবিধা পেয়ে আসছেন।

জানা যায়, নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোরব তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে প্রশাসন। অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধসহ চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে সুপারিশ করে কমিটি। এরপর ২৩৫তম সিন্ডিকেটে তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করা হবে কিনা– এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মন্তব্য চাওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসন আইন উপদেষ্টার কোনো মন্তব্য নেয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা তাজউদ্দিন বলেন, ‘মন্তব্য চাওয়া হয়েছে কিনা বা আমি দিয়েছি কিনা, তা ফাইল না দেখে বলতে পারব না।’

এদিকে, নিয়োগের দেড় বছর পরও চাকরিতে যোগদানে বিরত রাখায় তাজবিউল গত ২৫ জানুয়ারি রিট করেন। রিটের কপি নিয়ে তিনি ২ ফেব্রুয়ারি বিভাগে আসেন। পরদিন থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিক্ষোভ করছেন।

এ বিষয়ে তাজবিউল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট খারিজের আবেদন করা হয়েছে। পিএমই বিভাগের প্রধানের পছন্দের উকিল দিয়ে এটা করা হচ্ছে। শিগগির এটি চেম্বার আদালতে শুনানি হতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত