
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তত দিন তেলের দামও কমবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর বিবিসির।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাস যান ট্রাম্প। পথে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে, কারণ তারা (ইরান) আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।’ তিনি জানান, এরপর তেলের দাম দ্রুত কমতে থাকবে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের জনসমর্থন দিন দিন কমছে। তাঁর রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও এই যুদ্ধ শেষ করার চাপ বাড়ছে।
এর মধ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হওয়ায় তেলের দাম জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে (৭৪ পাউন্ড) পৌঁছেছে।
তবে ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ইরান মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি দুর্বল গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের (ডেমোক্র্যাট) একা ছেড়ে দিলে তাঁরা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে।
তবে নির্বাচনে ইরানের হস্তক্ষেপের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি ট্রাম্প। তেহরানও বারবার বলে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
টেক্সাসের সম্মেলনেও ট্রাম্প একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমরা ‘জিতলেই’ তেলের দাম দ্রুত কমবে। এ সময়ে ট্রাম্প কিছু আমেরিকানের অসন্তোষের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘লোকজন আমার কাছে এসে বলে, আমি চাইতাম না আপনি ইরানে যুদ্ধ শুরু করুন। এখন গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।’
ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, ‘এখন এ নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমদিকে ধারণা করেছিলেন, যুদ্ধটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। এখন এই যুদ্ধ সাত মাসে পড়েছে। সংঘাত এবং এর প্রভাবে গ্যাস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হারও দ্রুত কমেছে। একই সঙ্গে তাঁর দল ও ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের কাছ থেকেও দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার চাপ বাড়ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর হবে। এতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারানোর প্রবণতা দেখা যায়।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। অঞ্চলটির বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচ বাড়ায় বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ছে।
বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে তারা হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, হামলায় এসব জাহাজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর এক দিন আগে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালায়। এতে দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি আবারও লড়াই শুরু হয়েছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন পূর্বাভাসও দেওয়া হচ্ছে।
.png)
-028855-256x144.webp)


-fec865-256x144.webp)


