
বরিশালের বাকেরগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে নাদিরা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে মাদকবিরোধী অভিযানে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে আদালতে নেওয়ার পথে অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। যদিও চিকিৎসা শুরুর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে নাদিরার স্বামী এনামুল হক গাজীর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তাঁর দাবি, জমি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বাড়িতে যায়। পরে তাঁকে না পেয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানে নাদিরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এনামুল হক গাজী পালিয়ে যান।
জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নাদিরাকে গ্রেপ্তারের আগে তিনি ইয়াবা গিলে ফেলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। পাকস্থলী পরিষ্কারের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললেও তিনি রাজি হননি। পরে আদালতে নেওয়ার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নাদিরার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। এতে শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
নাদিরার লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশের কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিটিয়ে হত্যা ও বাসা থেকে অর্থ লুটের অভিযোগ স্বামীর
নাদিরার স্বামী এনামুল হক গাজী অবশ্য পুলিশের বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তাঁর জমি নিয়ে বিরোধের মামলা রয়েছে। ওই মামলার পরোয়ানায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে মঙ্গলবার শেষরাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে। পরে তাকে না পেয়ে স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায়।
এনামুল হক বলেন, ‘সেলিমের পক্ষ হয়ে পুলিশ আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। থানায় তাঁকে খাবারও দিতে দেওয়া হয়নি। স্ত্রীকে মেরে ফেলে আমাকে থানায় ডেকেছে। এ ছাড়া পুলিশ বাড়ি থেকে গরু বিক্রির এক লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ টাকা, সোনার চেইন, আংটি ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে।’
এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এনামুল।
এনামুলের মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তথ্যে গরমিল
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, এনামুল হক গাজী মাদক কারবারি বলে এলাকায় পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করা মাদক কারবারির একটি তালিকায় তার নাম প্রথম দিকে রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে এর আগে কয়েক দফা অভিযান চালালেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তবে এনামুলের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় মাদকের মামলা রয়েছে কি না, তা জানাতে পারেননি ওসি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এনামুল ২০ বছর ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদক কারবারে যুক্ত থাকলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ায় বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
অধিকারের বরিশাল ফোকাল পার্সন আজিজ শাহীন বলেন, নাদিরার মৃত্যুর কারণ নিয়ে পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এখন ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কতটা স্পষ্ট হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
.png)
-028855-256x144.webp)





