
উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ৭০ সেন্ট। গত জুলাইয়ের পর জ্বালানি তেলের দাম এটাই সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগর। এছাড়া সৌদি আরবে তেলের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এই অস্থিরতার কারণেই তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা তেলের বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথেই পরিবহন হয়। ইরান নতুন করে ওমান সাগর ও আরব সাগরের একটি অংশে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে চারটি ওমান উপসাগরে এবং অন্যটি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা দুদিন একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জবাবে এই হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের হামলায় সেই যুদ্ধজাহাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরান আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
.png)
-028855-256x144.webp)





