জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কংক্রিট দিয়ে সামরিক ঘাঁটি আড়াল করছে ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ৪১
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি আড়াল করতে দেখা গেছে। রয়টার্সের ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা ও আঞ্চলিক যুদ্ধের হুমকির মধ্যেই নিজেদের সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে ইরান। সদ্য প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান তাদের পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের একটি নতুন স্থাপনার ওপর বিশাল ‘কংক্রিটের সুরক্ষা’ বা বর্ম তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি ও ভ্যানটেজের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান দ্রুতগতিতে ওই স্থানের পুনর্নির্মাণ ও সুরক্ষার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

ছবিগুলোতে আরও দেখা যায়, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের টানেলগুলোর প্রবেশপথ ইরান পুরোপুরি মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে। এছাড়া নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে পাহাড়ের নিচের টানেলগুলোর প্রবেশপথও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

পারচিন ঘাঁটিতে কংক্রিটের বর্ম

তেহরান থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পারচিন কমপ্লেক্স ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের দীর্ঘদিনের সন্দেহ, দুই দশক আগে ইরান এখানে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল। যদিও ইরান সবসময় দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি হামলায় পারচিনের একটি আয়তাকার ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরেই সেখানে নতুন ছাদ লাগানোর কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে সেখানে একটি ধাতব কাঠামোর ওপর কংক্রিটের আস্তরণ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারির ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুরো কাঠামো এখন কংক্রিট ও মাটির নিচে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) এই স্থাপনাকে ‘তালেগান-২’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড অলব্রাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সুবিধা পাচ্ছে ইরান। গত কয়েক সপ্তাহে তারা তালেগান-২ স্থাপনাকে মাটির নিচে চাপা দিয়েছে। এটি এখন আকাশপথে হামলার জন্যও একটি দুর্ভেদ্য বাঙ্কারে পরিণত হয়েছে।’

কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও সামরিক হুমকি

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলছে। গত মঙ্গলবার উভয় পক্ষ কিছু ‘গাইডিং প্রিন্সিপাল’ বা মূলনীতিতে একমত হলেও বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে, যা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের দাবি। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা করবে; প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ও ট্রাম্পের হুমকি

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি উভয় পক্ষ সামরিক তৎপরতাও বাড়াচ্ছে। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে মহড়া চালিয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করা ইরানের জন্য ‘বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘ইরান যদি চুক্তি না করে, তবে এই অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক রেজিম (শাসনব্যবস্থা) নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে।’

অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ও সিবিএস জানিয়েছে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছে, তারা আগামী শনি-রোববার ইরানে হামলা চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

Ad 300x250

সম্পর্কিত