যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে মুখোমুখি ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২: ৩৬
রাস্তার পাশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনির ছবিযুক্ত একটি বিলবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয় তুলে ধরার পন্থা নিয়ে ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সরকারি তথ্য পরিষদ আইআরআইবির বিরুদ্ধে ‘সেন্সরশিপের’ অভিযোগ তোলে। তাঁদের দাবি, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ সম্প্রচার করা হয়নি। খবর আলজাজিরার।

জবাবে শনিবার আইআরআইবি জানায়, দেশের নেতৃত্বের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হতে পারে– এমন কিছু প্রচার না করাই তাদের দায়িত্ব।

পেজেশকিয়ান ওই ভাষণে বলেছিলেন, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা না করার কথা বললেও ব্যক্তিগতভাবে অনুমতি দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, তিনি ও তাঁর সহযোগীরা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলে খামেনি তাঁদের আলোচনায় বসার নির্দেশ দেন এবং সেই নির্দেশেই আলোচনা শুরু হয়।

সরকারের দাবি, শুধু প্রেসিডেন্টের বক্তব্যই নয়, সম্প্রতি সংসদের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাক্ষাৎকার থেকেও এই বিষয়ের আলোচনা প্রচার করা হয়নি। এ ছাড়া বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেইয়ের প্রেসিডেন্টকে সমর্থন জানানো বক্তব্যের অংশও সম্প্রচার করা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সমালোচনা করেছেন। শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় ফক্স নিউজ, সিএনএনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি দৃঢ়ভাবে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সেই সাক্ষাৎকারগুলোর মাত্র এক বা দুটি সাবটাইটেল প্রচার করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া এবং বর্তমানে স্থগিত থাকা সমঝোতা স্মারকটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল– কঠোরপন্থীদের এমন দাবি সঠিক নয়। তাঁর মতে, সে সময়কার পরিস্থিতিতে সেটিই ছিল সম্ভাব্য সর্বোত্তম চুক্তি।

সরকার এক বিবৃতিতে আইআরআইবির ভেতরে থাকা একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে এসব ঘটনার জন্য দায়ী করেছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে আইআরআইবি জানায়, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রচার করলে দেশে বিভক্তি তৈরি হতো।

উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মুজতবা খামেনির ঘোষিত ‘পবিত্র ঐক্য’ নীতিকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মিরজাই জানান, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মত তুলে ধরা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

রক্ষণশীল সাংবাদিক মোহাম্মদ মোহাজেরি আইআরআইবিকে ব্যয়বহুল কিন্তু সবচেয়ে কম কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। আর সংস্কারপন্থী নেতা মোহাম্মদ সাদেক জাভাদি হেসার বলেন, দেশে একটি সরকার ক্ষমতায় থাকলেও আরেকটি সরকার আইআরআইবি নামে তার বিরুদ্ধে কাজ করছে।

সংস্কারপন্থী সংবাদমাধ্যম এনতেখাব জানিয়েছে, আলোচনাবিষয়ক এ বিরোধের পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আইআরআইবির প্রধান পেইমান জেবেলিকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন।

যদিও কঠোরপন্থী এক আইনপ্রণেতার দাবি, প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বাজেট কমানোর হুমকি দিয়েছেন, তবে প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে গিয়ে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ ‘অত্যন্ত ভালোভাবে’ এগোচ্ছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও দ্রুত কোনো সমঝোতা হবে বলে তিনি মনে করেন না।

অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, শত্রুর ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত এবং যুদ্ধে নিহত বেসামরিক মানুষের রক্তের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত