
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ মাধ্যমে তাঁর মানহানি করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টার দাবি, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএনপির সময়ে হওয়া পদোন্নতি ও বদলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যসহ একাধিক অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এজন্য চার সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
আক্তারুল ইসলামের ভাষ্যে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। কর্মকর্তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন ও উপসচিব মাসুম আহমেদ রয়েছেন।
দুদকের নথিতে সংক্ষিপ্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এসেছে সাবেক উপদেষ্টাসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও দমন করতে দুদককে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানেও একই কায়দায় প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উপদেষ্টা থাকাকালে দেশের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে আমাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জনগণের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি এবং তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে পেছনে লেগেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অনুসন্ধান হলে আমি দুদককে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে শুরু থেকেই দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগ এনে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আমার মানহানি করা হচ্ছে।
এ সময় দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। আসিফ মাহমুদের দাবি, দুদকে চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছে।









