leadT1ad

জাপানের সংসদে টয়লেট বাড়ানোর আন্দোলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীও

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইছি। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। সেই তুলনায় সংসদ ভবনে নারীদের জন্য টয়লেট সংখ্যা কম। সেই জন্য অন্তত ৬০ নারী আইনপ্রণেতা টয়লেট বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। এবার সেই লড়াইয়ে যোগ দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইছি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইনের এক খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে জাপানের আদালতের নিম্নকক্ষে রেকর্ড ৭৩ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালে নারীদের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৫৪ জন।

বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (সিডিপি) নারী আইনপ্রণেতা ইয়াসুকো কোমিয়ামা বলেছেন, মূল অধিবেশন শুরুর আগে নারী টয়লেটের সামনে প্রায়শই দীর্ঘ লাইনে তৈরি হয়।

আরেক সংসদ সদস্য বলেন, অধিবেশন শুরুর আগে তিনি টয়লেটে যাওয়া ‘ছেড়ে দিয়েছেন’।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদের আলোচনা স্থলের কাছে আংশিকভাবে ঘেরা দুটি ছোট কক্ষের সঙ্গে নারীদের জন্য মাত্র একটি টয়লেট আছে। আর পুরো সংসদ ভবনে ২২টি ছোট কক্ষের সঙ্গে ৯টি নারী টয়লেট আছে।

অন্যদিকে, পুরো ভবনে পুরুষদের জন্য ১২টি টয়লেটের পাশাপামি ৬৭টি স্টল ও প্রশ্রাবখানা আছে।

সিডিপির সংসদ সদস্য কোমিয়ামা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই অসুবিধাজনক। কারণ সংসদের নারী কর্মী এবং দর্শনার্থীরাও ওই টয়লেট ব্যবহার করেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, আমি আমার কণ্ঠে আওয়াজ তুলতে চাই এবং ভবিষ্যতে নারীরা (সংসদীয় আসনের) ৩০ শতাংশের বেশি আসন দখল করবে সেই দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই।

এদিকে, গত বছরের অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইছি নির্বাচিত হন। তিনি তাঁর মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নারী নেতৃত্বের দিক থেকে নর্ডিক দেশগুলো শীর্ষস্থান দখল করে আছে। যদিও ১৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় তিনি মাত্র দুজন নারীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, কোমিয়ামা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে প্রশাসন যদি প্রকৃতই আন্তরিক হয়, তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা তাদের বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে পারি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, সংসদের নিম্নকক্ষ কমিটির সভাপতি ইয়াসুকাজু হামাদা নারী শৌচাগার বাড়ানোর এ প্রস্তাব বিবেচনার জন্য ‘আগ্রহ প্রকাশ করেছেন’।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুধু সংসদ নয়, পুরো জাপানেই নারীদের জন্য টয়লেট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দেশব্যাপীই গণশৌচাগারগুলোয় নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছিলেন, তার সরকার ‘নারীদের টয়লেট সুবিধা বৃদ্ধির’ দিকে নজর দিয়ে জাপানকে এমন একটি সমাজে পরিণত করতে চায় যেখানে ‘নারীরা শান্তিতে তাদের জীবনযাপন করতে পারবেন’।

প্রসঙ্গত, এর আগে, জাপান সরকার ২০২০ সালের মধ্যে সমাজের সব ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ নারী নেতৃত্বের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই বছরের শেষে এই সময়সীমা ১০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।

জাপানে বর্তমানে সংসদের নিম্নকক্ষে প্রায় ১৬ শতাংশ আসন এবং উচ্চকক্ষে প্রায় এক তৃতীয়াংশ—অর্থাৎ ১২৫টি আসনের মধ্যে ৪২টি নারীদের দখলে।

উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালে জাপানের সংসদ ভবন নির্মিত হয়। তার এক দশক পর ১৯৪৫ সালে দেশটির নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার দেওয়া হয়। আর ১৯৪৬ সালে সংসদে প্রথম নারী নিয়োগ করা হয়।

সংসদ ভবনটি তিন তলা বিশিষ্ট কাঠামোয় নির্মিত; যার কেন্দ্রীয় অংশটি ৯ তলা উঁচু। ভবনটি ১৩,৩৫৬ বর্গমিটার (১৪৩,৮০০ বর্গফুট) জুড়ে বিস্তৃত, যা প্রায় দুটি ফুটবল মাঠের সমতুল্য এবং এর মেঝের মোট আয়তন ৫৩,৪৬৪ বর্গমিটার।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত