আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল সরকার পরিবর্তনের ভোট নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন বলে অভিহিত করেছেন নির্বাচন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া । তিনি বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়ন কোনো বড় সমস্যা নয়, এখন প্রয়োজন জরুরি রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও অগ্রাধিকার। উপকূলের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তাই এখনই কাজ শুরু করার সময়।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
নাদিয়া নিভিন বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে উপকূলীয় ১৪৮টি উপজেলায় লবণাক্ততা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে ৩০ শতাংশ কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু ইস্যুকে যেন ২৫২ নম্বর লাইনের ‘সাইড নোট’ না বানিয়ে শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো ‘সেন্ট্রাল এজেন্ডা’ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অর্থায়নের প্রচলিত ধারণা নাকচ করে দিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন সংস্কার কমিশনের এই সদস্য বলেন, ‘গ্লোবাল স্কিমে ২০ বা ২৩ বিলিয়ন ডলার বড় কোনো অংক নয়। ২০২৪ সালে বিশ্বে জলবায়ু অর্থায়নের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। সমস্যা অর্থের নয়, সমস্যা আমাদের অগ্রাধিকারের।’ তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা দেখাতে পারলে অর্থের অভাব হবে না। সরকারকে তিনি গ্রিন লোন ও কনসেশনাল লোনের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
নাদিয়া নিভিন বলেন, বিচ্ছিন্ন কাজ দিয়ে এই বিশাল সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। উপকূল রক্ষায় একটি শক্তিশালী বা ‘রোবাস্ট’ জাতীয় কাঠামো তৈরি করতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’র মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন, যারা আগামী দিনে চরম পানি সংকট ও ভূমির বিলুপ্তি দেখবে। নির্বাচনের পর নাগরিক সমাজ যেন ইশতেহারের ভিত্তিতে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে, সেই পথ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
লোকাল এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সোসাইটি (লিডার্স) ও মিডিয়া স্ট্রিমের যৌথভাবে আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল ঢাকা স্ট্রিম।