সালেহ ফুয়াদ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন। রাজধানী ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রায় এক বছর আগে থেকে সিটি নির্বাচনের কাজ শুরু করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে কাউন্সিলর পদে ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও আলোচনায় রয়েছেন হাফডজন নেতা। সূত্রের দাবি, আলোচিত এই নেতারাই মেয়র পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। তবে এঁরা ছাড়াও নির্বাচন না করা অথবা নির্বাচন করেও জয়ী হতে না পারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও কারো কারো সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্ট্রিমকে বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাকে কোন পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যতটুকু হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
গত বুধবার জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা স্ট্রিমকে বলেন, এক বছর আগে থেকে কাউন্সিলর পদে যাদের প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছিল তাদের মধ্যে থেকেও কোনো কোনো জায়গায় পরিবর্তন করা হতে পারে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে যে শরিক দলগুলো ছিল, তারা সিটি নির্বাচনে আগের মতো সমঝোতায় থাকবে কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি দলগুলোর
২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়রদের পদচ্যুত করে। এতদিন তাদের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকরা মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি। নিয়োগ পাওয়া সবাই বিএনপির প্রভাবশালী নেতা।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। এর মধ্যেই গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে ছয় প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে মাঠে নামতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বছর আগে থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করলেও এখনও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মাঠে নামায়নি। তবে তাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত থাকায় তারা ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময়ই নিজেদের প্রচারণা এগিয়ে রেখেছেন।
অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রার্থী দেব। আমরা ১২ সিটি করপোরেশন, ৪৯৫ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভায় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম সিটি করপোরেশনে আপাতত একক নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের মতো সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তিনি।
এক বছর আগে থেকে জামায়াতের তৎপরতা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে (রমনা) কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন। মঙ্গলবার স্ট্রিমকে তিনি জানান, তাঁর নির্বাচন করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। আরও এক বছর আগে থেকেই তিনি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।
আব্দুস সাত্তার সুমনের মতো রাজধানীর প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডে দলটির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছেন। গত জাতীয় নির্বাচনে রাজধানীতে জনমত তৈরিতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই সম্ভাব্য প্রার্থীরা কাউন্সিলর পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এই তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে কোন দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এখনও তা চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। তবে মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাই করবে জামায়াত।
আলোচনায় হাফ ডজন নেতা, তালিকায় আছেন শীর্ষ নেতারাও
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াইয়ে প্রায় হাফ ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সিটি নির্বাচনে সমঝোতা না হলে এই নেতাদের মধ্য থেকেই জামায়াতের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন পর্যন্ত আলোচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঢাকা-৭ থেকে নির্বাচন করা হাজী এনায়েত উল্লাহ এবং ঢাকা-৬ থেকে নির্বাচন করা ড. আবদুল মান্নান এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে উত্তরে এগিয়ে আছেন মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া এসএম খালিদুজ্জামান। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতার নাম থাকলেও স্ট্রিমকে জামায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহানগর জামায়াতের ওই প্রভাবশালী নেতা স্ট্রিমকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি অথবা অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতের এমন শীর্ষ নেতাদেরও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে দলের ভেতরে আলাপ চলছে।
এদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়া সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির নাম আলোচনায় রয়েছে।
এর বাইরে আলোচনায় রয়েছে চারজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ নির্বাহী পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতার নামও।
শীর্ষনেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “এসব সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে এটি এখনো অফিশিয়াল কোনো বক্তব্য নয়।”
বিএনপির প্রার্থীদের মাথায় রাখছে জামায়াত
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সবশেষ নির্বাচন হয় ২০২০ সালে। নির্বাচনে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন পরাজিত হন। ভোটে কারচুপি আর অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা মামলা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনের কেউই মেয়রের চেয়ারে বসতে পারেননি।
ধারণা করা হচ্ছে, এবারও শিক্ষা, নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ইত্যাদি বিবেচনা করে এই দুইজনকেই দলের মনোনয়ন দিতে পারে বিএনপি। ইতিমধ্যে অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-৬ থেকে সংসদ নির্বাচন করে এমপি হয়ে বর্তমান সরকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।
আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইতিপূর্বে দুইবার মেয়র পদে নির্বাচন করা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছেন। অংশ নেওয়া দুই নির্বাচনেই দলীয় সিদ্ধান্তে ফলাফল বর্জন করেছিলেন তিনি। তবে উভয় নির্বাচনেই বিপুল ভোট পেয়েছিলেন তাবিথ আউয়াল।
দক্ষিণে এনায়েত ও মান্নান
দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে ড. আব্দুল মান্নান ও হাজী এনায়েত উল্লাহর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ড. মান্নান জামায়াতের মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি সংসদ নির্বাচনে ইশরাক হোসেনের কাছে পরাজিত হলেও কারচুপির অভিযোগে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুনরায় প্রার্থী হলে তাঁকে আবার ইশরাকের সঙ্গে লড়তে হবে। অন্যদিকে ঢাকা-৭ আসনে অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া হাজী এনায়েত উল্লাহ এফবিসিসিআই-এর প্রাক্তন পরিচালক। ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে তাঁর বেশ পরিচিতি রয়েছে।)
উত্তরে সেলিম, আতিক ও খালিদুজ্জামান
উত্তর সিটিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন তিনজন। সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ আসনে ৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। মহানগর আমির হিসেবে উত্তর সিটিতে তাঁর লড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আতিকুর রহমান গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও জোটের স্বার্থে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের কাছে মাত্র ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের নামও আলোচনায় রয়েছে। প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই ভোটের ব্যবধান কমিয়ে আনার পেছনে জামায়াতের এই প্রার্থীর প্রচারণার কৌশল, শ্রমকে বড় কারণ মনে করা হচ্ছে।
মেয়র ও কাউন্সিলর পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন বা শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “এখনো নির্বাচনের ব্যাপারে তেমন অগ্রগতি নেই। সিটি নির্বাচনের তারিখের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সরকার তো প্রশাসক বসিয়েছে মাত্র।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটগতভাবে ৭৭ আসন নিয়ে এখন প্রধান বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। রাজধানীতেও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪৫ শতাংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ঢাকা জেলার ২০ সংসদীয় আসনের ১৫টি রাজধানীতে। এর প্রায় অর্ধেক ভোটই পেয়েছে জামায়াত। আর ঢাকা উত্তর সিটির বৃহত্তর মিরপুর অংশের পুরোটাতেই জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিটি নির্বাচনে এই সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে মরিয়া জামায়াত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন। রাজধানী ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রায় এক বছর আগে থেকে সিটি নির্বাচনের কাজ শুরু করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে কাউন্সিলর পদে ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও আলোচনায় রয়েছেন হাফডজন নেতা। সূত্রের দাবি, আলোচিত এই নেতারাই মেয়র পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। তবে এঁরা ছাড়াও নির্বাচন না করা অথবা নির্বাচন করেও জয়ী হতে না পারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও কারো কারো সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্ট্রিমকে বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাকে কোন পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যতটুকু হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
গত বুধবার জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা স্ট্রিমকে বলেন, এক বছর আগে থেকে কাউন্সিলর পদে যাদের প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছিল তাদের মধ্যে থেকেও কোনো কোনো জায়গায় পরিবর্তন করা হতে পারে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে যে শরিক দলগুলো ছিল, তারা সিটি নির্বাচনে আগের মতো সমঝোতায় থাকবে কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি দলগুলোর
২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়রদের পদচ্যুত করে। এতদিন তাদের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকরা মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি। নিয়োগ পাওয়া সবাই বিএনপির প্রভাবশালী নেতা।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। এর মধ্যেই গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে ছয় প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে মাঠে নামতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বছর আগে থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করলেও এখনও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মাঠে নামায়নি। তবে তাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত থাকায় তারা ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময়ই নিজেদের প্রচারণা এগিয়ে রেখেছেন।
অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রার্থী দেব। আমরা ১২ সিটি করপোরেশন, ৪৯৫ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভায় প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম সিটি করপোরেশনে আপাতত একক নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের মতো সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তিনি।
এক বছর আগে থেকে জামায়াতের তৎপরতা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে (রমনা) কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ও সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন। মঙ্গলবার স্ট্রিমকে তিনি জানান, তাঁর নির্বাচন করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। আরও এক বছর আগে থেকেই তিনি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।
আব্দুস সাত্তার সুমনের মতো রাজধানীর প্রায় সবগুলো ওয়ার্ডে দলটির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা কাজ করে যাচ্ছেন। গত জাতীয় নির্বাচনে রাজধানীতে জনমত তৈরিতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই সম্ভাব্য প্রার্থীরা কাউন্সিলর পদে লড়াই করতে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এই তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে কোন দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এখনও তা চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। তবে মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাই করবে জামায়াত।
আলোচনায় হাফ ডজন নেতা, তালিকায় আছেন শীর্ষ নেতারাও
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াইয়ে প্রায় হাফ ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সিটি নির্বাচনে সমঝোতা না হলে এই নেতাদের মধ্য থেকেই জামায়াতের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন পর্যন্ত আলোচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঢাকা-৭ থেকে নির্বাচন করা হাজী এনায়েত উল্লাহ এবং ঢাকা-৬ থেকে নির্বাচন করা ড. আবদুল মান্নান এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে উত্তরে এগিয়ে আছেন মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া এসএম খালিদুজ্জামান। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতার নাম থাকলেও স্ট্রিমকে জামায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকেও সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহানগর জামায়াতের ওই প্রভাবশালী নেতা স্ট্রিমকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি অথবা অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতের এমন শীর্ষ নেতাদেরও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে দলের ভেতরে আলাপ চলছে।
এদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়া সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির নাম আলোচনায় রয়েছে।
এর বাইরে আলোচনায় রয়েছে চারজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ নির্বাহী পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতার নামও।
শীর্ষনেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “এসব সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে এটি এখনো অফিশিয়াল কোনো বক্তব্য নয়।”
বিএনপির প্রার্থীদের মাথায় রাখছে জামায়াত
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সবশেষ নির্বাচন হয় ২০২০ সালে। নির্বাচনে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন পরাজিত হন। ভোটে কারচুপি আর অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা মামলা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনের কেউই মেয়রের চেয়ারে বসতে পারেননি।
ধারণা করা হচ্ছে, এবারও শিক্ষা, নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ইত্যাদি বিবেচনা করে এই দুইজনকেই দলের মনোনয়ন দিতে পারে বিএনপি। ইতিমধ্যে অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-৬ থেকে সংসদ নির্বাচন করে এমপি হয়ে বর্তমান সরকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।
আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইতিপূর্বে দুইবার মেয়র পদে নির্বাচন করা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছেন। অংশ নেওয়া দুই নির্বাচনেই দলীয় সিদ্ধান্তে ফলাফল বর্জন করেছিলেন তিনি। তবে উভয় নির্বাচনেই বিপুল ভোট পেয়েছিলেন তাবিথ আউয়াল।
দক্ষিণে এনায়েত ও মান্নান
দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে ড. আব্দুল মান্নান ও হাজী এনায়েত উল্লাহর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ড. মান্নান জামায়াতের মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি। তিনি সংসদ নির্বাচনে ইশরাক হোসেনের কাছে পরাজিত হলেও কারচুপির অভিযোগে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুনরায় প্রার্থী হলে তাঁকে আবার ইশরাকের সঙ্গে লড়তে হবে। অন্যদিকে ঢাকা-৭ আসনে অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া হাজী এনায়েত উল্লাহ এফবিসিসিআই-এর প্রাক্তন পরিচালক। ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে তাঁর বেশ পরিচিতি রয়েছে।)
উত্তরে সেলিম, আতিক ও খালিদুজ্জামান
উত্তর সিটিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন তিনজন। সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ আসনে ৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। মহানগর আমির হিসেবে উত্তর সিটিতে তাঁর লড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আতিকুর রহমান গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও জোটের স্বার্থে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের কাছে মাত্র ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের নামও আলোচনায় রয়েছে। প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই ভোটের ব্যবধান কমিয়ে আনার পেছনে জামায়াতের এই প্রার্থীর প্রচারণার কৌশল, শ্রমকে বড় কারণ মনে করা হচ্ছে।
মেয়র ও কাউন্সিলর পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন বা শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “এখনো নির্বাচনের ব্যাপারে তেমন অগ্রগতি নেই। সিটি নির্বাচনের তারিখের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সরকার তো প্রশাসক বসিয়েছে মাত্র।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটগতভাবে ৭৭ আসন নিয়ে এখন প্রধান বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। রাজধানীতেও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪৫ শতাংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ঢাকা জেলার ২০ সংসদীয় আসনের ১৫টি রাজধানীতে। এর প্রায় অর্ধেক ভোটই পেয়েছে জামায়াত। আর ঢাকা উত্তর সিটির বৃহত্তর মিরপুর অংশের পুরোটাতেই জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিটি নির্বাচনে এই সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে মরিয়া জামায়াত।

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীতিদের মধ্যে ১৭ নেতা কোটিপতি। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীতে এমন নেতা আছেন একজন। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
গুজব ও অপতথ্যভিত্তিক উসকানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
৬ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
৮ ঘণ্টা আগে
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামায়াতকে ‘রাজনৈতিকভাবে নির্মূল’ করার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে দলটি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
১ দিন আগে