স্ট্রিম সংবাদদাতা

জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে খুলনা বিভাগে। বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসনের ২৫টি পেয়েছে দলটি। বাকি ১১ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। বিভাগে আগে কখনো এত কম আসন পায়নি বিএনপি।
সারাদেশে জামায়াত যে ৬৮ আসন পেয়েছে, তার প্রায় ৩৭ শতাংশই খুলনা বিভাগে। এছাড়া এই বিভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ আসনেই নিজেদের দখলে রেখেছে তারা। দলটি এই বিপুল উত্থানের বিপরীতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির নজিরবিহীন বিপর্যয়। তবে কী কারণে এমন পরাজয়, তা বিশ্লেষণ করছে দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াত মাগুরা ছাড়া বিভাগের সব জেলাতেই আসন পেয়েছে। তারা সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে যশোরে ৫টি। এই জেলায় শুধু যশোর-৩ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জয় পেয়েছেন। তিনি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া সাতক্ষীরায় ৪টি; বাগেরহাট, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় ৩টি করে; খুলনা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ২টি করে এবং নড়াইলে ১টি আসনে জিতেছে জামায়াত।
অন্যদিকে বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে যথাক্রমে খুলনায় জেলায় ৪টি ও মাগুরায় ২টি। এছাড়া বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় ১টি করে আসনে জয় পেয়েছে তারা। তবে সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।
বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশিরভাগ আসনে বিএনপির সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অসহনীয় আচরণ, অপরাধ কর্মকাণ্ড, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয়তা, জামায়াত প্রার্থীদের সেবামূলক ও ক্লিন ইমেজ ভাবমূর্তি, তরুণ সমাজ ও নারীদের একচেটিয়া ভোটে বিএনপির পরাজয় হয়েছে। আবার ধর্মীয় হিসাব-নিকাশ, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংকও ভূমিকা রেখেছে।
খুলনায় জামায়াতের উত্থানের পেছনে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী তরুণদের মনোভাবের প্রভাব পড়েছে মনে করেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক সাবেক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। তিনি বলেন, দেশে তরুণদের নেতৃত্বে একটা অভ্যুত্থান হয়েছে। এরপর একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছর দেশ চালিয়েছে। এরপরে জাতীয় নির্বাচনে অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে তরুণদের ভোটের ভোটের একটা বড় অংশ জামায়াতে গেছে।
খুলনা বিভাগে জামায়াতের পরিকল্পিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিপরীতে বিএনপির সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে দুর্বলতা, তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল মনে করছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকায় জামায়াত বেশি সুবিধা পেয়েছে মনে করেন তিনি। কয়েকটি জেলায় ভারতবিরোধী মনোভাব বেশি হওয়ায় কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত নারী কর্মীদের ব্যাপকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। এ অঞ্চলে নারীদের বড় নির্বাচনী শোডাউন দেখা গেছে। নারী কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। এটিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।’

সিটিতেই হাতছাড়া দীর্ঘদিনের আসন
নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছে। এবার আসনটি থেকে প্রার্থী করা হয় নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। তিনি এই আসনে ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংগঠক ও মাঠের নেতা হিসেবে তার পরিচিতিও ব্যাপক। তবে ২০২১ সালে দলের মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতাদের দূরত্ব শুরু হয়। মহানগর থানা, ওয়ার্ড কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয় মঞ্জু অনুসারীদের। মঞ্জুকে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন তারা।
খুলনা-২ আসনের বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় কোন্দলের কারণে ইফেক্ট বেশি পড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেননি।
এ বিষয়ে খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, এখনো বুঝে উঠতে পারছি না- কেন এমন হলো, হিসাব মিলছে না। এ বিষয়ে আরও বিশ্লেষণ দরকার আছে।
খুলনা-২ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘এসব নিয়ে এখন বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। দেশ এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধাপে। দলীয় বেইমানদের বিচারের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি।’
পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করছে বিএনপি
ফলাফল খারাপ করা কয়েকটি জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচনে জানান, এলাকাগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা-কোন্দল প্রচুর। জামায়াতের সাংগঠনিক ভীত অনেক মজবুত। তাদের নির্বাচনী বাজেটও ছিল বড়। জামায়াতের নারী কর্মীরা সারা বছরই ঘরে ঘরে গিয়ে দলীয় প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি কর্মী সংগ্রহ করে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি-দখলদারির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এসময় নেতাকর্মীদের লাগাম টানা যায়নি। ফলে নির্বাচনে ভুক্তভোগী মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
জামায়াত সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে যশোরে। সেখানে শুধু যশোর-৩ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয়ী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, একেকটি আসনে একেক ধরনের বাস্তবতা থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থী পরিবর্তন, মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের নির্বাচনী মাঠে ঠিকমতো নামাতে না পারা, নির্বাচনে জামায়াতের ধর্মীয় প্রচারের কৌশল প্রতিহত করতে না পারা ইত্যাদি।’ অমিত বলেন, তবে কী কারণে এমন পরাজয়-তা আমরা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছি।
জামায়াতের উত্থানে আস্থা রাখার মতো নেতৃত্ব
এদিকে বিভাগে সাতজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জিততে পারেননি। একইভাবে বিভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ আসনে জামায়াত জয় পেলেও দলটির খোদ সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে পরাজিত হয়েছেন। তবে প্রথমবারের মতো নগরের মধ্যে খুলনা-২ (সিটি কর্পোরেশন) আসনে জয় পেয়েছে দলটি। সব মিলিয়ে খুলনায় জামায়াত পেয়েছে দুটি আসন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে আমাদের একটা গণভিত্তি আছে। কিছু অঞ্চলে যেখানে আগে থেকে অবস্থান ভালো ছিল, সেটা ধরে রেখেছি। নতুন কিছু এলাকায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিপদে আমরা মানুষের পাশে থেকেছি। মানুষ আস্থা রাখতে পারে এমন নেতৃত্ব ঠিক করেছি। মানুষ এর প্রতিদান দিয়েছে।’
নিজ আসনে পরাজয় বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, তার আসনে প্রায় ছয় হাজারের বেশি ভোট বাতিল করা হয়েছে। এসব ভোট যৌক্তিক কারণে ও বিধি অনুযায়ী বাতিল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যালটগুলো পুনরায় পরীক্ষা করার আবেদন করার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।

জয় পায়নি ইসলামী আন্দোলনও
বিভাগের মধ্যে শুধু খুলনা-৪ (দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা) আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত। বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে খুলনা-১ আসনে মো. আবু সাইদ ৫ হাজার ৬১৯ ভোট, খুলনা-২ আসনে মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ৭ হাজার ২৯৮ ভোট, খুলনা-৩ আসনে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল ৫ হাজার ৭০৫ ভোট, খুলনা-৪ আসনে কেন্দ্রীয় মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ ১৩ হাজার ৩৪৫ ভোট এবং খুলনা-৬ আসনে আছাদুল্লাহ ফকির ২ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
খুলনা-২ আসনের প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয় যে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জোট এখনও রয়েছে। যে প্রতীকে ভোট দেবেন, হাতপাখা পেয়ে যাবে। সরলমনা মানুষ এতে বিভ্রান্ত হয়েছে, যার কারণে সারাদেশে হাতপাখা কম ভোট পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে খুলনা ও বাগেরহাটে ভোট পড়ার হার প্রায় ৬৬ শতাংশ, নড়াইলে ৬৫ শতাংশ, মাগুরায় ৭০ শতাংশ, যশোরে ৭২ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৭১ শতাংশ, চুয়াডাঙ্গায় ৭৬ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৬৭ শতাংশ এবং মেহেরপুরে ৭৩ শতাংশ।

জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে খুলনা বিভাগে। বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসনের ২৫টি পেয়েছে দলটি। বাকি ১১ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। বিভাগে আগে কখনো এত কম আসন পায়নি বিএনপি।
সারাদেশে জামায়াত যে ৬৮ আসন পেয়েছে, তার প্রায় ৩৭ শতাংশই খুলনা বিভাগে। এছাড়া এই বিভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ আসনেই নিজেদের দখলে রেখেছে তারা। দলটি এই বিপুল উত্থানের বিপরীতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির নজিরবিহীন বিপর্যয়। তবে কী কারণে এমন পরাজয়, তা বিশ্লেষণ করছে দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াত মাগুরা ছাড়া বিভাগের সব জেলাতেই আসন পেয়েছে। তারা সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে যশোরে ৫টি। এই জেলায় শুধু যশোর-৩ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জয় পেয়েছেন। তিনি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া সাতক্ষীরায় ৪টি; বাগেরহাট, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় ৩টি করে; খুলনা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ২টি করে এবং নড়াইলে ১টি আসনে জিতেছে জামায়াত।
অন্যদিকে বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে যথাক্রমে খুলনায় জেলায় ৪টি ও মাগুরায় ২টি। এছাড়া বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় ১টি করে আসনে জয় পেয়েছে তারা। তবে সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।
বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশিরভাগ আসনে বিএনপির সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অসহনীয় আচরণ, অপরাধ কর্মকাণ্ড, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয়তা, জামায়াত প্রার্থীদের সেবামূলক ও ক্লিন ইমেজ ভাবমূর্তি, তরুণ সমাজ ও নারীদের একচেটিয়া ভোটে বিএনপির পরাজয় হয়েছে। আবার ধর্মীয় হিসাব-নিকাশ, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংকও ভূমিকা রেখেছে।
খুলনায় জামায়াতের উত্থানের পেছনে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী তরুণদের মনোভাবের প্রভাব পড়েছে মনে করেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক সাবেক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। তিনি বলেন, দেশে তরুণদের নেতৃত্বে একটা অভ্যুত্থান হয়েছে। এরপর একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছর দেশ চালিয়েছে। এরপরে জাতীয় নির্বাচনে অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে তরুণদের ভোটের ভোটের একটা বড় অংশ জামায়াতে গেছে।
খুলনা বিভাগে জামায়াতের পরিকল্পিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিপরীতে বিএনপির সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে দুর্বলতা, তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল মনে করছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকায় জামায়াত বেশি সুবিধা পেয়েছে মনে করেন তিনি। কয়েকটি জেলায় ভারতবিরোধী মনোভাব বেশি হওয়ায় কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত নারী কর্মীদের ব্যাপকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। এ অঞ্চলে নারীদের বড় নির্বাচনী শোডাউন দেখা গেছে। নারী কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। এটিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।’

সিটিতেই হাতছাড়া দীর্ঘদিনের আসন
নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছে। এবার আসনটি থেকে প্রার্থী করা হয় নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। তিনি এই আসনে ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংগঠক ও মাঠের নেতা হিসেবে তার পরিচিতিও ব্যাপক। তবে ২০২১ সালে দলের মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতাদের দূরত্ব শুরু হয়। মহানগর থানা, ওয়ার্ড কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয় মঞ্জু অনুসারীদের। মঞ্জুকে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন তারা।
খুলনা-২ আসনের বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় কোন্দলের কারণে ইফেক্ট বেশি পড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেননি।
এ বিষয়ে খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, এখনো বুঝে উঠতে পারছি না- কেন এমন হলো, হিসাব মিলছে না। এ বিষয়ে আরও বিশ্লেষণ দরকার আছে।
খুলনা-২ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘এসব নিয়ে এখন বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। দেশ এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধাপে। দলীয় বেইমানদের বিচারের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি।’
পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করছে বিএনপি
ফলাফল খারাপ করা কয়েকটি জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচনে জানান, এলাকাগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা-কোন্দল প্রচুর। জামায়াতের সাংগঠনিক ভীত অনেক মজবুত। তাদের নির্বাচনী বাজেটও ছিল বড়। জামায়াতের নারী কর্মীরা সারা বছরই ঘরে ঘরে গিয়ে দলীয় প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি কর্মী সংগ্রহ করে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি-দখলদারির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। এসময় নেতাকর্মীদের লাগাম টানা যায়নি। ফলে নির্বাচনে ভুক্তভোগী মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
জামায়াত সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে যশোরে। সেখানে শুধু যশোর-৩ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয়ী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, একেকটি আসনে একেক ধরনের বাস্তবতা থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থী পরিবর্তন, মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের নির্বাচনী মাঠে ঠিকমতো নামাতে না পারা, নির্বাচনে জামায়াতের ধর্মীয় প্রচারের কৌশল প্রতিহত করতে না পারা ইত্যাদি।’ অমিত বলেন, তবে কী কারণে এমন পরাজয়-তা আমরা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছি।
জামায়াতের উত্থানে আস্থা রাখার মতো নেতৃত্ব
এদিকে বিভাগে সাতজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জিততে পারেননি। একইভাবে বিভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ আসনে জামায়াত জয় পেলেও দলটির খোদ সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে পরাজিত হয়েছেন। তবে প্রথমবারের মতো নগরের মধ্যে খুলনা-২ (সিটি কর্পোরেশন) আসনে জয় পেয়েছে দলটি। সব মিলিয়ে খুলনায় জামায়াত পেয়েছে দুটি আসন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে আমাদের একটা গণভিত্তি আছে। কিছু অঞ্চলে যেখানে আগে থেকে অবস্থান ভালো ছিল, সেটা ধরে রেখেছি। নতুন কিছু এলাকায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিপদে আমরা মানুষের পাশে থেকেছি। মানুষ আস্থা রাখতে পারে এমন নেতৃত্ব ঠিক করেছি। মানুষ এর প্রতিদান দিয়েছে।’
নিজ আসনে পরাজয় বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, তার আসনে প্রায় ছয় হাজারের বেশি ভোট বাতিল করা হয়েছে। এসব ভোট যৌক্তিক কারণে ও বিধি অনুযায়ী বাতিল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যালটগুলো পুনরায় পরীক্ষা করার আবেদন করার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।

জয় পায়নি ইসলামী আন্দোলনও
বিভাগের মধ্যে শুধু খুলনা-৪ (দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা) আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত। বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে খুলনা-১ আসনে মো. আবু সাইদ ৫ হাজার ৬১৯ ভোট, খুলনা-২ আসনে মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ৭ হাজার ২৯৮ ভোট, খুলনা-৩ আসনে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল ৫ হাজার ৭০৫ ভোট, খুলনা-৪ আসনে কেন্দ্রীয় মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ ১৩ হাজার ৩৪৫ ভোট এবং খুলনা-৬ আসনে আছাদুল্লাহ ফকির ২ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
খুলনা-২ আসনের প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয় যে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জোট এখনও রয়েছে। যে প্রতীকে ভোট দেবেন, হাতপাখা পেয়ে যাবে। সরলমনা মানুষ এতে বিভ্রান্ত হয়েছে, যার কারণে সারাদেশে হাতপাখা কম ভোট পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে খুলনা ও বাগেরহাটে ভোট পড়ার হার প্রায় ৬৬ শতাংশ, নড়াইলে ৬৫ শতাংশ, মাগুরায় ৭০ শতাংশ, যশোরে ৭২ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৭১ শতাংশ, চুয়াডাঙ্গায় ৭৬ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৬৭ শতাংশ এবং মেহেরপুরে ৭৩ শতাংশ।

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৮ মিনিট আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
১ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে রোজা শুরু হচ্ছে। তবে বাংলাদেশসহ এশিয়ার অধিকাংশ দেশে রোজা শুরু হবে বৃহস্পতিবার।
১ ঘণ্টা আগে
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অফিস করবেন। একইসঙ্গে তাঁর সভাপতিত্বে সেখানে বেলা ৩টায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে।
১ ঘণ্টা আগে