leadT1ad

‘আমরা জমিদার’ বলা সেই চবি কর্মকর্তা এখন সহকারী রেজিস্ট্রার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ১৬
সিরাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘আমরা জমিদার’ দাবি করে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাঁর পদোন্নতি অনুমোদন করা হয়।

জানা যায়, ২০০৬ সালের জুলাইয়ে চবিতে নিম্নমান সহকারী (তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী) হিসেবে যোগ দেন সিরাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে একাধিক ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০২২ সালে তিনি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হন। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছর ৩০ ও ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও তৎকালীন প্রক্টরসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মতবিনিময় সভায় বিতর্কিত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম।

সিরাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। মতবিনিময় সভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এ ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী তাঁর সংসদ সদস্য প্রার্থিতা বাতিল করে এবং উপজেলা আমিরের পদ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেয়।

মতবিনিময় সভার বক্তব্যের ভিডিওতে সিরাজুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার; জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা আমরা মেনে নেব না।’ তাঁর ওই বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে শোকজ করেছিল।

সিরাজুল ইসলামের পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘চবির কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে শোকজ করেছিল। তিনি পরবর্তীতে শোকজের জবাব দিয়েছেন এবং লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। নীতিমালা অনুযায়ী কেউ কোনো পদের জন্য যোগ্য হলে অবশ্যই তাঁর যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে।’

বিষয়:

Ad 300x250

সম্পর্কিত