রাজবাড়ীতে সার কালোবাজির সময় আটক, অস্ত্র দেখিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজবাড়ী

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৪
রাজবাড়ীতে পাচারের সময় আটককৃত সার। ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীতে পাচারের সময় আটককৃত সার। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরে অবৈধভাবে স্থানান্তরের সময় ১৫ বস্তা সার আটক করেছিলেন স্থানীয়রা। পরে ডিলারের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রের মুখে সেই সারসহ ক্রেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সারগুলো কালোবাজারে বিক্রির জন্য রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরে নেওয়া হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়রা জানান, রাজবাড়ীর মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের ১৫ বস্তা বিএডিসির সার অটোরিকশায় ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্রেতাকে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এ সময় সারগুলো ছাড়িয়ে নিতে ডিলারের পক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নাজমুল, দেলোয়ার নামে ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের হুমকি দেন। পরে তারা সার বোঝাই গাড়িটি নিয়ে যান।

উজানচরের কৃষক সেলিম সিকদার বলেন, ‘আমরা পর্যাপ্ত সার পাচ্ছি না। ডিলারের কাছে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে। অথচ আমাদের এলাকার সরকারি সার অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে।’ উজানচরের মানুষের জন্য বরাদ্দ সার মন্ডল ট্রেডার্স থেকে জেলার বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ।

ফরিদপুরের ইশান গোপালপুর ইউনিয়নের কৃষক মোফাজ্জেল ব্যাপারী বলেন, উজানচর ইউনিয়ন থেকে সার কিনতে গেলে প্রথমে দেওয়া হয়নি। পরে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বেশি নিয়ে তাঁর কাছে সার বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিলারের দোকানে সরকারি দামে সার না পাওয়ায় কৃষকেরা বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আটক সার মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের সার বিক্রির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ডল ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ মন্ডল বলেন, ‘যে সার আটকের কথা বলা হচ্ছে, তা আমার সার না। আমি ছোট ব্যবসায়ী। সার বরাদ্দ পেয়েছি দু-তিন মাস ধরে। তবে কিছু লোক আমাকে ফাঁসানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।’ ঘটনাস্থলে অস্ত্র প্রদর্শনকারী কাউকে চিনেন না বলে তিনি জানা।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, ‘সার চুরি করে জেলার বাইরে বিক্রি করা অপরাধ। আবার সেই সার ছাড়ানোর জন্য সাংবাদিককে হুমকি দেওয়াও বড় ধরনের অপরাধ। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে।’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত