হুতির দখলে ইয়েমেনের কৌশলগত মোখা শহর

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইয়েমেনের মানচিত্র। ছবি: আল জাজিরা
ইয়েমেনের মানচিত্র। ছবি: আল জাজিরা

ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা ও এর বন্দর দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক স্থল অভিযানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মিত্র বাহিনীকে হটিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। ইয়েমেনের দুই কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে ওই কর্মকর্তারা বলেন, মোখায় কয়েক দিন ধরে হুতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছিল। শহরটি দখলের ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর হুতিদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালি থেকে মোখা ৫০ মাইলেরও কম দূরে। এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। মোকা দখলের পর প্রণালিটির আরও কাছে থেকে নৌপথে চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ তাদের বাড়তে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ইয়েমেন-বিষয়ক ফেলো অ্যাডাম ব্যারন বলেন, ইয়েমেনের সংঘাতের ক্ষেত্রে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তার মতে, হুতিরা এখন আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছের এলাকা দখলের চেষ্টা করতে পারে।

হুতিরা ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে আরব উপদ্বীপের দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ—ইরান ও তার মিত্রদের প্রভাবে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে বলে মনে করেন ব্যারন।

মোখা এত দিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারেক সালেহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তিনি ইয়েমেন সরকারের মিত্র একজন কমান্ডার। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পরামর্শে তিনি সেনা পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে বিকল্প কমান্ড সেন্টার স্থাপনের কথাও জানান তিনি।

তেল পরিবহনে নতুন শঙ্কা

ইরান যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহনের গুরুত্ব বেড়েছে। সৌদি আরব সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি করে। তবে যুদ্ধের শুরু থেকেই ওই নৌপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। একারণে সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভর করছে।

কিন্তু হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় গত দুই মাসে এই নৌপথেও তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। জুলাইয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি তেলবাহী জাহাজে অবরোধের ঘোষণা দেয়। এরপর জাহাজ ও সৌদি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

বৃহস্পতিবার হুতি-সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না এবং সামুদ্রিক নৌ চলাচল সুরক্ষায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হতে প্রস্তুত। তবে বিবৃতিতে মোখায় চলমান লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

হুতি কর্মকর্তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে শতাধিক বিমান হামলার অভিযোগ করলেও সৌদি সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত