স্ট্রিম সংবাদদাতা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ‘যৌথবাহিনীর’ অভিযানে হেফাজতে থাকা অবস্থায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫২) ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্তে কমিটির সভাপতি জুনিয়র কনসালন্টেট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময়।
ডা. এহসানুল হক তন্ময় মারপিটে নিহতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টে আমরা যা পেয়েছি, মৃতব্যক্তির শরীরে সেইগুলো (দাগ) মিলানো হয়েছে। মিলিয়ে সেখানে (আঘাতের) যে চিহ্নগুলো থাকা দরকার, মরদেহে যে দাগ পেয়েছি, তা সঙ্গতিপূর্ণ।’ এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শেষে বিস্তারিত বিষয় জানানো হবে।
ডা. এহসানুনের কথার সূত্র ধরে সুরতহাল প্রতিবেদন কী লেখা ছিল জানতে চেষ্টা করেছে স্ট্রিম। সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শামসুজ্জামান ডাবলুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জীবননগর থানা-পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সুরতহালের বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল-নাসের স্ট্রিমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা না হলে (সুরতহাল) প্রতিবেদন দেওয়া ঠিক না। তারপরও এ বিষয়ে বিস্তারিত জীবননগর থানার ওসি বলতে পারবেন।’
উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল জীবননগর উপজেলা শহরে ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে সেখানে যায় থানা-পুলিশ।
অভিযানে ছিল না পুলিশ সদস্য
এদিকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক অভিযানে অংশ নেওয়া চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সব সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মৃত্যুকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক’ উল্লেখ করে কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর থেকে ‘যৌথবাহিনীর’ অভিযান দাবি করা হলেও তাতে সেনা সদস্যরা ছাড়া অন্যবাহিনীর কেউ ছিল না।
চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল-নাসের স্ট্রিমকে বলেন, ‘জীবননগরে বিএনপি নেতাকে তুলে নেওয়ার সময়ে জেলা পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। তবে যখন ওই নেতাকে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, তখন পুলিশ খবর পায়। পরে সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা।’
‘কি অপরাধ ছিল আমার আব্বুর’
বাবার হত্যার বিচার চেয়ে শামসুজ্জামানের মেয়ে রাইসা (১১) বলে, ‘কেন আমার আব্বুকে মারা হলো? কি অপরাধ ছিল আমার আব্বুর?’
স্বামীর হত্যার বিচার চেয়ে শামসুজ্জামান ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, ‘তাঁকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটা মাসুম বাচ্চাকে এতিম করা হয়েছে। সঠিক বিচার চাই আমি। আমাদের কেন খবর দেওয়া হলো না— আপনার হাসবেন্ট অপরাধী, তাঁকে ধরেছি, আসেন। তাঁরা পরিকল্পতিভাবে গুম করে তাঁকে হত্যা করেছে।’
নিহত ডাবলুর ভাই কাজল বলেন, ‘আমার ভাই পুরোপুরি নিরপরাধ ছিলেন। তাঁকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, তা অমানবিক। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।’
চার সদস্যের তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসনের
শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃতুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান তদন্ত কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। তারপর তদন্ত রিপোর্ট আমরা মন্ত্রিপরিষদে পাঠাব। রিপোর্ট অনুযায়ী সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার মনে হলে নেবে।’
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার পারিবারিকভাবে সকাল ১০টায় শামসুজ্জামান ডাবলুর দাফনকাজ সম্পন্ন হবে। পরিস্থিতি যাতে আর খারাপ না হয়, এ জন্য জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সবমিলিয়ে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’
জীবননগর থেকে জেলা শহরে প্রতিবাদ
শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনাটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাত থেকেই জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাত দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দিলে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য ও পুলিশ জীবননগর শহর ঘিরে ফেলেন। তবে ভোর থেকে ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা জীবননগর হাসপাতালসহ পৌর শহরের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন বলেন, ‘এর আগেও শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।’
ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দলীয় প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের নামে নির্যাতন করার পরও যখন অস্ত্রশস্ত্র পায় না, লাঠিসোঁটা, এটাওটা দিয়ে চালান দেয়। সেই নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি যে সহ্য করতে না পেরে শামসুজ্জামান ডাবলু মারা গেছেন।’
এদিকে ময়াতদন্তের জন্য শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহ জীবননগর থেকে জেলা সদর হাসপাতালে সময় চুয়াডাঙ্গা শহরের লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে বিক্ষোভ করে জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় সদর হাসপাতাল চত্বরের জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দলীয় প্রার্থী শরীফুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো একটি দলের হয়ে সেনবাহিনী চুয়াডাঙ্গা বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর থেকে শুরু করে বিভিন্ন অন্যায়-অনাচার করছে চুয়াডাঙ্গা ক্যাম্প।
এদিকে ডাবলুর মৃত্যুতে এক শোক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানসিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং এতে তাঁর মৃত্যু হয়।’

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ‘যৌথবাহিনীর’ অভিযানে হেফাজতে থাকা অবস্থায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫২) ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্তে কমিটির সভাপতি জুনিয়র কনসালন্টেট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময়।
ডা. এহসানুল হক তন্ময় মারপিটে নিহতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টে আমরা যা পেয়েছি, মৃতব্যক্তির শরীরে সেইগুলো (দাগ) মিলানো হয়েছে। মিলিয়ে সেখানে (আঘাতের) যে চিহ্নগুলো থাকা দরকার, মরদেহে যে দাগ পেয়েছি, তা সঙ্গতিপূর্ণ।’ এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শেষে বিস্তারিত বিষয় জানানো হবে।
ডা. এহসানুনের কথার সূত্র ধরে সুরতহাল প্রতিবেদন কী লেখা ছিল জানতে চেষ্টা করেছে স্ট্রিম। সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শামসুজ্জামান ডাবলুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জীবননগর থানা-পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সুরতহালের বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল-নাসের স্ট্রিমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা না হলে (সুরতহাল) প্রতিবেদন দেওয়া ঠিক না। তারপরও এ বিষয়ে বিস্তারিত জীবননগর থানার ওসি বলতে পারবেন।’
উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল জীবননগর উপজেলা শহরে ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে সেখানে যায় থানা-পুলিশ।
অভিযানে ছিল না পুলিশ সদস্য
এদিকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক অভিযানে অংশ নেওয়া চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সব সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মৃত্যুকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক’ উল্লেখ করে কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর থেকে ‘যৌথবাহিনীর’ অভিযান দাবি করা হলেও তাতে সেনা সদস্যরা ছাড়া অন্যবাহিনীর কেউ ছিল না।
চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল-নাসের স্ট্রিমকে বলেন, ‘জীবননগরে বিএনপি নেতাকে তুলে নেওয়ার সময়ে জেলা পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। তবে যখন ওই নেতাকে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, তখন পুলিশ খবর পায়। পরে সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা।’
‘কি অপরাধ ছিল আমার আব্বুর’
বাবার হত্যার বিচার চেয়ে শামসুজ্জামানের মেয়ে রাইসা (১১) বলে, ‘কেন আমার আব্বুকে মারা হলো? কি অপরাধ ছিল আমার আব্বুর?’
স্বামীর হত্যার বিচার চেয়ে শামসুজ্জামান ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, ‘তাঁকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটা মাসুম বাচ্চাকে এতিম করা হয়েছে। সঠিক বিচার চাই আমি। আমাদের কেন খবর দেওয়া হলো না— আপনার হাসবেন্ট অপরাধী, তাঁকে ধরেছি, আসেন। তাঁরা পরিকল্পতিভাবে গুম করে তাঁকে হত্যা করেছে।’
নিহত ডাবলুর ভাই কাজল বলেন, ‘আমার ভাই পুরোপুরি নিরপরাধ ছিলেন। তাঁকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, তা অমানবিক। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।’
চার সদস্যের তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসনের
শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃতুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান তদন্ত কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। তারপর তদন্ত রিপোর্ট আমরা মন্ত্রিপরিষদে পাঠাব। রিপোর্ট অনুযায়ী সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার মনে হলে নেবে।’
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার পারিবারিকভাবে সকাল ১০টায় শামসুজ্জামান ডাবলুর দাফনকাজ সম্পন্ন হবে। পরিস্থিতি যাতে আর খারাপ না হয়, এ জন্য জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সবমিলিয়ে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’
জীবননগর থেকে জেলা শহরে প্রতিবাদ
শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনাটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাত থেকেই জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাত দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দিলে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য ও পুলিশ জীবননগর শহর ঘিরে ফেলেন। তবে ভোর থেকে ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা জীবননগর হাসপাতালসহ পৌর শহরের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন বলেন, ‘এর আগেও শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।’
ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দলীয় প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের নামে নির্যাতন করার পরও যখন অস্ত্রশস্ত্র পায় না, লাঠিসোঁটা, এটাওটা দিয়ে চালান দেয়। সেই নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি যে সহ্য করতে না পেরে শামসুজ্জামান ডাবলু মারা গেছেন।’
এদিকে ময়াতদন্তের জন্য শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহ জীবননগর থেকে জেলা সদর হাসপাতালে সময় চুয়াডাঙ্গা শহরের লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে বিক্ষোভ করে জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় সদর হাসপাতাল চত্বরের জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দলীয় প্রার্থী শরীফুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো একটি দলের হয়ে সেনবাহিনী চুয়াডাঙ্গা বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর থেকে শুরু করে বিভিন্ন অন্যায়-অনাচার করছে চুয়াডাঙ্গা ক্যাম্প।
এদিকে ডাবলুর মৃত্যুতে এক শোক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শামসুজ্জামান ডাবলুকে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানসিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং এতে তাঁর মৃত্যু হয়।’

দেশের ৯৩ শতাংশ পত্রিকার মালিকই ওই পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গণমাধ্যম এখন পুরোপুরি করপোরেশনের হাতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম।
২ ঘণ্টা আগে
গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত যশোরে হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৬২টি। অধিকাংশ হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছে বিদেশি পিস্তল। সম্প্রতি ভারত থেকে এসব অস্ত্র ঢুকছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় এক জামায়াত নেতাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে হাত পা বাঁধা অবস্থায় নিজ বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
২ ঘণ্টা আগে
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।
৩ ঘণ্টা আগে