জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রামপুরা হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটির কথা বলে রায় স্থগিত চাইল প্রসিকিউশন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ২৩: ০৪
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। স্ট্রিম ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় গুলিবর্ষণ ও জোড়া খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার ঠিক আগের দিন তা স্থগিতের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। তদন্ত প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কাছে মঙ্গলবার এই আবেদন জমা দেওয়া হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, যিনি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার কল রেকর্ড পাওয়ার পরও তাকে আসামি করা হয়নি। এই গুরুতর ত্রুটি সংশোধন এবং নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার স্বার্থে রায় প্রদান পিছিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব পুনরায় চালুর আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের জন্য বুধবারের (৪ মার্চ) দিনটি ধার্য করেছিলেন। যুক্তিতর্ক চলাকালে প্রসিকিউশন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা প্রমাণের দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিল। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস চেয়েছিলেন।

রায় ঘোষণার ঠিক পূর্বমুহূর্তে তদন্তে ত্রুটির কথা স্বীকার করে প্রসিকিউশনের এই আবেদন মামলাটিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করল।

এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামির সংখ্যা পাঁচজন। অন্য আসামিরা হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান, রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

তাদের মধ্যে কেবল চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার আছেন, বাকি চারজন পলাতক। পলাতকদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন। গত বছরের ৭ আগস্ট এ মামলায় ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন এবং ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কে প্রাণ বাঁচাতে আমির হোসেন নামের এক তরুণ একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন। পুলিশ তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই তরুণের ওপর এক পুলিশ সদস্য ছয়টি গুলি ছোড়েন, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান নাদিম ও মায়া ইসলাম। এসব ঘটনাতেই আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সম্পর্কিত