কর্মজীবী নারীদের জন্য ঘর আর বাহির সামলে নেওয়ার ব্যস্ততা সারাবছরই থাকে, তবে রোজার মাসে এই ব্যস্ততা যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। একদিকে অফিস আর যানজট, অন্যদিকে রান্নাঘর আর ইফতারের আয়োজন—এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় করতে করতেই একটা মাস চোখের পলকে কেটে যায় তাঁদের।
ফাবিহা বিনতে হক

ঘড়িতে তখন ৪টা বাজে ২০ মিনিট। চারদিকে তখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার। অ্যালার্মের শব্দে ধড়মড় করে উঠে বসতে হয়। চোখে রাজ্যের ঘুম, কিন্তু ঘুমিয়ে থাকার কোনো উপায় নেই। তাড়াহুড়ো করে রান্নাঘরে গিয়ে পরিবারের সবার জন্য সেহরির আয়োজন করতে হবে। পরিবারের সবাইকে ডেকে তুলতে হবে। সেহরি শেষে ফজরের নামাজ পড়ে একটু চোখের পাতা এক করতে না করতেই আবার সকাল। শুরু হয় অফিস যাওয়ার তাড়া।
কর্মজীবী নারীদের জন্য ঘর আর বাহির সামলে নেওয়ার ব্যস্ততা সারাবছরই থাকে, তবে রোজার মাসে এই ব্যস্ততা যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। একদিকে অফিস আর যানজট, অন্যদিকে রান্নাঘর আর ইফতারের আয়োজন—এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় করতে করতেই একটা মাস চোখের পলকে কেটে যায় তাঁদের।
এ বিষয়ে কথা হয় সংবাদকর্মী ওয়াজিহার সঙ্গে। এই রোজায় নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রোজায় আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো যানজট আর সময়ের অনিশ্চয়তা। অনেক দিন এমন হয়েছে যে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে জ্যামে আটকে পড়েছি। বাধ্য হয়ে বাসে বসেই এক বোতল পানি বা একটা খেজুর দিয়ে ইফতার করতে হয়েছে। বাসায় ফিরে যখন শরীর আর চলে না, তখন একটু জিরিয়ে নেওয়ারও সময় নেই। এ ছাড়া খবর সংগ্রহের কারণে অনেকসময়ই পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রতিনিয়ত আমার এই কর্মমুখর জীবনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়।’
অন্যদিকে, ব্যাংকার স্নিগ্ধা জামানের সংসারের চিত্রটি অন্যরকম। বিকেলবেলা সেই ক্লান্তি আর যানজটের ঝক্কি পার করে তিনি যখন বাসায় ঢোকেন, তখন তাঁর প্রথম গন্তব্য হয় রান্নাঘর। স্নিগ্ধা বলেন, ‘পরিবারের জন্য পুষ্টিকর কিছু বানাতে সরাসরি রান্নাঘরে ঢুকতেই হয়। সবাই সাহায্য করলেও রান্নার কাজটি আমিই করি। অন্যদের ওপর ভরসা করতে পারি না। রোজার মাঝামাঝি সময়ে ইফতারের খাবারের পদে একঘেয়েমি চলে আসে, তাই মেন্যুতেও পরিবর্তন আনতে হয়। ইফতার শেষ করে একটু দম ফেলার আগেই আবার সেহরির চিন্তা মাথায় চাপে।’
সরকারি চাকরিজীবী নাহার সুলতানার গল্পটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। প্রতিদিন সকাল সকাল অফিসে পৌঁছানোর তাড়া থাকে তাঁর। সেহরি খেয়ে নামমাত্র ঘুমানোর পর সকালে উঠেই ছুটতে হয় অফিসের দিকে। ঘুমের ঘাটতি আর রাস্তার ঝক্কি পার করে সামলাতে হয় অফিসের ফাইল। তবে তাঁর রমজানের ব্যস্ততায় বাড়তি যোগ হয় বাজারসদাই করা। নাহার জানান, ‘অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে অনেক সময় বাজার করতে হয়। তবে আমার শাশুড়ি ইফতার তৈরির কাজ অনেকখানি করে রাখেন বলে ইফতারের সময় বেশি তাড়াহুড়ার মধ্যে পড়তে হয় না। তবে রাতের খাবার ও সেহরি তৈরির দায়িত্ব আমার কাঁধে থাকে।’
এদিকে রোজার সংখ্যা যত বাড়তে থাকে, ঈদ শপিং-এর বিষয়টিও ততো সামনে আসতে থাকে। এ বিষয়ে নাহার সুলতানা বলেন, ‘ঈদের বোনাস পাওয়ার আগে আমাদের ঈদ শপিং করার সুযোগ নেই। বোনাস পেলে তখন অফিস, রান্নাঘর আর সংসার সামলানোর পাশাপাশি ঈদে কাকে কী দিতে হবে, কার বাজেট কত এই হিসেবটাও মাথায় রাখতে হয়।’
ওয়াজিহা, স্নিগ্ধা বা নাহারের মতো অসংখ্য কর্মজীবী নারী রমজানে প্রতিদিন দ্বিগুণ দায়িত্ব নিয়ে ঘর আর বাহির; দুটোই সামলে চলেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের কথা হলো রোজার দিনগুলোতে একা হাতে অল্প কাজও অনেক বেশি ও ক্লান্তিকর মনে হয়। তাই এই সময়ে কর্মজীবী নারীদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

ঘড়িতে তখন ৪টা বাজে ২০ মিনিট। চারদিকে তখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার। অ্যালার্মের শব্দে ধড়মড় করে উঠে বসতে হয়। চোখে রাজ্যের ঘুম, কিন্তু ঘুমিয়ে থাকার কোনো উপায় নেই। তাড়াহুড়ো করে রান্নাঘরে গিয়ে পরিবারের সবার জন্য সেহরির আয়োজন করতে হবে। পরিবারের সবাইকে ডেকে তুলতে হবে। সেহরি শেষে ফজরের নামাজ পড়ে একটু চোখের পাতা এক করতে না করতেই আবার সকাল। শুরু হয় অফিস যাওয়ার তাড়া।
কর্মজীবী নারীদের জন্য ঘর আর বাহির সামলে নেওয়ার ব্যস্ততা সারাবছরই থাকে, তবে রোজার মাসে এই ব্যস্ততা যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। একদিকে অফিস আর যানজট, অন্যদিকে রান্নাঘর আর ইফতারের আয়োজন—এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় করতে করতেই একটা মাস চোখের পলকে কেটে যায় তাঁদের।
এ বিষয়ে কথা হয় সংবাদকর্মী ওয়াজিহার সঙ্গে। এই রোজায় নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রোজায় আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো যানজট আর সময়ের অনিশ্চয়তা। অনেক দিন এমন হয়েছে যে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে জ্যামে আটকে পড়েছি। বাধ্য হয়ে বাসে বসেই এক বোতল পানি বা একটা খেজুর দিয়ে ইফতার করতে হয়েছে। বাসায় ফিরে যখন শরীর আর চলে না, তখন একটু জিরিয়ে নেওয়ারও সময় নেই। এ ছাড়া খবর সংগ্রহের কারণে অনেকসময়ই পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রতিনিয়ত আমার এই কর্মমুখর জীবনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়।’
অন্যদিকে, ব্যাংকার স্নিগ্ধা জামানের সংসারের চিত্রটি অন্যরকম। বিকেলবেলা সেই ক্লান্তি আর যানজটের ঝক্কি পার করে তিনি যখন বাসায় ঢোকেন, তখন তাঁর প্রথম গন্তব্য হয় রান্নাঘর। স্নিগ্ধা বলেন, ‘পরিবারের জন্য পুষ্টিকর কিছু বানাতে সরাসরি রান্নাঘরে ঢুকতেই হয়। সবাই সাহায্য করলেও রান্নার কাজটি আমিই করি। অন্যদের ওপর ভরসা করতে পারি না। রোজার মাঝামাঝি সময়ে ইফতারের খাবারের পদে একঘেয়েমি চলে আসে, তাই মেন্যুতেও পরিবর্তন আনতে হয়। ইফতার শেষ করে একটু দম ফেলার আগেই আবার সেহরির চিন্তা মাথায় চাপে।’
সরকারি চাকরিজীবী নাহার সুলতানার গল্পটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। প্রতিদিন সকাল সকাল অফিসে পৌঁছানোর তাড়া থাকে তাঁর। সেহরি খেয়ে নামমাত্র ঘুমানোর পর সকালে উঠেই ছুটতে হয় অফিসের দিকে। ঘুমের ঘাটতি আর রাস্তার ঝক্কি পার করে সামলাতে হয় অফিসের ফাইল। তবে তাঁর রমজানের ব্যস্ততায় বাড়তি যোগ হয় বাজারসদাই করা। নাহার জানান, ‘অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে অনেক সময় বাজার করতে হয়। তবে আমার শাশুড়ি ইফতার তৈরির কাজ অনেকখানি করে রাখেন বলে ইফতারের সময় বেশি তাড়াহুড়ার মধ্যে পড়তে হয় না। তবে রাতের খাবার ও সেহরি তৈরির দায়িত্ব আমার কাঁধে থাকে।’
এদিকে রোজার সংখ্যা যত বাড়তে থাকে, ঈদ শপিং-এর বিষয়টিও ততো সামনে আসতে থাকে। এ বিষয়ে নাহার সুলতানা বলেন, ‘ঈদের বোনাস পাওয়ার আগে আমাদের ঈদ শপিং করার সুযোগ নেই। বোনাস পেলে তখন অফিস, রান্নাঘর আর সংসার সামলানোর পাশাপাশি ঈদে কাকে কী দিতে হবে, কার বাজেট কত এই হিসেবটাও মাথায় রাখতে হয়।’
ওয়াজিহা, স্নিগ্ধা বা নাহারের মতো অসংখ্য কর্মজীবী নারী রমজানে প্রতিদিন দ্বিগুণ দায়িত্ব নিয়ে ঘর আর বাহির; দুটোই সামলে চলেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের কথা হলো রোজার দিনগুলোতে একা হাতে অল্প কাজও অনেক বেশি ও ক্লান্তিকর মনে হয়। তাই এই সময়ে কর্মজীবী নারীদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

আজ সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। এ দিনে তাঁর অনুরাগীরা নানা কাজের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন। তিনি অসামান্য প্রতিভাবান একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবেই সবচেয়ে পরিচিত। স্বল্প যন্ত্রপাতি ও বাজেটে তিনি বানিয়েছেন অসাধারণ সব সিনেমা। রেখে গিয়েছেন হাতে করা নিখুঁত ইলাস্ট্রেশন। তবে গল্পকার সত্যজিৎ যেন অনেকটাই আলোচন
৮ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব বই দিবসে এই শিরোনামটি দেখে আপনি হয়তো চমকে উঠছেন। কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, সস্তা একটা ক্লিকবেইট, ফোকাস কমে যাওয়া আর অনন্ত কন্টেন্টের যুগে স্রেফ পাঠক ধরার ধান্দা। কেউ হয়তো ভ্রু কুঁচকে বা হেসে ভাবছেন, বই কীভাবে পড়তে হয় মানে? অক্ষরের পর অক্ষর গড়গড় করে পড়ে যাব। ব্যাস! বই পড়া আবার শিখতে হয় নাকি?
৯ ঘণ্টা আগে
কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের একটি কবিতার দুটি পংক্তি—‘খোদা আমাকে মানুষ বানালো, আমি হতে চেয়েছিলাম বই।’ হ্যাঁ একজন সংবেদনীল, সৃষ্টিপ্রবণ মানুষের কাছে বইয়ের অস্তিত্ব একটা মানব জনমের চেয়েও অধিক মূল্যবান।
১০ ঘণ্টা আগে
ক্লাস সিক্সে পড়ি, সে সময়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি গেলাম। বুকশেলফে রাখা বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখছি, চোখ পড়ল কালবেলা নামে এক উপন্যাসের ওপর। হাতে নিতেই প্রায় ছোঁ মেরে আমার আত্মীয় বইটি তুলে নিলেন। ‘এসব বড়দের বই, পড়লে মানে বুঝবে না এসবের’। এভাবেই আমাদের অনেকের ‘বড়দের বই’য়ের সঙ্গে পরিচয়।
১১ ঘণ্টা আগে