জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ অনুমোদন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

দুদক অফিস। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং অপর দুই কমিশনারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে তাদের এই পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১০-এর উপধারা (১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি নীতি শাখা থেকে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্রগুলো গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে পদত্যাগকারী তিনজনের অনুকূলে এক মাসের ছুটিকালীন বেতন মঞ্জুর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ স্ট্রিমকে জানান, মঙ্গলবার বেলা দুপুরের দিকে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দিন বিকেলেই সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বিদায়ী দুই কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ড. আবদুল মোমেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা তিনজন, এই কমিশনের তিন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ানোর আইনি ও কাঠামোগত কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পদত্যাগের বিশেষ কোনো কারণ নেই। একটি নতুন সরকার এসেছে, সেই সরকারেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার তার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয় আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন গঠন করবে।’

এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে কোনো রাজনৈতিক বার্তা যাচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আবদুল মোমেন জানান, নতুন সরকারের নিজস্ব ম্যানিফেস্টো ও প্রত্যাশা রয়েছে এবং তারা তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কাজ করবে; এর মধ্যে তিনি ভিন্ন কিছু দেখছেন না।

দুদকের কার্যকারিতা এবং নিজেদের সংক্ষিপ্ত দায়িত্বকাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে সময়টুকু সাধ্যমতো দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমাদের কাজের বিচার আপনারাই করবেন। আমাদের এতদিন নখ-দাঁত ছিল কি ছিল না, সে বিচার করার মালিক আপনারা।’

পদত্যাগকারী দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন এর আগে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন। ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুগ্ম সচিব পদে থাকা অবস্থায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব করে। পরবর্তী সময়ে তিনি জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদাও লাভ করেন।

এরপর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া অপর দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ যথাক্রমে ১১ ও ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দুদকে যোগ দিয়েছিলেন। ১৫ মাসেরও কম সময় দায়িত্ব পালনের পর এই কমিশন একযোগে পদত্যাগ করল।

সম্পর্কিত