leadT1ad

চাঁদাবাজি বন্ধ ছাড়া শ্রমনীতি কাজে আসবে না: বক্তারা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

শ্রমিক ইশতেহারের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার ১৫ দাবি (শ্রমিক ইশতেহার) অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ন্যাশনাল কনভেনশন অন লেবার মেনিফেস্টো’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, ক্ষমতাসীনদের কাছে শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষিত থাকে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ করা জরুরি। এটি ছাড়া শ্রমনীতি কোনো কাজে আসবে না। শ্রমিক ইশতেহার শুধু প্রচার নয়, বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যে দল ক্ষমতায় যাবে, তারা বাস্তবায়ন করবে। বাকি দলগুলো ক্ষমতাসীনদের চাপে রেখে আদায় করে নেবে।

সভায় শ্রমিক ইশতেহারের বিষয়বস্তু তুলে ধরে অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের বাঁচাতে হলে, তাদের বাস্তবভিত্তিক মর্যাদাপূর্ণ জীবন দিতে হলে, আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকতে হবে। আবার বিরোধী দলে যারা থাকবে, তাদেরও এটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সুলতান উদ্দিন আহমেদ শ্রমিক ইশতেহারের ১৫ দাবি তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য দাবি হলো– আইন সংশোধনের মাধ্যমে সব শ্রমিকের (প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক) আইনি স্বীকৃতি, নিবন্ধন ও সুরক্ষা নিশ্চিত, শোভন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার নিশ্চিত, স্থায়ী কাজে আউটসোর্সিং বা অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর, নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী শ্রমিকের জন্য সমান মজুরি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক, মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ৬ মাসে উন্নীত, শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা ইত্যাদি।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিক ইশতেহার সংবিধান ও প্রচলিত আইনের বাইরে নয়। যারা জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের মনে রাখতে হবে শ্রমজীবী মানুষই রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি। এই ১৫ দফা বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, শ্রমিকদের দাবির সঠিক বাস্তবায়নে প্রয়োজন সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা। একইসঙ্গে সরকারে যারা থাকবে, তাদের বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।

সভায় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে শ্রমিক ইশতেহারের ভবিষ্যৎ। বিগত ৫৪ বছরে শ্রমিকের অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা হয়নি জানিয়ে তিনি শোষণমুক্ত এবং সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ‘কার্ডের রাজনীতি’ না করে কাজের রাজনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যেতে শ্রমিকদের ব্যবহার করলেও তাদের অধিকার নিশ্চিতে কেউ কাজ করে না। শুধু পরিকল্পনা নয়, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় পলিসি তৈরি করে প্রায়োগিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, যে দেশে দুর্নীতি থাকে, সেই দেশে কখনো শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় না। শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত, মালিক ও শ্রমিকের সুসম্পর্ক থাকলে দেশে উৎপাদন বাড়বে। শ্রমনীতি থাকলেও দেশে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ না হলে সেই নীতি কোনো কাজে আসবে না।

শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রম সংস্কারের যে রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে, আগামীতে নির্বাচিত সরকার তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন। এক্ষেত্রে আইএলও পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় বক্তৃতা করেন ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফিলিপ বার্নিয়ার আর্কান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ ডেলিগেশনের ট্রেড অ্যাডভাইজার আবু সাঈদ বেলাল, আইটিইউসি এশিয়া-প্যাসিফিকের ওয়ার্কার্স রাইটস ডিরেক্টর এস এম ফাহিমুদ্দিন পাশা (ভার্চুয়ালি), ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়নের (ডব্লিইএফটিইউ) ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি সি শ্রীকুমার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহিল ক্বাফি রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) সদস্য রাশেদ শাহরিয়ার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত