ছাত্রী হলে ডিজিটাল গেট স্থাপনসহ ৬ দাবি ডাকসুর

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ২১: ৩৭
নিরাপত্তা, প্রবেশব্যবস্থা ও সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে উপাচার্যের কাছে ছয় দাবি জানিয়েছে ডাকসু। সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলের নিরাপত্তার মান উন্নয়নে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এ এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপাচার্যের কার্যালয়ে বৈঠকে নারী শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এই দাবিগুলো তুলে ধরে।

ডাকসুর প্রথম দাবি, শিক্ষার্থীদের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনা করে হল গেট ও লেট গেটের সময়সীমা সংস্কার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ড প্রদর্শন করে অনাবাসিক ও অন্যান্য হলের ছাত্রীদের প্রয়োজনে হলে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। তৃতীয়ত, নারী অভিভাবকদের পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য হলে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। চতুর্থত, অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে হবে। পঞ্চমত, হল প্রশাসন ও কর্মীদের আচরণ আরও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে হবে এবং ষষ্ঠত, হলের গেটে ডাকসুর প্রস্তাবিত আধুনিক সিকিউরিটি গেট স্থাপন করতে হবে।

এই বিষয়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কাজ করছে ডাকসু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এবং স্পন্সরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বাজেটও নিশ্চিত করেছিলাম। কিন্তু গত দশ মাসে প্রশাসনের অসহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।’

সাদিক কায়েম আরও জানান, সোমবার উপাচার্য তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিনি বিশেষ কমিটি গঠন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।

২৪ ঘণ্টা গেট খোলা রাখার দাবি ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ প্ল্যাটফর্মের

অন্যদিকে, ছাত্রী হলের প্রচলিত ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা গেট খোলাসহ তিন দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নবগঠিত ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ প্ল্যাটফর্ম। সোমবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে প্ল্যাটফর্মটির প্রতিনিধিরা এই স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান সময়ে শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা বা জরুরি ব্যক্তিগত কারণে ছাত্রীদের যেকোনো সময় হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই কেবল সময়সীমা বাড়ানো নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক ও নিরাপদ ২৪ ঘণ্টার প্রবেশ ব্যবস্থা চালু করা সময়ের দাবি।

বৈষম্যহীন ছাত্রী হলের তিন দাবি হলো—ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিল করে গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা। আইডি কার্ড প্রদর্শনে ছাত্রীদের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ ও অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা। নারী অভিভাবকদের হলের কক্ষ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া।

উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নবগঠিত ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ প্ল্যাটফর্ম। সংগৃহীত ছবি
উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নবগঠিত ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ প্ল্যাটফর্ম। সংগৃহীত ছবি

প্ল্যাটফর্মটির প্রতিনিধিরা জানান, ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন প্রতিনিধি এবং ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের সমন্বয়ে গত রোববার রাতে এই ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ গঠিত হয়।

কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি জানান, দাবির পক্ষে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জনমত সংগ্রহের কর্মসূচি থাকলেও তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে উপাচার্য তাঁদের দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং হলগুলোর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সাথে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আক্তার তন্বী, ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা এবং ছাত্রদল নেত্রী চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত