সামনে বড় খরচ, কিন্তু হাতে টাকা নেই? সঞ্চয় করুন এই কৌশলে
স্ট্রিম ডেস্ক

মাসের শেষদিকে হুট করে বাসার ফ্রিজটা নষ্ট হয়ে গেল। ঠিক করতে হাজার পাঁচেক টাকা লাগবে। এদিকে হাতে যা আছে, তা দিয়ে মাসের বাকি দিনগুলো চালাতেই কষ্ট হবে। বাধ্য হয়ে কারও কাছ থেকে ধার নিতে হলো।
আবার ধরুন, কয়েক মাস পর ঈদ। নতুন জামাকাপড়, বাড়িতে যাওয়া, কেনাকাটা সব মিলিয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। কিন্তু ঈদের আগের মাসে গিয়ে এত টাকা একসঙ্গে বের করা কঠিন।
কিন্তু এই খরচগুলোর বেশিরভাগই তো একেবারে হঠাৎ আসে না। ফ্রিজ ঠিক করাতে হবে, গাড়ির সার্ভিসিং লাগবে, ঈদ আসবে, এসব আগে থেকেই মোটামুটি জানা থাকে। তাহলে খরচের সময় আসার আগেই যদি একটু একটু করে টাকা জমিয়ে রাখা যায়? টাকা জমানোর এই পদ্ধতিকেই বলা হয় ‘সিংকিং ফান্ড’।
সিংকিং ফান্ড কী, কীভাবে করবেন
সামনে বড় কোনো খরচ আসতে পারে বা আসবে; এমন খরচের জন্য আগে থেকে আলাদা করে টাকা জমিয়ে রাখাই হলো সিংকিং ফান্ড। একসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জোগাড় না করে ৪ মাসে ৫ হাজার টাকা করে জমালে কাজটা সহজ হয়ে যায়।
সিংকিং ফান্ডের জন্য টাকা জমানোর আগে প্রথম কাজ হলো সামনে কী কী বড় খরচ আছে, তার একটা তালিকা করা।
ধরুন, আপনার বছরে কয়েকটি নির্দিষ্ট খরচ হয়। ঈদের কেনাকাটা বাবদ ২৪ হাজার টাকা, সন্তানের স্কুলের খরচে ১২ হাজার টাকা আর চিকিতসা ব্যয় হিসেবে ১২ হাজার টাকা লাগে। এসব খরচ মিলিয়ে বছরে দরকার ৪৮ হাজার টাকা। এখন যদি ১২ মাস আগে থেকে টাকা রাখা শুরু করেন, তাহলে মাসে ৪ হাজার টাকা করে রাখলেই বছর শেষে ৪৮ হাজার টাকা হয়ে যাবে। আবার কারও হয়তো ছয় মাস পর বাসার রং করতে ৩০ হাজার টাকা লাগবে। তাহলে ৩০ হাজারকে ছয় মাসে ভাগ করলে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে রাখতে হবে।
সব খরচের জন্য একইভাবে টাকা জমাতে হবে, এমনও নয়। যে খরচগুলো সামনে আসবে এবং একসঙ্গে অনেক টাকা লাগবে, সেগুলো আগে তালিকায় রাখুন। এটি হতে পারে সন্তানের স্কুলের ভর্তি বা পরীক্ষার খরচ, বাসা রং করা, শীতের কাপড় কেনা কিংবা সবাইকে নিয়ে দূরে কোনো ভ্রমণ।
সিংকিং ফান্ডের কথা বলতে গিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে এটি কি জরুরি তহবিলের মতোই? আসলে দুটির উদ্দেশ্য আলাদা।
জরুরি তহবিল রাখা হয় হঠাৎ প্রয়োজন পড়ে যেতে পারে এমন খরচের জন্য। যেমন হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়া, অপ্রত্যাশিত বড় চিকিৎসা খরচ বা কোনো কারণে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া। অন্যদিকে সিংকিং ফান্ড হলো এমন খরচের জন্য, যেটা ভবিষ্যতে সামনে আসবে বলে মোটামুটি জানা আছে।
অর্থাৎ জরুরি তহবিল জমা রাখা হয় ‘যদি কিছু ঘটে’ তার জন্য, আর সিংকিং ফান্ড হলো ‘যা ঘটবেই’ তার জন্য।
টাকা রাখবেন কোথায়, আর কীভাবে অভ্যাস করবেন
সিংকিং ফান্ডের টাকা আলাদা রাখাই ভালো। কারণ একই অ্যাকাউন্টে বেতন, বাজারের টাকা আর ভবিষ্যতের খরচের টাকা থাকলে কোন টাকা কোন কাজে রাখছেন, সেটি গুলিয়ে যেতে পারে। ধরুন, প্রতি মাসে ঈদের জন্য ২ হাজার টাকা করে রাখবেন। বেতন পাওয়ার পরই ওই ২ হাজার টাকা আলাদা করে রাখলেন। এরপর মাসের অন্যান্য খরচ চালালেন বাকি টাকা দিয়ে। এভাবে ১০ মাসে ২০ হাজার টাকা হয়ে যাবে।
সিংকিং ফান্ডের জন্য আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা যেতে পারে। চাইলে এমন কোথাও টাকা জমা রাখতে পারেন, যেখান থেকে প্রতিদিনের খরচের জন্য সহজে টাকা বের করার অভ্যাস হবে না। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত টাকা রাখা।
অনেকে ভাবেন, মাস শেষে যা থাকবে, তা সঞ্চয় করবেন। কিন্তু বাস্তবে মাস শেষে অনেক সময় হাতে কিছুই থাকে না। তাই টাকা হাতে পাওয়ার পরই সঞ্চয়ের টাকা আলাদা করে রাখা সহজ। অর্থাৎ কারো মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা হলে কেউ যদি ঠিক করেন ২ হাজার টাকা সিংকিং ফান্ডে রাখবেন, তাহলে বেতন পাওয়ার দিনই সেই টাকা সরিয়ে রাখতে পারেন। এরপর বাকি ২৮ হাজার টাকা দিয়ে মাসের বাজেট করবেন।
তবে যে খাতের জন্য টাকা রেখেছেন, সম্ভব হলে সেই টাকা অন্য কাজে খরচ না করাই ভালো। ঈদের জন্য রাখা টাকা দিয়ে মাসের মাঝখানে নতুন মোবাইল কিনে ফেললে শেষ পর্যন্ত আবার ঈদের আগে টাকা জোগাড়ের চাপ তৈরি হবে।
কম আয় হলে কি সিংকিং ফান্ড করা যায়?
হয়তো ভাবছেন, সিংকিং ফান্ডে টাকা জমাতে হলে মাসে অনেক টাকা আয় করতে হয়। আসলে তা নয়। ধরুন, কারও মাসে আয় ২০ হাজার টাকা। তাঁর পক্ষে হয়তো মাসে ৫ হাজার টাকা আলাদা করা সম্ভব নয়। কিন্তু ৫০০ বা ১ হাজার টাকা হয়তো রাখা সম্ভব। মাসে ১ হাজার টাকা করে রাখলে ছয় মাসে হবে ৬ হাজার টাকা। আর এক বছরে হবে ১২ হাজার টাকা। কোনো প্রয়োজনের সময় এই টাকাই তখন কাজে আসবে।
তাই সিংকিং ফান্ডের ক্ষেত্রে আসল বিষয় হলো কত বড় অঙ্কের টাকা জমাচ্ছেন, সেটি নয়। নিজের আয় অনুযায়ী কতটা নিয়মিত রাখতে পারছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে অল্প দিয়ে শুরু করাই ভালো। আয় বাড়লে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়ানো যায়।
সিংকিং ফান্ড থাকলে কোনো বড় খরচ সামনে এলেও দৈনন্দিন খরচের হিসাবে প্রভাব কম পড়ে। কারণ এই চাপ সামলে নেওয়ার প্রস্তুতি আপনি আগে থেকেই নিচ্ছিলেন।
.png)
-b52d51.jpeg)
-028855-256x144.webp)










