নভেম্বরে ইউপি নির্বাচন শুরু, নতুন সুপারিশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ২২
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের (ইউপি) ভোট আগামী নভেম্বরে করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর পরের বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ইউপিতে নির্বাচন শেষ করার চিন্তা তাদের। এই সময় ধরেই প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনে ইসির নতুন সুপারিশ এই সময়ে পাস হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনেই এই নির্বাচন হতে পারে।

ইউপি নির্বাচন শুরুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার আব্দুর রহমানেল মাসউদ স্ট্রিমকে জানান, নভেম্বর ধরেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ওই মাসে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বার্ষিক ও টেস্ট পরীক্ষা রয়েছে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে মূলত বিদ্যালয় এবং শিক্ষকরা পোলিং এজেন্টের দায়িত্বে থাকায় পরীক্ষার সময়ে ভোট করা সম্ভব নয়। এ কারণে ইসি পরীক্ষার আগে কিংবা পরে ভোটের তারিখ দিতে পরে। সেক্ষেত্রে নভেম্বরেই কিছু ইউপিতে ভোট হবে।

আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে প্রায় সব ইউনিয়নে নির্বাচন হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, নভেম্বরে শুরুর কথা বললেও প্রথম ধাপে কতগুলো ইউপিতে নির্বাচন হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘এগুলো আমরা এখনো ঠিক করিনি। তবে যে ইউনিয়ন পরিষদে আগে নির্বাচন হয়েছে সেগুলোতে হওয়ার কথা রয়েছে। কারণ, এগুলোর মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।’

ইসির সূত্র বলছে, আগামী সপ্তাহের রোববার কিংবা সোমবার কমিশন বৈঠক হবে। কোন কোন ইউপিতে আগে নির্বাচন হবে, ওই বৈঠকেই তা ঠিক করা হবে। সেখানে ২০২১ সালে প্রথম ধাপে ভোট হওয়া ৩৬৪ ইউপি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এবার উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন হবে বলেও জানান কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ।

বিদ্যমান আইনেই হতে পারে নির্বাচন

গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের বেশ কিছু সুপারিশ চূড়ান্ত করে ইসি। এর মধ্যে ছিল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত এবং ঋণ ও বিলখেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণা করা।

এ ছাড়া স্বপদে থাকা প্রশাসক, দ্বৈত নাগরিক ও আইসিটি মামলায় চার্জশিটভুক্তদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং স্থানীয় সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সুপারিশও চূড়ান্ত হয়।

সুপারিশগুলো এরই মধ্যে ভেটিংয়ের (যাচাই-বাছাই) জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। তবে তা এখনও ইসিতে ফেরত না আসায় বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন হতে পারে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আইন পার্লামেন্টে পাস হয়নি। আলোচনা হয়েছে বলেও জানি না। এখন প্রস্তাবিত কিংবা প্রক্রিয়াধীন আইন দিয়ে নির্বাচন হবে না। বিদ্যমান আইনেই করতে হবে।’

এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিলে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে নতুন আইন না এলে বিদ্যমানটিতেই নির্বাচন হবে। আমরা সুপারিশ করেছি। এখন এটা সরকারের বিবেচনা। যদি এর মধ্যে সরকার করে দেয়, তবে নতুন আইনে হবে, না হলে বিদ্যমান আইনে হবে।’

জামায়াতের দুই দাবি না টেকার সম্ভাবনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন নিয়ে ইসির প্রস্তাবের পর দুবার সিইসিসহ অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। প্রতিবারই তারা ৯টি দাবি ইসির কাছে তুলে ধরে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসকরা পদত্যাগ করলেও তাদের নির্বাচনে অযোগ্য রাখা, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্যতার প্রস্তাব বাতিল করা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের অযোগ্য ঘোষণা করা।

বিদ্যমান আইনে নির্বাচন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্যতার প্রস্তাব সাধারণভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, বর্তমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে কোনো বাধা নেই।

সেক্ষেত্রে দলটির বাকি দুই মূল দাবিও টিকবে না। আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘প্রশাসকদের বিষয়ে বর্তমান আইনে বলা আছে, সরকারি কোনো দপ্তরের লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তি তফসিল ঘোষণার পর যদি ওই পদে না থাকেন বা পদত্যাগ করেন, তবে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। এখানে জাতীয় নির্বাচনের মতো দুই বছর সময়ের উল্লেখ নেই।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কোনো দলীয় প্রার্থী রেখে নির্বাচন করছি না। কাজেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যে যোগ্যতা আছে, সে যোগ্যতাতে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন।’

৯৮ হাজার কেন্দ্রে ভোট

স্থানীয় সরকারের চারটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৭ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য চূড়ান্ত করা কেন্দ্রের সংখ্যা ৯৮ হাজার ১৯৬টি।

এ বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কেন্দ্র স্থাপন করেছি। অতীতে কোনো কোনো ইউনিয়নে দুই বা তিনটি ভোটকেন্দ্র থাকলেও এবার প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য আলাদা কেন্দ্র থাকবে।’

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্র ৪৬ হাজার ৩৯৭টি। এতে ২ লাখ ২ হাজার ১৫৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে ১৩ হাজার ৫৮০টি।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫ হাজার ১৫১টি। এতে স্থায়ী ২৩ হাজার ১০৭টি এবং ১ হাজার ৯৫৮টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে। উপজেলা পরিষদের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬ কেন্দ্রে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮২২টি স্থায়ী এবং ১৩ হাজার ৪৮৩টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ থাকবে। আর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থাকবে ৫ হাজার ২০২টি, যেখানে ২৪ হাজার ৭৬৯টি স্থায়ী এবং ১ হাজার ১৯৭টি অস্থায়ী কক্ষ থাকবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত