leadT1ad

ব্যাংক ঋণের সুদহার এখনই কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৩৩
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার দ্রুত কমানোর বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই মুহূর্তে চট করে ব্যাংকের সুদের হার কমানো সম্ভব নয়।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাকে’র ৭ম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরে সুদের হার, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মধ্যে জটিল আন্তসম্পর্ক রয়েছে। হঠাৎ করে কোনো একটি জায়গায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন করলে অন্য জায়গায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা পুরো ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘একদিকে সুদের হার চাপ দিয়ে নামাতে গেলে অন্যদিকে তা ‘বেলুন চেপে ধরার’ মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তে হঠাৎ সরাসরি ধাক্কা দিলে তা বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।’

একসময় ব্যাংক ঋণের সুদের হার যেখানে ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমানে তা বাজারভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে বেড়ে ১৪-১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সুদহার বাড়ানোর ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেসরকারি বিনিয়োগে। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনোয়োগ আরও কমেছে। তবে সুদ যে একেবারে কমে নাই তা না। অর্থ উপদেষ্টা জানান, ট্রেজারি বিলের সুদের হার সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশের কাছাকাছি এসেছে, যা বাজারে আংশিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে যে অস্থির ব্যাংকিং খাত পেয়েছিল, তা এখন মোটামুটি স্থিতিশীল হয়ে এসেছে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি এখন একটি ‘সহনীয় স্থিতিশীল’ পর্যায়ে এসেছে, যা আগামী সরকারকে ধরে রাখতে হবে।’

‘শুধু আর্থিক নীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়’

এদিকে সুদহার বাড়ানোর পরও মূল্যস্ফীতি থামেনি। সুদহার বাড়ানোর ফলে শুরুতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও গত দুই মাসে আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এই প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এর বড় একটি অংশ বাজারে পণ্য সরবরাহ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি তো শুধু ব্যাংকের আর্থিক নীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, বাজারে পণ্য সরবরাহ দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এর সঙ্গে রাজনীতিও জড়িত। আমি সেজন্য সব সময় বলি, মূল্যস্ফীতি রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের জরিমানা আরোপের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব জরিমানা ব্যবসায়ীরা সমষ্টিগতভাবে পরিশোধ করে আবার আগের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যান। প্রকৃত সমাধানের জন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয়, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউনশনস ডিভিশনের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এবং ব্যাংকিং অ্যালমানাকের বোর্ড অব এডিটরস-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় শিক্ষাবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা শিক্ষাবিচিত্রার উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ গবেষণা গ্রন্থটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। এতে প্রতিবছর বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী, সেবা ও কর্মদক্ষতা সূচকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত